kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আলোকস্বল্পতায় প্রথম দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬:০৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আলোকস্বল্পতায় প্রথম দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা

আলোকস্বল্পতার কারণে এক ঘণ্টা আগেই ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনের খেলার সমাপ্তি টানা হয়েছে। চা বিরতির পর বেলা ৩টার দিকে খেলোয়াড়েরা মাঠে প্রবেশ করে আবার ফিরে যান। আলো পরীক্ষা করে আম্পায়ারদ্বয় খেলা শুরু করেননি। এরপর বেশ কয়েকবার আলোর পরিমাপ করা হয়। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ মাঠে গড়ানোর মতো পর্যাপ্ত আলো ছিল না। শেষ পর্যন্ত বিকাল ৪:০৭ মিনিটে দিনের খেলার সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত হয়। তখনও ৩৩ ওভার বাকি ছিল। আগামীকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে দ্বিতীয় দিনের খেলা।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের হয়ে নতুন বলে শুরু করেন এবাদত হোসেন। পঞ্চম বলটি থার্ডম্যান দিয়ে সীমানাছাড়া করে রানের খাতা খোলেন আবিদ আলী। অন্যাপ্রান্ত থেকে বোলিং করা খালেদ আহমেদ মেডেন ওভার দিয়ে শুরু করেন। সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ। বেশ ঠাণ্ডাও আছে। সূর্য ওঠার কোনো লক্ষণ নেই। ঢাকা টেস্ট শুরুর ৩৫ মিনিটের মাঝেই আকাশ আরও মেঘলা হয়ে যায়। আলো কমে আসে। তাই সকালবেলাতেই মিরপুর শেরে বাংলায় জ্বলে ওঠে ফ্লাডলাইট। ১০ম ওভারেই সাকিবকে দিয়ে শুরু হয় স্পিন আক্রমণ। ১৬তম ওভারে আসাদ শফিকের বিপক্ষে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন হয়। আম্পায়ার নাকচ করলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে সেটা ব্যর্থ হয়। বোলার ছিলেন সাকিব।

প্রথম সাফল্যের জন্য টাইগারদের অপেক্ষা করতে হয়েছে সোয়া ঘণ্টার মতো। ইনিংসের ১৯তম ওভারে আব্দুল্লাহ শফিককে বোল্ড করে দেন তাইজুল ইসলাম। ৫০ বলে ২ চার ১ ছক্কায় শফিকের সংগ্রহ ২৫ রান। এর সাথেই ভাঙে পাকিস্তানের ৫৯ রানের ওপেনিং জুটি। উইকেটে আসেন আজহার আলী। তাইজুলের ফিরতি ওভারে আজহারের বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন আম্পায়ার নাকচ করলে ফের রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। আল্ট্রা এজে সামান্য স্পাইক দেখা গেলেও অনেকক্ষণ পর আম্পায়ার কল হিসেবে রিভিউ খারিজ করেন তৃতীয় আম্পায়ার।

তাইজুলের হাত ধরে আসে দ্বিতীয় সাফল্য। ২৫তম ওভারে আবিদ আলীকে বোল্ড করে দিয়েছেন এই স্পিনার। ৮১ বলে ৬ চারে ৩৯ রান করে ফিরেন আবিদ। ৭০ রানে পতন হয় দ্বিতীয় উইকেটের। আজহারের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক বাবর আজম। তাইজুলকে চার মেরে বাবর রানের খাতা খোলেন। এর মাধ্যমে ৩৮ বল পর রান পেল পাকিস্তান! মধ্যাহ্ন বিরতির আগে অতিথিদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৭৮ রান। বিরতির পর মেহেদি মিরাজের করা ৩৬তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে পাকিস্তানের স্কোর একশ পার করেন অধিনায়ক বাবর আজম। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ঘণ্টাখানেক খেলা চলে। তারপর হানা দেয় বৃষ্টি। খেলা বন্ধ করে পিচ ঢেকে ফেলা হয়। অবশ্য বৃষ্টি বেশি না হওয়ায় ১০ মিনিট পরই সরানো হয় পিচ কাভার। শুরু হয় মাঠ শুকানোর কাজ। ১:৫৫ মিনিটে খেলা শুরুর একটু পরেই সাকিব আল হাসানের বলে বাবর আজমের ক্যাচ সীমানার কাছাকাছি ফেলে দেন খালেদ। বাবর তখন ৩৯ রানে ব্যাট করছেন। সেই মিস হওয়া ক্যাচটি চার হয়ে যায়। জীবন পাওয়ার পরের বলেও সাকিবকে চার মারেন বাবর। ৭৫ বলে পূরণ করেন ফিফটি।

চা বিরতির আগমুহূর্তে ৫৭তম ওভারে আজহার আলীর হাঁকানো একটা বাউন্ডারি আটকাতে গিয়ে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় খালেদ আহমেদের। তিনি আঘাত পাওয়ায় বদলি হিসেবে ফিল্ডিংয়ে নামেন নাঈম শেখ। দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। চা বিরতির পর নির্দিষ্ট সময়ে খেলা শুরু হয়নি আলোক স্বল্পতার জন্য। ক্রিকেটাররা মাঠে প্রবেশ করে আবার ফিরে যান। পৌঁনে ৪টার দিকে ফের দুই আম্পায়ার মাঠে প্রবেশ করে আলোর পরিমাপ দেখেন। অপেক্ষা আরও বাড়ে। অবশেষে বিকাল ৪ :০৭ মিনিটে প্রথম দিনের খেলার সমাপ্তি টানা হয়। দিনশেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৬১ রান। দুটি উইকেটই নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

ঢাকা টেস্টে চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ৯৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে মাহমুদুল হাসান জয়ের। সাদমান ইসলামের সঙ্গে তাকেই ওপেনিংয়ে দেখা যাবে। প্রায় আড়াই বছর পর দলে ফিরেছেন পেসার খালেদ আহমেদ। সাইফের পাশাপাশি বাদ পড়েছেন আবু জায়েদ এবং চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষিক্ত ইয়াসির আলী। তবে টেস্ট স্কোয়াডে থাকলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় একাদশে নেই তাসকিন আহমেদ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম টেস্টের একাদশ নিয়েই নেমেছে পাকিস্তান। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ৮ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ : মুমিনুল হক (অধিনায়ক), সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, খালেদ হোসেন, এবাদত হোসেন।

পাকিস্তান একাদশ : আবিদ আলী, আব্দুল্লাহ শফিক, আজহার আলী, বাবর আজম (অধিনায়ক), ফাওয়াদ আলম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, ফাহিম আশরাফ, নুমান আলী, হাসান আলী, সাজিদ খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি।



সাতদিনের সেরা