kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আরেকটি সুযোগ চান কাবরেরা

হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে আট ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ দল। ড্র দুটি এবং হার পাঁচটিতে। এমন পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠেছে কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে। অবশ্য বাংলাদেশে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদী স্প্যানিশ এই কোচ। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, বাংলাদেশের ফুটবলের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রানা শেখের সঙ্গে কথা বলেছেন হাভিয়ের কাবরেরা।

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০২:৫৯ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আরেকটি সুযোগ চান কাবরেরা

প্রশ্ন : আপনার অধীনে আট ম্যাচে মাত্র একটি জয়, দুটি ড্র। এটাকে সাফল্য, নাকি ব্যর্থতা বলবেন?

কাবরেরা : ফলাফল দিয়ে সব কিছু মূল্যায়ন করা যায় না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, নিজেকে তুলে ধরতে অবশ্যই ভালো ফলাফল, কিছু পারফরম্যান্স থাকতে হবে। একই সঙ্গে আপনাকে আরো অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে জাতীয় দল কী করেছে, কেমন ছিল, তা জানতে হবে। আমার সময়ে উন্নতির চেষ্টা করেছি। যদিও সেটা ম্যাচের ফলাফল বা খেলায় খুব বেশি দেখা যায়নি। কিন্তু যখন আমি বাংলাদেশে আসি, তখন আমার ধারণা একদম পরিষ্কার ছিল। আমি বলেছিলাম, প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন করব। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আর নেপালের বিপক্ষে ২০ মিনিট খুব খারাপ খেলেছি। আমরা ওই সময়ে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম।

প্রশ্ন : নেপাল ম্যাচে ফুটবলাররা মনোযোগ কেন হারিয়ে ফেলল?

কাবরেরা : নেপালের বিপক্ষে আমরা শুরুটা ভালো করেছিলাম। প্রথম গোল হওয়ার আগেও মনে হচ্ছিল দুই দলের জন্য কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে। জামালের একটি শট ক্রসবারে লাগল, এই গোলটা হলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। কিন্তু আমরা দুটি গোল খেলাম সেট পিস থেকে। রক্ষণভাগ মোটেও সুসংগঠিত ছিল না, তাদের আরো দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। আসলে মাঝে মাঝে খেলোয়াড়রা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। এটা ঘটেই থাকে।

প্রশ্ন : খেলোয়াড়রা কি আপনার দেওয়া নির্দেশনা বুঝতে পারেননি?

কাবরেরা : না না, এ রকম কিছু হয়নি। শুরু থেকেই ওদের আমি যা বুঝিয়েছি, বুঝেছে। মাঠেও করে দেখিয়েছে। আমার ধারণাগুলো বাস্তবায়নের জন্য খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। অবশ্য উন্নতির জন্য সময় দরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ দল উন্নতির পথে আছে।

প্রশ্ন : আগে দল নির্বাচনে ম্যানেজমেন্টের হস্তক্ষেপের কথা শোনা যেত। আপনি কেমন দেখেছেন?

কাবরেরা : শুরুতেই আমার পলের (পল থমাস স্মলি, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) সঙ্গে কথা হয়। টেকনিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে একদম পরিষ্কার ধারণা নিয়ে দল নির্বাচন করেছি। এখন পর্যন্ত যে কয়বার দল নির্বাচন করেছি, তার সবগুলোই আমার সিদ্ধান্তে হয়েছে। বাইরে থেকে কেউ কোনো রকম হস্তক্ষেপ করেনি।

 প্রশ্ন : যে লক্ষ্য নিয়ে আপনি বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার কতটুকু পূরণ করতে পারলেন?

কাবরেরা : আমার জন্য কঠিন প্রশ্ন। দেখুন, এখানে এসে প্রথমে আমি বাংলাদেশের সাম্প্র্রতিক ম্যাচগুলো পর্যবেক্ষণ করি। স্কোয়াডে যারা ছিল তাদের ভিডিও দেখে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে, এই দলকে আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তৈরি করতে হবে। আমি মনে করি, আমার অধীনে কিছু ম্যাচে সেটা (প্রতিদ্বন্দ্বিতা) করতে পেরেছি, আবার কিছু ম্যাচে পারিনি। অবশ্যই আমিও আরো ভালো ফলাফল আশা করেছিলাম।

প্রশ্ন : ডিসেম্বরে আপনার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আপনি কি চান বাংলাদেশে আরো কাজ করতে?

কাবরেরা : আমি এখানে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদী। আমি মনে করি, চুক্তি নবায়ন হলে সবার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে পল স্মলি ও কাজী সালাউদ্দিন যা চায়, আমিও সেটাই চাই। আমাদের লক্ষ্য এক জায়গায় মিলে যায়। আশা করি, সামনে আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারব। বাংলাদেশের ফুটবল উন্নতি করছে। ছেলেদের বয়সভিত্তিক দল ভালো করছে। মেয়েরা তো দুর্দান্ত করছে। আমি এসবের অংশ হতে চাই। আমরা সবাই মিলে জাতীয় দলের পুরো কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারব।  

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা আদৌ কি সম্ভব?

