kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতল আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৮ জুন, ২০২২ ১৮:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতল আবাহনী

লিগ শিরোপা জয়ের পথে টিকে থাকতে হলে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না আবাহনীর সামনে। এমন ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে আকাশী-নীলরা। ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মারুফুল হকের দলের।

মঙ্গলবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে আবাহনী লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

জোড়া গোল দরিয়েলতন গোমেজের। লিগের প্রথম পর্বে সিলেটে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল আবাহনী। দ্বিতীয় পর্বে এসে প্রতিশোধ'ই নিল মারিও লেমোসের দল।

এই জয়ে ১৭ ম্যাচ শেষে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানেই থাকল আবাহনী। তাদের থেকে ছয় পয়েন্ট বেশি নিয়ে শিরোপা জয়ের পথে সবার উপরে বসুন্ধরা কিংস। সমান ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে চট্টগ্রাম আবাহনী।  

কুমিল্লায় গোটা ম্যাচ জুড়েই রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। প্রথমার্ধেই দেখা মিলেছে তিন গোলের। আক্রমণ প্রতি আক্রমণে চলা ম্যাচে কেই কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। দানিয়েল কলিন্দ্রেস ১৪ মিনিটে কোনাকুনি শট নিয়েছিলেন। বল অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়ে যায়। একটু পর কলিন্দ্রেসের ক্রসে দরিয়েলতন গোমেজের হেড কোনোমতে কর্নারের আটকান সাইফুল ইসলাম। এরপর কলিন্দ্রেসের দূরপাল্লার শটও আটকান চট্টগ্রাম আবাহনীর এই গোলরক্ষক।

খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ৩১ মিনিটে এগিয়ে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। বাঁ দিকের বক্সের একটু বাইরে থেকে ওমিদ পোপালজাইয়ের ফ্রি কিক লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। বক্সের বাইরে ক্যান্ডি অগাস্টিন ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিকটি পেয়েছিল চট্টগ্রামের দলটি। ২ মিনিট পরই ম্যাচে ফিরে আসে আবাহনী। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা কলিন্দ্রেসের ক্রসে দরিয়েলতনের হেড জালে জড়ায়।

আবাহনীল সমতার স্বস্তি টিকেনি বেশিক্ষণ। ৩৮ মিনিটে মেহেদী হাসান রয়েলের চার্জে বক্সে ক্যান্ডি অগাস্টিন পড়ে গেলে পেনাল্টি পায় চট্টগ্রাম আবাহনী। রেফারির সিদ্ধান্তে আবাহনীর খেলোয়াড়রা আপত্তি জানালেও কাজ হয়নি। স্পট কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন পিটার থ্যাঙ্কগড। এ নিয়ে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডের গোল হলো ১৮টি। যা এবারের লিগে সর্বোচ্চ।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক খেলার ছকেই থাকে আবাহনী। শুরুর দিকে সুযোগও পেয়ে যায় তারা। কিন্তু কলিন্দ্রেসের ফ্রি কিকে মিলাদ শেখ সুলেমানি পা ছোঁয়াতে না পারলেও গোল পেয়েই যাচ্ছিল তারা, কিন্তু বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে লেগে ফিরে।  ম্যাচের ৫৭ মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হয় চট্টগ্রাম আবাহনী। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ক্যান্ডি অগাস্তিন। দশ জনের দলের বিপক্ষে আরও আক্রমণাত্বক খেলে আবাহনী লিমিটেড।

অবশ্য ৭০ মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি আবাহনীকে। কলিন্দ্রেসের কর্নারে জটলার মধ্যে হেডে জাল খুঁজে নেন দরিয়েলতন গোমেজ। টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোলের দেখা পেলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। ৭৭ মিনিটে সৌভাগ্যক্রমে গোলের দেখা পেয়ে এগিয়ে যায় আবাহনী। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা নুরুল নাঈম ফয়সালের নেওয়া ক্রস চট্টগ্রাম আবাহনীর শাখাওয়াত হোসেনের মাথায় লেগে দিক বদলে দূরের পোস্টে গিয়ে জালে জড়ায়। কিছুই করার ছিলনা গোলকিপার সাইফুল ইসলামের। বাকি সময়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। দারুণ জয়ে লিগ রেসে টিকে থাকল আবাহনী।



সাতদিনের সেরা