kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

জয়েই জবাব পাকিস্তানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:৫৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জয়েই জবাব পাকিস্তানের

ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। ছবি : এএফপি

নিউজিল্যান্ড এক নম্বর ‘শত্রু’ হয়ে উঠেছিল পাকিস্তানের। নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপের ঠিক আগে পাকিস্তান সফর বাতিল করে তারা। সেই রেশে ইংল্যান্ডও বাতিল করে পাকিস্তান সফর। জবাবটা মাঠে দিতে চেয়েছিল বাবর আজমের দল। গতকাল মঙ্গলবার শারজায় দিলও সেটা। কেন উইলিয়ামসনদের পাকিস্তান হারাল ৫ উইকেটে। কিউইদের ১৩৪ রানের চ্যালেঞ্জ বাবর আজমের দল পেরিয়ে যায় ৮ বল হাতে রেখে। এ যেন ঘোষণা দিয়ে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়া!

শারজায় ভারতকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল পাকিস্তান। একই ভেন্যুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা অবশ্য অনায়াসে আসেনি। ১৩৫ রানের চ্যালেঞ্জ পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটা সময়। শেষ ২৬ বলে দরকার ছিল ৪২ রান, হাতে ৫ উইকেট। অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক আর আসিফ আলী শক্ত হাতে হালটা ধরেন তখনই। টিম সাউদির করা ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে টানা দুই ছক্কায় চাপ কমান আসিফ। মিচেল স্যান্টনারের করা পরের ওভারে প্রথম বলে বাউন্ডারি ও তৃতীয় বলের ছক্কায় ম্যাচটা মুঠোয় নিয়ে আসেন মালিক। প্রথম ১৫ জনে না থাকা মালিককে শেষ বেলায় দলে ডেকে যে ভুল করেনি পাকিস্তান, অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার বুঝিয়েছেন ভালোভাবে। শেষ পর্যন্ত মালিক ২০ বলে ২৬ আর আসিফ ১২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই ছাড়েন মাঠ।

২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে ১৩৩ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। অল্প পুঁজি নিয়েও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি ১ রানে জেতে কিউইরা। ৭ উইকেটে ১৩২ রানে থেমেছিল পাকিস্তানের ইনিংস। সেই ম্যাচে খেলা মার্টিন গাপটিল ও মোহাম্মদ হাফিজই শুধু ছিলেন গতকাল ১১ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে। এবার জয়ী দলে থাকলেন হাফিজ। নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল করার পর তাঁদের আইসিসির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা। ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘ভারতকে হারানোর লক্ষ্য সব সময় থাকে। এর পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডকেও হারাতে হবে।’ শোয়েব আখতারও দেন হুংকার, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে দেখে নিব আমরা।’ সাবেকদের মান রাখল বাবর আজমের দল।

ভারত ম্যাচের নায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদিকে সমীহ করে খেলেছে নিউজিল্যান্ড। ২৭ বছর বয়সী হারিস রউফ গতির ঝড় তুলে এবার নতুন নায়ক পাকিস্তানের। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার ছুঁই ছুঁই গতিতে বল করে ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। টি-টোয়েন্টিতে এটা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা। নিউজিল্যান্ডকে ৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া কেন উইলিয়ামসন করেছিলেন ২৬ বলে ২৫। ড্যারিল মিচেল ২০ বলে ২৭ ও ডেভন কনওয়ের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ২৭ রান। শাহীন শাহ আফ্রিদি ২১ রানে ১, ইমাদ ওয়াসিম ২৪ রানে ১ ও মোহাম্মদ হাফিজ নেন ১৬ রানে ১ উইকেট। পুরো ইনিংসে ৫৩টি ‘ডট’ আদায় করেছিলেন পাকিস্তানি বোলাররা। কিউইদের জন্য দুঃসংবাদ, পুরো টুর্নামেন্টের জন্য তারা হারিয়েছে ইনজুরিতে পড়া পেসার লকি ফার্গুসনকে।

গতকালের অপর ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেখা যায়নি চেনা রূপে। এখনো তরবারি হয়ে ওঠেনি গেইল-পোলার্ড-রাসেলদের ব্যাট। তাই অচেনা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরপাক খাচ্ছে হারের বৃত্তে। ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৮ উইকেটে বড় হারের লজ্জায় ডুবিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে করেছে ১৩৪ রান।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বুনো ব্যাটিংই সাধারণত এগিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের। তাদের এমন সব ব্যাটসম্যান আছেন, দু-একজনের ব্যাট হাসলেই পুরো দলের ইনিংস হাসে। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই অবিশ্বাস্যভাবে হাওয়া হয়ে গেছে তাঁদের সেই বিধ্বংসী ব্যাটিং। সেই দলের ওপেনার লেন্ডল সিমন্স কিনা কাল ৩৫ বলে করেছেন ১৬ রান! এটা নিশ্চিতভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটিংয়ের কলঙ্ক। অন্য প্রান্তে তাঁর পার্টনার এভিন লুইসের ব্যাট যখন চার-ছক্কায় ঝড় তুলছে, তখন সিমন্সের ব্যাট চলে টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজে। কিন্তু লুইসের ৬টি ছক্কা ও ৪টি চারে সাজানো ৩৫ বলে ৫৬ রানের তাণ্ডবের কারণে প্রথম ১০ ওভারে এর প্রভাব পড়েনি দলীয় স্কোরে। ১০.৩ ওভারে তিনি আউট হওয়ার সময় দলের স্কোর ১ উইকেটে ৭৩। অর্থাৎ চমৎকার সম্ভাবনার জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল ইনিংসটি।

কিন্তু এরপর কেউ যে আর সেভাবে টেনে নিতে পারেননি ইনিংসটাকে। নিকোলাস পুরান (১২), ক্রিস গেইল (১২), কিয়েরন পোলার্ড (২৬), আন্দ্রে রাসেলরা (৫) পারেননি লুইসের মতো বিধ্বংসী হয়ে উঠতে। কৃতিত্ব দিতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদেরও, রাবাদা-নোরজে-মহারাজ-প্রিটোরিয়াসদের হাঁকাতে গিয়ে একের পর এক উইকেট দিয়ে ফিরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানরা। তাঁদের ৮ উইকেটে ১৪৩ রানে বেঁধে রাখতে প্রিটোরিয়াস ৩ উইকেট নিলেও ম্যাচ শেষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এনরিচ নোরজের কৃপণ বোলিং। এই পেসার ৪ ওভারে একটি উইকেট নিলেও মাত্র ১৪ রান খরচ করে হয়েছেন ম্যাচসেরা। এটা নাকি তাঁর আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতায় সম্ভব হয়েছে, ‘এখানকার উইকেটে আইপিএল খেলাটা আমার খুব কাজে দিয়েছে। উইকেট কিন্তু খারাপ হয়, তবে কখন কিভাবে বোলিং করতে হয় সেটা আমি বুঝে গেছি। সে অনুযায়ী খেলেই আমি সাফল্য পেয়েছি।’

তাঁর মতো ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরাও খেলেছেন আইপিএলে কিন্তু বোলিংয়ে কেউ সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেননি। ইনিংসের প্রথম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা (২) রানে আউট হলেও লক্ষ্যে পৌঁছতে কোনো সমস্যা হয়নি তাঁদের। আরেক ওপেনার রিজা হেন্ডরিকস ৩০ বলে করেছেন ৩৯ রান। তবে চার নম্বরে নামা এইডেন মাক্রামের ২৬ বলে ৫১ রানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফ্রিকা ১০ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে (১৪৪/২)।



সাতদিনের সেরা