kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

অর্থেই সর্বনাশ ফুটবলের

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ জুন, ২০২২ ১২:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থেই সর্বনাশ ফুটবলের

আরেকটি প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু এই লিগ দেশের ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করতে পারেনি। বিদেশি ফুটবলারে সুসজ্জিত লিগে দেশি ফুটবলাররা আরেকটি মৌসুম পার করেছেন। পারফরম্যান্সের বিচারে নিজেদের আলাদা করতেও পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

তাই জাতীয় দলের চেহারায়ও আলাদা আকর্ষণ যোগ হয় না। ফুটবলের এই মলিন চেহারার কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন সনৎ বাবলা। প্রথম কিস্তি ছাপা হচ্ছে আজ...

ফুটবল মৌসুম এখনো শেষ হয়নি, তার আগেই চড়ে গেছে আগামী মৌসুমের দলবদলের বাজার! ৮০-৯০ লাখ ছাড়িয়ে আলাপ পৌঁছে গেছে কোটি টাকায়! এমন খবর শুনে এক সাবেক ফুটবল তারকা প্রশ্ন করেন, ‘কিসের ভিত্তিতে তাদের এত টাকা? লিগের খেলায় বিদেশি ছাড়া কারো পারফরম্যান্স তো দেখি না। প্রত্যেক দেশি ফুটবলারের আগের মৌসুমের পারফরম্যান্স ডাটা তুলে ধরা উচিত। গোল, অ্যাসিস্ট, পাস, ট্যাকল হিসাব করে তাদের দাম ঠিক করা উচিত। পারফরম্যান্স নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই, ফুটবলার নাম ভাঙিয়ে একেকজন ছুটছে টাকার পেছনে। ’ 

সত্যি, লিগে বিদেশিরা খেলে বলে খেলাগুলো দেখা যায়। দলগুলোও উতরে যায়। তাঁদের ঔজ্জ্বল্যে চাপা পড়ে যায় দেশি ফুটবলারদের পারফরম্যান্স। তাঁদের পারিশ্রমিকের সঙ্গে তাঁদের পারফরম্যান্সের বিচারে বসলে নিশ্চিতভাবে মাথা চাপড়াবেন ক্লাব কর্মকর্তারা। সেই দামি ফুটবলারদের চাপা পড়া পারফরম্যান্সটা খোলাসা হয় জাতীয় দলে। তখন পরিষ্কার হয়, ৮০-৯০ লাখ টাকার ফুটবলারের পায়ের জারিজুরি। সেটা দেখে সবাই বুঝে নেয়, দেশের ফুটবলটা আসলে ফাঁপা। ঘরোয়া ফুটবলে অর্থের ঝনঝনানিতেই শোরগোল হয়।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু কোনো প্রাপ্তি দেখেন না এই লিগ থেকে, ‘ক্লাবগুলো কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দল গড়ে, কিন্তু এই লিগ থেকে আমরা খেলোয়াড় বের করতে পারছি না। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত, ক্লাবগুলোর এত এত বিনিয়োগ যেন জলে না যায়, সেটার ব্যবস্থা করা। দেশ যেন লাভবান হয়। ’ তিনি আসলে ফুটবল ব্যবস্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে ক্লাব এবং বাফুফের সম্পৃক্ততা দরকার। মিন্টু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, ‘সামগ্রিকভাবে বললে আমাদের খেলোয়াড়রা গুণগত মানে অনেক পিছিয়ে থাকে। তাদের এগিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ বছর বয়স থেকে শুদ্ধ ফুটবল চর্চার জায়গাও আমরা করে দিতে পারিনি। তারাও নিজেদের ঘাটতিগুলো পূরণের জন্য আলাদা ট্রেনিং করে না। ’

নিজের খামতি পোষানোর আসলাম-নকীবসহ সাবেক তারকাদের বাড়তি ট্রেনিংয়ের গল্প কারো অজানা নয়। সেই গল্পে মতি নেই এখনকার খেলোয়াড়দের! মতি থাকারও কোনো কারণ দেখেন না এক অভিজ্ঞ সংগঠক, ‘তাদের ঘাটতি থাকলে ৮০-৯০ লাখ টাকা দিত না ক্লাবগুলো। তাদের মগজে ঘোরে শুধু অর্থ, দল পাকা করে ফেলতে পারলে আর সারা বছর চিন্তামুক্ত। কিছু একটু খেলল, নইলে বেঞ্চ গরম করল। তাতে কী আসে-যায়। ’ আগের ফুটবলে বেঞ্চে বসে থাকাটা নাকি খেলোয়াড়দের আত্মসম্মানে লাগত। এখন উল্টো সুবিধা, বসে থাকলে খারাপ পারফরম্যান্সের প্রশ্ন ওঠে না। তাই বেশ কিছু ফুটবলার নিজের সেরা সময়টা বেঞ্চে কাটিয়ে দিচ্ছেন। যেখানে খেলার সুযোগ সীমিত সেখানেই ছুটছেন অর্থের লোভে। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে তাঁদের কাছে ফুটবল ক্যারিয়ার নয়, টাকাই মুখ্য।

সাবেক তারকা আশরাফ উদ্দিন চুন্নু এখনকার খেলোয়াড়দের ফুটবলবোধে সমস্যা দেখছেন, ‘তারা ভালো খেলে টাকা পেলে কারো সমস্যা নেই। তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ফুটবল, টাকা নয়। মাঠের খেলা ভালো হলে টাকা পেছনে ছুটবে। জাতীয় দলের জার্সিতে ভালো পারফরম করুক, তখন এই জাতি তাদের মাথায় তুলে নাচবে। তাদের কাছে মানুষ ভালো ফুটবল আশা করে। তারা ভালো খেললে আমাদের লিগের মানও বাড়ে। ’ এখন লিগের যেটুকু মান ওই নামিদামি বিদেশিদের সুবাদে। তাঁরাই খেলেন, তাঁদের নিয়েই আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের মূল আকর্ষণ বিদেশিরাই। পার্শ্ব অভিনেতার ভূমিকায় দেশিরা।

অথচ এই ফুটবলারদের জন্যই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন গর্ব করে বলেন, ‘এখন লিগে ভালো পারিশ্রমিক পায় ফুটবলাররা। এই ব্যবস্থাটা আমি করে দিতে পেরেছি তাদের জন্য। ’ বড় বড় দল যোগ হয়েছে লিগে, বেড়েছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক। কিন্তু সেই অর্থের বিপরীতে মিলছে না খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। ওই অর্থই না আরেক দফা সর্বনাশ করছে ফুটবলের!



সাতদিনের সেরা