kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মমিনুলের সাহসে ভরসা করেননি কেউ

মাসুদ পারভেজ   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৩:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মমিনুলের সাহসে ভরসা করেননি কেউ

ছবি : মীর ফরিদ

আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ দলই আজ পর্যন্ত স্থির কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এখানকার কালো মাটির স্পিন-সহায়ক ধীরগতির উইকেট বেছে নিয়ে সাফল্যের বিপরীতে ব্যর্থতাও যে আছে!

পুরোশক্তির অস্ট্রেলিয়াকে এখানে স্পিন-ধাঁধায় ফেলে টেস্ট জেতা গেছে অবশ্য। আবার ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিপক্ষের সঙ্গে উল্টো নিজেদের পাতা ফাঁদে আটকে যাওয়ার ঘটনাও আছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কাছে ২১৫ রানে হারার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল স্বাগতিকদের। কাজেই পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টে অন্তত একই ভুল করার পথে ‘বাধা’ তাই আছেই।

বাধা থাকলেও কেউ কেউ তবু সেটি পার হতে চাওয়ার সাহস দেখান। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে বিশদ ধারণা থাকার পরও ঝুঁকি নিতেও পিছপা হন না কেউ কেউ। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান টেস্টে যেমন হননি তখনকার টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। জেনে-বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে আফগানদের বিপক্ষে পুরোপুরি স্পিন-সহায়ক উইকেটেই খেলবেন। কোনো পেসার ছাড়াই খেলতে নেমে অবশ্য শেষ পর্যন্ত সুবিধা করে ওঠা যায়নি। বরং ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে রশিদ খান একাই ২২৪ রানে হারের লজ্জায় ডুবিয়েছিলেন স্বাগতিকদের।

সেই ম্যাচ তাই বাংলাদেশ দলের জন্য হয়ে আছে বড় এক শিক্ষাও। তা ছাড়া পাকিস্তানের ব্যাটারদের স্পিন খেলার সামর্থ্য যখন জানা, তখন মিরপুরের উইকেটের স্পিন আনুকূল্যে বিপদ ডেকে আনতে উৎসাহী হওয়ার কথা নয় কারোরই। কিন্তু সাকিবের মতো একটু অন্য রকম ভাবনায় আগ্রহী যে দলে একদমই নেই, তা-ও নয়। যত দূর খবর, ২০১৯-এর সাকিব হতে চেয়েছিলেন বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকও। চট্টগ্রামে এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে একদম ‘ফ্ল্যাট’ উইকেটে খেলেও যখন দুই ইনিংসে রান করেননি কোনো টপ অর্ডার ব্যাটার, তখন দলীয় সভায় মিরপুরের স্পিন উপযোগী উইকেটেই খেলার ছক উপস্থাপন করেছিলেন তিনি। দলীয় একটি সূত্র থেকে জানা গেছে যে মমিনুল অনেকটা এমন মনোভাবই পোষণ করেছিলেন, ‘হয় মরব, না হয় মারব।’

বিশেষত ব্যাটারদের উল্টো বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকায় অধিনায়কের সাহস দলের অনুমোদন পায়নি বলেও জানা গেছে। সেই ভয়টা আরো কয়েক দিন আগেই প্রকাশ্য করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে এই দক্ষিণ আফ্রিকান ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ আসলে আছে উভয়সংকটেই। আমরা যখন ভালো উইকেটে খেলি, তখন প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলার আমাদের থাকে না, যেটি পাকিস্তানের আছে। স্পিন উইকেটে খেললে অবশ্য আমরা প্রতিপক্ষকে দুই ইনিংসেই অল আউট করার ক্ষমতা রাখি। কিন্তু তখন আবার ভিন্ন সমস্যা হয়। আমাদের ব্যাটাররা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।’

‘ফ্ল্যাট’ উইকেটে খেলার চ্যালেঞ্জও যে কম নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টেও দেখা গেছে এর কিছু নমুনা। তবু স্পিন-সহায়ক উইকেটের তুলনায় কম। তাই মিরপুরেও একই রকম উইকেটে খেলার সিদ্ধান্তই যে জয়যুক্ত হয়েছে, গতকাল ঢাকা টেস্ট পূর্ব ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মমিনুলের বক্তব্য থেকে তা অনুমান করা কঠিন নয়। যদিও দলের পছন্দের সঙ্গেও তাঁকে একাকার হয়ে যেতে দেখা গেল, ‘উপমহাদেশের সবাই স্পিন ভালো খেলে। তাদের বিপক্ষে স্পিনিং উইকেট না করাটাই ভালো। সব দল তা-ই করে। আমার কাছে মনে হয়, ফ্ল্যাট উইকেটই ভালো। এটিই আমার পছন্দ।’

মমিনুলের সাহসে কেউ ভরসা না করলেও অধিনায়ক দলের বিশেষত ব্যাটারদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়েই নামছেন। তাতে ব্যাটিং সাফল্যের নিশ্চয়তা মেলে কি না, টেস্ট শুরু হলেই বোঝা যাবে!



সাতদিনের সেরা