কাবরেরা: কেনো সম্ভব নয়? আমরা সবাই চাইলেই সম্ভব। আমাদের সবার লক্ষ্য যদি এক থাকে তবে সবকিছুই সম্ভব। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই এটা সময়সাপেক্ষ। রাতারাতি একটি দেশের ফুটবল পরিবর্তন হয় না। অবশ্যই আমাদেরকে ইতিবাচকতা নিয়ে এগোতে হবে।

প্রশ্ন: ৮ ম্যাচে মাত্র একটি জয় এনে দিয়েছে ফুটবলাররা। এরপরেও ফুটবলারদের নিয়ে কোনো অভিযোগ দেননি। কেনো?

কাবরেরা: দেখুন, আমার কাজ হচ্ছে ফুটবলারদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া, ওদের শেখানো। ওদের নিয়ে সমালোচনা করা নয়। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে কখনো সমালোচনা করতে পছন্দ করি না। জাতীয় দলের ২৩ জন এবং এর বাইরে আমাদের তালিকায় যেসব ফুটবলার রয়েছে তাদের নিয়ে আমি খুবই খুশি। তারা ভাল করার ইচ্ছা দেখিয়েছে। প্রথম ম্যাচ থেকে অষ্টম ম্যাচ পর্যন্ত আমি খেলোয়াড়দের মধ্যে উন্নতির আগ্রহ দেখেছি।

প্রশ্ন : আপনি যদি আরেকবার সুযোগ পান, তখন লক্ষ্য কী থাকবে?

কাবরেরা : লক্ষ্য একটাই, উন্নতি করতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করতে হবে। জাতীয় দলের বাইরে যত প্রতিভাবান ফুটবলার থাকবে, তত ভালো করার সুযোগ থাকবে। সেটা নিয়েই কাজ করব।

প্রশ্ন: মেয়েরা সাফে সাফল্য পেল। কিন্তু ছেলেরা  একের পর এক টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হচ্ছে।

কাবরেরা: আমি অনেক খুশি, গর্বিত ও রোমাঞ্চিত মেয়েদের এই সাফল্যে। এটা বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য 'ফ্যান্টাস্টিক' খবর। কিন্তু আমি মনে করি, এটা পুরুষ দলের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। গত সাফে ছেলেরা ভাল করেছে। শেষ ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ড্র করায় ফাইনাল খেলতে পারেনি। পরের সাফ নিয়ে আমাদের ইতিবাচক হতে হবে। আমাদের কাজ করতে হবে এবং লক্ষ্য ঠিক রেখে এগোতে হবে।

প্রশ্ন: এবার কাতার বিশ্বকাপে ফেরা যাক। আপনি যেহেতু স্প্যানিশ। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন দল নিয়ে কেমন প্রত্যাশা করছেন?

কাবরেরা: স্পেন দল নিয়ে আমি আশাবাদী। লুইস এনরিকের অধীনে ভালোই করবে। সে দুর্দান্ত কোচ। সম্ভত বিশ্বের সেরা তিনজন কোচের একজন সে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন দল নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক। শুভকামনা রইলো স্পেনের জন্য।

প্রশ্ন: আগামী বছর মার্চের আগে আর কোনো ফিফা উইন্ডো নেই। এই সময়ে আপনার পরিকল্পনা কি?

কাবরেরা: প্রথমে কাজ হচ্ছে গত ৮ ম্যাচে আমরা কি করলাম সেটা পর্যালোচনা করা। আমরা শুরুর দিকে কেমন ছিলাম এবং এই মুহুর্তে কোন অবস্থায় আছি সেসব নিয়েই কাজ করব। নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়রা ক্লাবে কেমন করছে সেটা দেখতে হবে। এছাড়া ম্যানেজমেন্ট, টেকনিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে কিছু মিটিং করতে হবে। সভাপতির সাথে আলোচনা করতে হবে, কীভাবে আমরা আরো উন্নতি করতে পারি সেটা নিয়ে কথা বলতে হবে। যেহেতু লিগ শুরু হচ্ছে, খেলোয়াড়রা সব ক্লাবের অধীনে থাকবে। ক্লাবগুলোর অনুমতি নিয়ে আমরা ক্লাবে ক্লাবে গিয়ে ফুটবলারদের অনুশীলন দেখব। কি অবস্থায় আছে তারা সেটা জানব।

প্রশ্ন : প্রায় ১০ মাস এখানে আছেন। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

কাবরেরা : বাংলাদেশের ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা নারী দলের কথাই বলতে পারি। এ ছাড়া অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ দলের দিকে তাকালে দেখবেন তারা ভালো করছে। ভবিষ্যতের জন্য ভালো কাঠামো তৈরি করছে বাফুফে। নতুন মৌসুমের পরিকল্পনা এবার অনেক সাহায্য করবে। আরো আকর্ষণীয় ফরম্যাট করা হয়েছে। ঘরোয়া ফুটবল প্রতিদ্বনিন্দ্বতামূলক হচ্ছে। স্থানীয় খেলোয়াড়রা অনেক ভালো করছে। ভালো মানের বিদেশি আসছে, তারা মান বাড়াচ্ছে। আমি বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছি।



সাতদিনের সেরা