kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:২৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই

ভালো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ম্যাচটাও শেষ করে আসা চাই। মুশফিকুর রহিমকে হয়তো এমন পরামর্শই দিচ্ছেন ডমিঙ্গো।

একদিকে আল আমরাত স্টেডিয়ামে চলছিল স্বাগতিক ওমান আর পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। আর স্টেডিয়ামের উল্টো দিকের বিশাল খোলা প্রান্তরে আরব তরুণদের অনেকে তখন ব্যস্ত ফুটবল খেলায়। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের একাংশ নিরাশই হয়ে এলো। নিজের দেশ যে বিশ্বকাপের মতো কোনো একটি আসরে খেলছে, সেটিই তাদের অজানা।

এমন ক্রিকেটবিমুখ জাতির খেলাটি নিয়ে উন্মাদনা থাকারই কথা নয়। এ জন্যই এখানে ক্রিকেটটা দাঁড়িয়ে আছে অভিবাসীদের পায়ে। তেমন কোনো কাঠামো নেই বলে ওমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেউই পুরোপুরি পেশাদারও নন। তাঁদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো চাকরি করেন। খেলার সময় এলে ছুটি নিয়ে এসে খেলে যান। আজ এমন ‘আংশিক’ পেশাদার দলের বিপক্ষেই বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই। যে লড়াইয়ের আগের দিন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে পোড়াল অন্য উত্তাপও।

এমনিতেই স্কটল্যান্ডের কাছে হারার পর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। স্বাগতিক দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে সমীকরণটা এমন যে আজ হারলেই বাদ। স্কটিশদের বিপক্ষে ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে দলের যে চেহারা বেরিয়েছে, তাতে নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই যে এই বাধাও অবলীলায় পার করতে পারবে মাহমুদ উল্লাহর দল। তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে গতকাল সকালে ‘প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ’ করে থাকার কথা সংবাদমাধ্যমকে বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানও বুঝিয়ে দেন যে সেই গরম হাওয়া ছুঁয়ে যাবে দলকেও। সেটি শেষ পর্যন্ত ছুঁয়ে গেলও।

মাহমুদ উল্লাহরা আছেন মাসকাটে ওমান উপসাগরের তীরে সাংগ্রিলা হোটেলে। তাঁদের বায়ো বাবল বা জৈব সুরক্ষা বলয়ে ব্যাঘাত ঘটবে বলে নাজমুলরা টিম হোটেলে উঠতে পারেননি। তিনিসহ বিসিবির অন্য পরিচালকরা আছেন শেরাটন হোটেলে। সেখান থেকেই কাল বিকেলে নাজমুল ‘জুম’ বৈঠকে যুক্ত হলেন অধিনায়ক মাহমুদ, সাকিব আল হাসান ও হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে। সেই বৈঠক অপ্রীতিকর না হলেও যে খুব প্রীতিকর যে ছিল না, বিকেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলা নাজমুলের কথাতেই তা স্পষ্ট, ‘আসলে ভালো বলার মতো কিছু তো নেই। মানে কোনো একটি দিনে ভালো কিছু থাকে, কিছু প্রাপ্তি থাকে। এখানে আসলে পুরো ম্যাচটিই (স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে) আমাদের জন্য হতাশার।’

যত দূর জানা গেছে, জুম বৈঠকে ঠাণ্ডার পাশাপাশি কিছুটা গরমও দিয়েছেন নাজমুল। দলের বাজে সময়ের হতাশার মধ্যে প্রকাশ্যে বলা বিসিবি প্রধানের কিছু কথায় তা আরো বাড়তেও পারে। দলে তিন-তিনজন ওপেনার থাকতেও তিনি যেমন বলে দিয়েছেন, ‘যত ওপেনারই খেলুক না কেন, তামিমের চেয়ে ভালো ওপেনার একটাও নেই।’ এসব কথায় মনোবলে চোট লাগারই কথা। কিন্তু মনোবল চাঙ্গা হওয়ার ইতিহাসও কিন্তু বাংলাদেশে আছে। ২০১৫ সালে ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারানো বাংলাদেশ পরের সিরিজই শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে। পরদিন সবাইকে ডেকে এবং বকে নাজমুলও সমালোচিত হলেন খুব।

দলে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে যখন নিশ্চিত সবাই, তখন দেখা গেল উল্টো চিত্র। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ ঘুরেই দাঁড়ায়নি শুধু, টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজও পকেটে পুরেছিল। কে জানে, সে রকম আরেকটি টনিকেই নাজমুল দলকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন কি না। টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলানোর পর নাঈম শেখকে স্কটিশদের বিপক্ষে একাদশে না রাখা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকেও। প্রতিপক্ষ হিসেবে যিনি ওমানকেও দেখছেন শ্রদ্ধার চোখে। প্রথম ম্যাচে নিজেদের পরিণতি দেখার পর তা আরো বেড়ে যাওয়ারই কথা।

‘আংশিক’ পেশাদারদের দল হলেও বৈচিত্র্য আছে ওমানের বোলিং আক্রমণেও। স্কটিশ লেগস্পিনার ক্রিস গ্রিভস সাকিব ও মুশফিকের মতো ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে দলের জয়ের পথ সুগম করেছিলেন। ওমানের হয়ে সে রকম কিছু করতে মুখিয়ে আছেন লেগস্পিনার খাওয়ার আলীও। যদিও দলীয় পরিমণ্ডলে শিষ্যদের সঙ্গে আলোচনায় ভয়ের কিছু দেখেননি ডমিঙ্গো। কাল সন্ধ্যার সংবাদ সম্মেলনে তাই আশ্বস্তই করে রাখলেন, ‘ছেলেরা এখনো আত্মবিশ্বাসী যে আমরা পরের রাউন্ডে যাবই। ছেলেদের ওপর সেই বিশ্বাসও আমার আছে। গত এক বছরে ওরা কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে অনেকবারই জিতিয়েছে। তাই ওরা মনে করছে ওমান এবং পিএনজি বাধা আমরা পেরিয়েই যাব।’

২০১৬ সালে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে অবলীলায় ওমানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার অবশ্য প্রথম পর্বে হারের কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। এবার সেটি ঘটে যাওয়ার পর টিকে থাকার লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশ শিবিরের গায়ে প্রশাসকদের পক্ষ থেকে লাগল তপ্ত মরু হাওয়াও। ইতিহাস বলে, এ রকম কিছু কখনো কখনো বড্ড কাজে লাগে!



সাতদিনের সেরা