kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

পলের কি অতিরিক্ত সময়ের প্রস্তুতি ছিল?

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২২ ২০:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পলের কি অতিরিক্ত সময়ের প্রস্তুতি ছিল?

অতিরিক্ত সময়ের কোনো প্রস্তুতিই ছিল না বাংলাদেশ দলের ! নইলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে লড়াই করা দলটি অতিরিক্ত সময় শুরুর ৯ মিনিটে ভারতের কাছে আত্মসমর্পন করে তিন গোল খেয়ে !

কথা উঠছে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ পল স্মলির ফুটবল মেধার প্রায়োগিক দিক নিয়ে। বাফুফেতে এই ইংলিশের চাকরি টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর হিসাবে হলেও সেই কাজে তেমন দক্ষতা দেখা যায়নি। বরং তিনি এদেশে সুপরিচিত কোচদের লাইসেন্স কোর্স পরিচালনার জন্য। অর্থাৎ কোচদের কোচ তিনি।

বিজ্ঞাপন

তাই কোনো কোচই স্বনামে পলের সমালোচনা করে বিপাকে পড়তে রাজি নন। তবে এই ইংলিশের কোচিং মেধার প্রায়োগিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারই এক গুনী শিষ্য,‘উনি (পল স্মলি) কোচিং মেথডের চর্চা করেন, সেটা খুব ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। কিন্তু মাঠে উদ্ভুত পরিস্থিতে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা ডাগআউটে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলাটা একদম আলাদা। আমার ধারনা, প্রতিদ্বন্ধিতামূলক ফুটবল কোচিংয়ের বাইরে থাকায় তিনি এই ব্যবহারিক জায়গায় পিছিয়ে। ভারতের বিপক্ষে তার ফাইনাল ম্যাচ রিডিং দেখে আমার তাই মনে হয়েছে। ’

নিজের ৫ বছরেরও বেশি বাংলাদেশ অধ্যায়ে পল প্রথমবারের মতো কোনো দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার তত্ত্বাবধানে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের লিগ ম্যাচে তিনটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে বাংলাদেশ উঠে ফাইনালে। সেখানে ভারতের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ও আছে। কিন্তু ফাইনালে সেই ভারতের সামনে শেষ সব জারিজুরি। দ্বিতীয় মিনিটে পেনাল্টি গোল হজম করেও পলের দল ছিটকে যায়নি ম্যাচ থেকে। প্রথমার্ধে ম্যাচে ফিরে দ্বিতীয়ার্ধে ২-১ গোলের লিডও নিয়েছিল। ভারত গোল করে ফাইনাল নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। আর এই খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ৯ মিনিটে ফাইনাল থেকে ছিটকে যায় পলের দল। এটা দেখে আরেক দেশি কোচ সংশয় প্রকাশ করেন,‘আমাদের অতিরিক্ত সময়ে খেলার জন্য খেলোয়াড়দের কোনো মানসিক প্রস্তুতি, এমনকি কোচেরও এ নিয়ে বিশেষ কৌশল ছিল কিনা আমি জানি না। গোলের মুভেও বাংলাদেশের রক্ষণ ছিল অরক্ষিত। বিশেষ করে ওদের দুই ফরোয়ার্ড গুরকিরাত সিং ও হিমাংশু ঝাংরার বলের ওপর দখল ও গোলের দক্ষতা আমাদের দলের যে কারো চেয়ে ভাল। তাই তাদের আটকানোর জন্য আলাদা কৌশল থাকতে পারতো। ’

বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে দুই গোল করা গুরকিরাতকে নজর বন্দী করার চেষ্টা করতে পারতেন। অতিরিক্ত সময়ে এই ভারতীয় ফরোয়ার্ড আরো দুই গোল করে ১২০ মিনিটের ফাইনাল শেষ করে দিয়েছেন ৯৯ মিনিটে। ৫-২ গোলে পিছিয়ে পড়লে কি আর ফেরার সুযোগ থাকে ! আগের মতোই ফাইনালে গিয়ে ভারতের কাছে হার। এবার দশ মাসের এলিট একাডেমি দিয়েও শিরোপার হিসাব মেলাতে পারেনি বাফুফে। আসলে একাডেমি ফুটবলের চর্চা ভারত শুরু করেছে অনেক আগে, তারই ফল মিলছে এখন। এখানে বাংলাদেশ শিশু।



সাতদিনের সেরা