kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

বরিশাল হেরে গেল; তবু ঘুম ভাঙল না শান্তর

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বরিশাল হেরে গেল; তবু ঘুম ভাঙল না শান্তর

ছবি : মীর ফরিদ

বিপিএলে এবারের আসরে সবচেয়ে ব্যালান্সড দল বলা হচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। মাঠের খেলায় তারা এর স্বাক্ষরও রাখছে। ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে আজ মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে তারকাবহুল দল ফরচুন বরিশালকে।  দুই ম্যাচে কুমিল্লার এটি দ্বিতীয় জয়।

বিজ্ঞাপন

সাকিব-গেইল-ব্র্যাভোর মতো তারকারাও বরিশালের হার আটকাতে পারেননি। এর পেছনে অবশ্যই বড় অবদান ম্যাচসেরা হওয়া অফস্পিনার নাহিদুলের। রীতিমতো রেকর্ড গড়ে ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর অবিশ্বাস্য ধীরগতির ইনিংস সবাইকে বিস্মিত করেছে।

রান তাড়ায় নেমে কুমিল্লার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে বরিশাল। নাহিদুলের করা প্রথম ওভারের শেষ বলে 'ডাক' মারেন সৈকত আলী। স্কোরবোর্ড তখনো শূন্য। ফিরতি ওভারে এসে বড় শিকার ধরেন নাহিদুল। তাঁর বলে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি হন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (১)। এরপর তৌহিদ হৃদয় হাত খুলে খেলছিলেন। কিন্তু করিম জানাতের বলে বোল্ড হয়ে ১৪ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৯ রানেই থামে তাঁর ইনিংস। উইকেটে আসেন ক্যারিবিয়ান দানব ক্রিস গেইল। নিজের খেলা তৃতীয় বলে করিম জানাতকে হাঁকান বাউন্ডারি।

কিন্তু বর্ষীয়ান 'ইউনিভার্স বস' আজ বিপদে দলকে পথ দেখাতে পারেননি। ৮ বলে ৭ রান করে নাহিদুলের বলে উইকেটকিপার মহিদুল ইসলাম অংকনের দারুণ স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফেরেন। তখনই বরিশালের পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। নুরুল হাসান সোহান ১৪ বলে ১৭ রান করে তানভীরের বলে ডেলপোর্টের হাতে ধরা পড়েন। ৬৭ রানে পতন হয় ৫ উইকেটের। এক প্রান্ত আগলে ধীরগতিতে ব্যাট করছিলেন শান্ত। ৭ ও ৮ নম্বরে নামা ব্র্যাভো এবং জিয়াউর দুজনেই শহীদুলের পরপর দুই বলে ডাক মেরে ফেরেন। যদিও শহীদুলের হ্যাটট্রিক হয়নি। তানভীরের করা ১৬তম ওভারে জ্যাক লিনটটের ক্যাচ অসাধারণ দক্ষতায় তালুবন্দি করেন ডু'প্লেসিস।

সীমানার ঠিক ওপরে ক্যাচ নিয়ে দড়ি পার হওয়ার আগে আকাশে বল ছুড়ে দেন। এরপর মাঠের ভেতরে ঢুকে সেই ক্যাচ তালুবন্দি করেন প্রোটিয়া তারকা। মুস্তাফিজের শিকার হয়ে ৪৭ বলে ২ চারে ৩৬ করা শান্তর বিদায়ের সাথে সাথে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় বরিশাল। এই মুস্তাফিজের বলেই দুইবার জীবন পেয়েছিলেন শান্ত। প্রথমটি ব্যক্তিগত ০ রানে দ্বিতীয় ওভারে আর পরেরটি ২১ রানে ১৩তম ওভারে। ৯৮ মিনিট উইকেটে কাটানোর পর সেই মুস্তাফিজই তাঁকে আউট করলেন।  নাহিদুলের ৩ উইকেট ছাড়াও ২টি করে উইকেট নেন শহীদুল, তানভীর এবং করিম জানাত।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান তোলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাত্র ১ রান দেন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব। পরের ওভারেই নাঈমকে বেদম মার দিয়ে ১৪ রান। সাহসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন জয়। অপর ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্টও ভালোই খেলছিলেন। ১৩ বলে ৪ চারে ১৯ রানে তিনি নাঈম হাসানের বলে সোহানের অসাধারণ স্টাম্পিংয়ের শিকার হলে ৩.২ ওভারে ৩৩ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি। এরপর কুমিল্লার রান তোলার গতি কমে আসে। তিন নম্বরে নেমে ফাফ ডু'প্লেসিস ১১ বলে ৬ রান করে সাকিবের প্রথশ শিকার হন। অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ১১ বলে ১৫ রান করে ডিজে ব্র্যাভোর বলে সোহানের গ্লাভসে ধরা পড়েন।

এক প্রান্ত আগলে দারুণ ব্যাট করছিলেন মাহমুদুল। তাঁর সঙ্গী হিসেবে কেউ থিতু হচ্ছিলেন না। সাকিবের দ্বিতীয় শিকার মুমিনুল হক ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি। লিনটটের করা ১৬তম ওভারে ৫ম ব্যাটার হিসেবে আউট হন মাহমুদুল। থার্ডম্যানে ক্রিস গেইলের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি খেলেন ৩৫ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় ৪৮ রানের ইনিংস। শেষদিকে ব্যাটে ঝড় তোলেন আফগান তারকা করিম জানাত। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় অপরাজিত ২৯* রানের ঝলমলে ইনিংস। কুমিল্লার স্কোর দাঁড়ায় ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৮। ব্র্যাভো ৩০ রানে ৩টি আর সাকিব ২৫ রানে ২ উইকেট নেন।



সাতদিনের সেরা