kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

একজনকে বেছে নিতে বললে শরীফুলকে নেব

অনলাইন ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০২২ ০৪:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একজনকে বেছে নিতে বললে শরীফুলকে নেব

আগের কর্মস্থল ফ্রি স্টেটের সিনিয়র দল নাইটসের হেড কোচ হিসেবে শেষ কয়েকটি দিনে ভীষণ ব্যস্ততা অ্যালান ডোনাল্ডের। ব্লুমফন্টেইনে চার দিনের ম্যাচ শেষ করেই এক দিনের ম্যাচের জন্য গতকাল ছুটেছেন পার্লের পথে। চলতি পথেই বাংলাদেশ দলের নতুন ফাস্ট বোলিং কোচ এই দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি সাক্ষাৎকার দিলেন মাসুদ পারভেজ-কে

প্রশ্ন : শুরুতেই জানতে চাইছি, বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবক ছিল কোন বিষয়টি?

অ্যালান ডোনাল্ড : আসলে সব কিছুই খুব দ্রুততার সঙ্গে ঘটে গেছে। আগের সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিসিবির সিইও আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ করে জানতে চান, কাজটি করতে আমি আগ্রহী কি না।

বিজ্ঞাপন

পরদিনই জানিয়ে দিই, ‘আপনারা এগোতে পারেন। ’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আবহটা আমার খুব পছন্দের। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পরে কাজ করেছি শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবার ফেরার সুযোগ এসে যেতেই তাই লুফে নিলাম।

প্রশ্ন : ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের তুলনায় জাতীয় দলের কাজটি বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন কি? যেহেতু একসঙ্গে তিন-তিনটি সংস্করণ নিয়ে ভাবতে হয় একজন কোচকে।

ডোনাল্ড : এটা ঠিক যে প্রতিটি সংস্করণের ‘স্কিলসেট’ ও ‘মাইন্ডসেট’ ভিন্ন। অনভ্যস্ত কারো জন্য তাই ব্যাপারটা একটু কঠিন হতেই পারে। তবে আমার জন্য নয়।

প্রশ্ন : কোর্টনি ওয়ালশের পর বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন আপনার মতো আরেক কিংবদন্তি। প্রত্যাশাও তাই অন্য যে কারো চেয়ে বেশি থাকবে আপনার কাছে। সেটি পূরণে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

ডোনাল্ড : বড় নামে আসলে কিছুই আসে যায় না! তা আপনি কোর্টনি ওয়ালশই হন, ডোনাল্ডই হন আর ওয়াকার ইউনুস—নিজের বিদ্যাটা ছেলেদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারাই মূল ব্যাপার। শুরুতে আমার চেষ্টা থাকবে ছেলেদের আস্থা অর্জন করার এবং ওদের আরো ভালোভাবে জানার। আমি আমার ‘স্কিলসেট’ ওদের সামনে তুলে ধরব।

প্রশ্ন : বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে কি বাংলাদেশ ক্রিকেটের খোঁজখবর তেমন রাখা হতো?

ডোনাল্ড : ক্রিকেট কোচ যেহেতু, সব দলের খোঁজখবরই রাখতে হয়। তাই বলে এই দাবিও করব না যে বাংলাদেশের প্রচুর খেলা আমি দেখেছি। আবার সময় পার্থক্যের কারণে কোনো কোনো ম্যাচ দেখা কঠিনও। এই যেমন আমাদের এখানে (দক্ষিণ আফ্রিকায়) যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময়, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে তখন বিকেল ৪টা বাজে। ভীষণ কঠিন হওয়া সত্ত্বেও মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের অনেকটা আমি দেখেছি। যে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে দুইবার অল আউট করে বাংলাদেশ জেতেইনি শুধু, দেখিয়েছে ওরাও চোখে চোখ রেখে লড়তে জানে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ে এই কয়েক দিনে হোমওয়ার্কও সেরে নিয়েছেন নিশ্চয়ই?

ডোনাল্ড : হ্যাঁ, রাসেলের (ডমিঙ্গো) সঙ্গেও কথা হচ্ছে আমার। তাসকিন আহমেদ এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার। এবাদতকে খুবই ‘ইন্টারেস্টিং’ মনে হচ্ছে, যে কিনা ক্রিকেটার হওয়ার আগে ভলিবল খেলত। রাসেলের কাছ থেকে ওর উচ্ছ্বসিত প্রশংসাই শুনলাম। আর শরীফুলের মধ্যে আছে দারুণ সম্ভাবনা। বাংলাদেশ যেবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যুব বিশ্বকাপ জিতে গেল, সেবার ওর বোলিং কিছুটা দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার।

প্রশ্ন : এঁদের মধ্যে কেউ বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার হতে পারে বলে মনে করেন কি?

ডোনাল্ড : শরীফুল ইসলাম। লম্বা বাঁহাতি এই পেসারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনার কথা একটু আগেই বললাম। রাসেলের সঙ্গেও ওকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। ওর কিছু ফুটেজও দেখছিলাম। ক্রিকেটের ফেলে আসা দিনগুলোতে তাকালে দেখবেন প্রতিটি বোলিং আক্রমণেরই এমন একজন করে বোলার ছিল, যে কিনা দলের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। অস্ট্রেলিয়ার যেমন ছিল গ্লেন ম্যাকগ্রা। পাকিস্তানের কখনো ইমরান খান, কখনো ওয়াসিম আকরাম, কখনো ওয়াকার ইউনুস। কোনো একজনকে বেছে নেওয়া মুশকিল যদিও, তবে আপনার প্রশ্নে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের শরীফুলকেই নিচ্ছি।

প্রশ্ন : ২০০৮ সালে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আপনার লেখা একটি কলাম খুব আলোচিত ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে স্বাগতিক ফাস্ট বোলারদের ভয়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা টয়লেটে পালাবেন বলে লিখেছিলেন আপনি। সেই সফরে সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে বিষয়টি আপনার সামনে তুলেছিলামও। আপনি সেটিকেই বাস্তবতা বলেছিলেন। সেই বাস্তবতা কি এখন বদলেছে?

ডোনাল্ড : তখনকার বাস্তবতা ওরকমই ছিল। বাংলাদেশের ব্যাটারদের টেকনিক ও ফুটওয়ার্ক তখন দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে ভালো করার পক্ষে মানানসই ছিল না। তবে বাস্তবতা এখন অনেকটাই বদলেছে। বদলেছে উইকেটও। একসময়ের বাউন্সি ডারবানের উইকেট যেমন এখন দারুণ ব্যাটিং সহায়ক। আর একটু আগেই বলছিলাম, মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট আমি দেখেছি। যেখানে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বল ছাড়ায় দক্ষ হয়ে উঠতেও আমি দেখেছি।



সাতদিনের সেরা