kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজ শ্রীলঙ্কার সামনে ভারত

দুঃসময়ে মানুষ চিনেছেন কোহলিও

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৪:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুঃসময়ে মানুষ চিনেছেন কোহলিও

অনুশীলনে কোহলি। ছবি : এএফপি

সত্যিই কি কেউ তাঁর ভালো চায়? নিজেকেই নিজে ক্রমাগত এমন প্রশ্ন করে গেছেন বিরাট কোহলি। উত্তর খুঁজতে গিয়ে দু-একজন ছাড়া পাননি আর কাউকেই।

জীবনে দুঃসময় না এলে যে সেটি কিছুতেই জানা হতো না ভারতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের। আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ কাঁধে নিয়ে ব্যাটিং করার অভ্যস্ততায় এই বোধই তো তাঁর মধ্যে জন্ম নিতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

খ্যাতির ঝলমলে আলোয় প্রতিনিয়ত আলোকিত হয়ে থেকেছেন। তাঁকে নিয়ে গোটা পৃথিবীর হৈহৈ-রৈরৈয়ের মধ্যে কখনো মাথায়ও আসেনি যে বড্ড বাজে সময়ের অন্ধকারও জীবনে আসবে।

তাতে ডুবে যেতে যেতে এবং বিলীন হতে হতে নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে তেমন কাউকেই পাশে পাননি কোহলি। একা একা ছন্দ খুঁজে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তবু যখন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, তখন ক্রিকেটের সঙ্গেও সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেন মাসখানেকের জন্য। গত ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যাট না ছুঁয়েই পার করে দেন জীবনের একটি মাস। ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার এই সময়টি তাঁকে কতটা ঝরঝরে করে তুলেছে, এর সগৌরব ঘোষণা তো এবারের এশিয়া কাপে তাঁর পারফরম্যান্সই দিয়ে দিচ্ছে।

আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে স্বরূপে ফেরার বার্তা দিয়েছিলেন। হংকংয়ের বিপক্ষে ৪৪ বলে ৫৯ রানের হার না মানা ইনিংসে দলকে পার করে নেন ১৯০। পাকিস্তানের সঙ্গে সুপার ফোরের লড়াইয়েও শেষ ওভারে রান আউট হওয়ার আগে ৪৪ বলে খেলেন ৬০ রানের ইনিংস। যদিও দিনের শেষে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের ভাগ্য নির্মাতা হিসেবে পাকিস্তানের মোহাম্মদ নওয়াজকেই চিহ্নিত করেছেন কোহলি, ‘ওকে ওপরে তুলে যে জুয়াটা খেলেছিল পাকিস্তান, সেটি কাজে লেগে গেছে। দ্রুত ৪২ রান (২০ বলে) করে সে ম্যাচটি বের করে নিয়ে গেছে। সে ১০-১৫ রানে আউট হয়ে গেলেও ম্যাচটি আমাদের হাতে থাকত। ’

যদিও রবিবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের কাছে হারের ব্যাখ্যা নয়, বাজে সময়কে পেছনে ফেলে আসা কোহলির জীবনের বিলম্বিত বোধোদয়ই সংবাদমাধ্যমকে টানল বেশি। সেটি খুব স্বাভাবিক। মনের কথা মুখে যে এর আগে এভাবে চলে আসেনি তেমন। কোহলি যখন বলছিলেন, একেকটি কথায় যেন তীব্র শ্লেষও মেশানো ছিল। আঙুল তুলেই বলছিলেন, ‘অনেকের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। টিভিতে কত লোক আমাকে পরামর্শ দেন, কত কথা বলেন! কিন্তু যতজনের কাছে আমার নম্বর আছে, তাঁদের কেউ একটি টেক্সটও দেননি। ’

খুদে বার্তা পাঠিয়ে একজনই দুঃসময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কে তিনি? শুনে নিন কোহলির নিজের মুখ থেকেই, ‘একটি কথা আপনাদের বলতে পারি। টেস্টের নেতৃত্ব ছাড়ার পর কেবল একজন মানুষের কাছ থেকেই আমি টেক্সট পেয়েছি। যাঁর সঙ্গে আমি খেলেছি, তিনি হলেন এম এস ধোনি। ’ অমূল্য হয়ে ওঠা ধোনির সেই খুদে বার্তায় কোহলি ঠিক করে নিয়েছেন, ‘‘গোটা দুনিয়ার সামনে আমাকে পরামর্শ দিলে আমার কাছে সেটির কোনো মূল্যই নেই। যদি আমার উন্নতির জন্যই পরামর্শ দিতে চান, তাহলে সরাসরিই এসে বলতে পারেন যে, ‘সত্যিই তোমার ভালো চাই। ’ আমি সততার সঙ্গেই জীবন যাপন করি। কাজেই সব কিছু এভাবেই দেখতে চাই। ’’ 

দুঃসময়ে দেখার চোখ বদলে নেওয়া এই মহাতারকা টানা দুই ফিফটির পর তাকিয়ে শুধু সামনেই। পাকিস্তানের কাছে হারে অবশ্য ভারতের এশিয়া কাপ ফাইনালের পথ অমসৃণ হয়ে গেছে অনেকটাই। আজ দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা অবশ্য আফগানিস্তানকে হারিয়ে সুপার ফোরের লড়াইয়ে এগিয়ে আছে অনেকটাই। যে কারণে ভারতের জন্য আজকেই লড়াই হয়ে উঠেছে একরকম ‘ডু অর ডাই’-ই। যে ম্যাচ সামনে রেখে ক্রমেই ছন্দে ফিরতে থাকা কোহলির ফেলে আসা বাজে সময়কে ধরা লঙ্কান অধিনায়ক দাশুন শানাকা এও বলে রেখেছেন, ‘খারাপ সময়ে সমালোচনা তো তাঁকে নিয়ে কম হয়নি। কিন্তু আমরা সবাই জানি, উনি কী করতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা এখন তিনি ইনফর্মও। ’

ফর্মে ফিরতে ফিরতে কোহলি দুঃসময়ে মানুষও চিনেছেন!



সাতদিনের সেরা