kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

নাটকীয় ম্যাচে মিরাজকে হারিয়ে সাকিবের যাত্রা শুরু

সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম থেকে   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ১৬:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাটকীয় ম্যাচে মিরাজকে হারিয়ে সাকিবের যাত্রা শুরু

দারুণ পারফর্ম করেও দলকে জেতাতে পারেননি মিরাজ। ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরের চিরচেনা ঘূর্ণি উইকেটেই শুরু হয়ে গেল বিপিএলের অষ্টম আসর। উদ্বোধনী ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শুভযাত্রা শুরু করল সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল। ম্যাচটা বেশির ভাগ সময় বরিশালের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তবে মিরাজের এক ওভারে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় খেলা জমে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

সেই অবস্থা থেকে বরিশালকে জিতিয়েছেন জিয়াউর এবং ব্র্যাভো।

রান তাড়ায় নেমে ফরচুন বরিশালের যাত্রাটাও শুভ হয়নি। দলীয় ৩ রানে মেহেদি মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে যান নাজমুল হোসেন শান্ত (৬ বলে ১)। অন্য ওপেনার সৈকত আলীর সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক সাকিব। স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক এই ব্যাটার মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৩ রান করতে পেরেছেন। মেরেছেন ২টি বাউন্ডারি। এরপর ৩৪ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেন অপর ওপেনার সৈকত আলী এবং তৌহিদ হৃদয়। প্রথম ১০ ওভারে আসে ৫৫ রান। ১২তম ওভারে মুকিদুলের বলে তৌহিদ হৃদয় (১৬) আউট হলে ভাঙে সেই জুটি।

সৈকতের সঙ্গী হন ইরফান শুকুর। ১৫ নম্বর ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মিরাজ। তাঁর করা প্রথম বলে স্ট্রেইট ড্রাইভে বল সীমানার বাইরে উড়িয়ে ফেলেন সৈকত। পরের বল মিডউইকেট দিয়ে ওড়াতে গিয়ে একবারে সীমানা দড়ির ওপর তিনি ধরা পড়েন। শেষ হয় তাঁর ৩৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংস। পরের বলে ইরফান শুকুরকেও (১৬) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। কিন্তু হ্যাটট্রিক হয়নি। পঞ্চম বলে আফিফ হোসেনের দারুণ থ্রোয়ে রান আউট হয়ে যান সালমান হোসেন (০)।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বরিশাল। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে চট্টগ্রাম অধিনায়কের সংগ্রহ ৪ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে হাত খুলে মেরে বরিশালের আশা ফের জাগিয়ে তোলেন জিয়াউর রহমান। সঙ্গী ডোয়াইন ব্র্যাভো। তাঁদের ব্যাটে চড়ে ৮ বল এবং ৪ উইকেট হাতে রেখে কাঙ্ক্ষিত জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ফরচুন বরিশাল। ব্র্যাভো ১০ বলে ১ ছক্কায় ১২* এবং জিয়াউর ১২ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৯* রানে অপরাজিত থাকেন।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ১২৫ রান তোলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। শুরুতেই তারা বিপদে পড়েছিল। শের-ই-বাংলার সেই চিরচেনা উইকেটে তারা ৩৩ রানেই ৩ উইকেট হারায়। দলীয় ৬ রানে প্রথম আঘাত হানেন নাঈম হাসান। তাঁর বলে নাজমুল হোসেন শান্তর তালুবন্দি হয়ে ফেরেন উইকেটকিপার ব্যাটার কেনার লুইস। তিনে নেমে আফিফ হোসেন একটি ওভার বাউন্ডারি মেরে অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যারিবীয় পেসার আলঝারি জোসেফের বলে ১২ রান করে ধরা পড়েন উইকেটকিপারের গ্লাভসে।

এরপর মঞ্চে আবির্ভাব বরিশাল অধিনায়ক সাকিবের। তাঁর বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতামূল ক্রিকেটের বাইরে থাকা সাব্বির রহমান। চট্টগ্রামের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটান জ্যাক লিন্টট। এই ইংলিশ চায়নাম্যানের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান অপর ওপেনার উইল জ্যাক্স (১৬)। দলীয় ৫৬ রানে চট্টগ্রামের ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয় মেহেদি মিরাজের বিদায়ে। নাঈম হাসানের বলে টাইমিং গড়বড় করে লিন্টটের হাতে ধরা পড়েন ২০ বলে ৮ রান করা চট্টগ্রাম অধিনায়ক।

শামীম হোসেন (১৪) আর নাঈম ইসলাম (১৪) বড় কিছু করতে পারেননি। শেষের দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন বেনি হাওয়েল। আলঝারি জোসেফের করা ১৯তম ওভারে তিনি ২ চার এক ছক্কা মেরে তোলেন ১৬ রান। ২০ বলে ৩ চার ৩ ছক্কায় ৪১ রান করা হাওয়েলকে ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে থামান অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্র্যাভো। চট্টগ্রামের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১২৫ রান। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন আলঝারি জোসেফ। ২টি নিয়েছেন নাঈম।



সাতদিনের সেরা