kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

ফুটবল পায়ে একদল মেয়ে বদলে দিয়েছে কলসিন্দুরকে (ভিডিওসহ)

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৮ আগস্ট, ২০২২ ২০:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবল পায়ে একদল মেয়ে বদলে দিয়েছে কলসিন্দুরকে (ভিডিওসহ)

ছবি : কালের কণ্ঠ

গারো পাহাড়ের পাদদেশের নিভৃত একটি গ্রাম কলসিন্দুর। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার এ গ্রাম নতুন প্রজন্মের প্রমীলা ফুটবলারদের প্রতিভা গুণে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। ভারতের সীমান্তবর্তী দুর্গম প্রত্যন্ত পল্লীর প্রমীলা ফুটবলাররা দেশের ফুটবলে আশার আলো হয়ে উঠেছেন।

গল্পের শুরু ২০১১ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে।

বিজ্ঞাপন

পরে কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রমীলা ফুটবলাররা ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।  

এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় উচ্চ মাধ্যমিকের পথচলা। সেখানেও সফল কলসিন্দুরের মেয়েরা। জাতীয় পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারবার চ্যাম্পিয়ন হয় কলসিন্দুরের প্রমীলা ফুটবলাররা। সময়ের ব্যবধানে তারা একেকজন হয়ে ওঠেন দেশ কাঁপানো ফুটবলার। প্রাপ্তির ঝুলিতেও যুক্ত হয়েছে অনেক সাফল্য। তাদের এমন সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি হিসেবে উপহার দিয়েছেন। পরে প্রত্যন্ত এই গ্রামে এসেছে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট হয়েছে পাকা।  

তবে সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের ‘ইংলিশ ফর টুডে’ বইয়ের ৮৮ নম্বর পৃষ্ঠায় বড় করে দেওয়া একটা ছবি, যেখানে দেখা যাচ্ছে গোল উদযাপনে ব্যস্ত জাতীয় দলের মিডফিল্ডার মারিয়া মান্ডা। ‘দ্য আনবিটেন গার্লস’ শিরোনামের গল্পে উল্লেখ করা হয়েছে মারিয়া, সানজিদারা কিভাবে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কলসিন্দুর থেকে উঠে এসে দেশের ফুটবল রাঙাচ্ছেন। প্রাপ্তির সঙ্গে হারানোর বেদনাও রয়েছে। সেই ফুটবল দলের এক সদস্য ফুটবলার সাবিনা চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। যা সে সময় প্রমীলা ফুটবলারদের জন্য ছিল বড় ধরনের ধাক্কা।  

প্রাথমিক পর্যায়ে সাফল্যের পেছনে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী শিক্ষক মো. মফিজ উদ্দিন। শিক্ষক মফিজ উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো ফুটবলে পা ছুঁতে শুরু করে কোমলমতি ওই ছাত্রীরা। কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনতী রানী শীলের প্রচেষ্টায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমীলা ফুটবলারদের সাফল্য দেখেছে দেশ। কোচের দায়িত্বে থাকা কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মফিজ উদ্দিনের পদোন্নতিজনিত বিদায়ের কারণে নারী ফুটবল দলের অনুশীলন বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল।  

পরে প্রমীলা ফুটবলারদের এগিয়ে নিতে তাদের পাশে দাঁড়ান কলসিন্দুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মালা রাণী সরকার। ফুটবলারদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন তিনি। ফুটবলার মেয়েদের প্রতি এই আন্তরিকতায় কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের টিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পান মালা রাণী সরকার। ইতিমধ্যে অনেক অভিভাবক নানা কারণে তাদের মেয়েদের খেলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাদের কাছে গিয়ে নানাভাবে বুঝিয়ে আবার খেলায় ফিরিয়ে আনেন মালা রাণী। জাতীয় পর্যায়ে ম্যাচে গ্যালারিতে বসে তিনি তার মেয়েদের উৎসাহিত করেন।   

ওই এলাকার একসময়ের জনপ্রিয় ফুটবলার জুয়েল মিয়া বর্তমানে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। জুয়েল মিয়ার অধীনে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০ জন মেয়ে নিয়মিত অনুশীলন করছেন। বর্তমানে আটজন প্রমীলা ফুটবলার জাতীয় দলসহ বিভিন্ন ফুটবল টিমের হয়ে খেলছেন। অনুশীলনে আসা প্রমীলা ফুটবলাররা জানান, অনেক প্রমীলা ফুটবলার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। ফলে তাদের পরিবারের পক্ষে একাধিক জার্সি কিংবা বুট কিনে দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু প্রচণ্ড ইচ্ছেশক্তি থাকায় ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই খালি পায়ে অনুশীলন করেন। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই এলাকার অনেক মেয়ে ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট হবেন।



সাতদিনের সেরা