kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নিখুঁত প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দল

শাহজাহান কবির, মালদ্বীপ থেকে   

১২ অক্টোবর, ২০২১ ০২:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিখুঁত প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দল

ভাবুন তো, দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশকে এই পরিস্থিতিটা বেছে নিতে বলা হলো যে একটি ম্যাচই শুধু খেলতে হবে, সেটি নেপালের বিপক্ষে, জিতলেই ফাইনাল। অস্কার ব্রুজোন কি তা লুফে নিতেন? এই মুহূর্তে তো সেই সমীকরণের সামনেই বাংলাদেশ। তাই ফাইনালের রঙিন স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। ফুটবলাররা চাপ ঝেড়ে ফেলতে নিজেদের নানাভাবে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করছেন।

গতকাল রাকিব হোসেন যেমন বলেছেন, ‘আমার মনে হয় চাপটা নেপালের ওপর। কারণ ওরা জানে এই ম্যাচে জয়ের জন্য আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব। সেই চাপটা ওদের সামলাতে হবে।’ নেপালের সঙ্গে সামর্থ্যের পার্থক্য উনিশ-বিশ। কখনো বাংলাদেশ জেতে তো কখনো ওরা। ড্র-ও হয়েছে বিস্তর। এই ম্যাচে তাই মাঠের সেরা দলটিই জিতবে, কোনো সন্দেহ নেই। শক্তির আগাম হিসাব-নিকাশ থেকে খুব বেশি কিছু পাওয়া যাবে না। তবে বাংলাদেশ যে কারণে মালদ্বীপের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েছিল, সেই সম্ভাবনা আছে বরং নেপালের এ ম্যাচে। বাংলাদেশ যেখানে পাঁচ দিন বিশ্রাম নিয়ে নামছে, নেপালকে সেখানে গত পরশুই স্নায়ুক্ষয়ী একটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে ভারতের বিপক্ষে। বাংলাদেশ তাই চাপটা ধরে রাখতে পারলে শক্তি-দমের দিক দিয়ে অন্তত তাদের দুর্বল করে ফেলা যাবে। যদিও পাহাড়ি দেশটির খেলোয়াড়দের দম অফুরন্ত। বিভিন্ন সময়েই তার প্রমাণ দিয়েছে তারা। আরো একটি বিষয় তাদের বিপক্ষে যেতে পারে, সেটি হলো এই ম্যাচেই প্রথম বিকেলে খেলবে তারা। আগের তিনটিই খেলেছে ফ্লাড লাইটের আলোতে। প্রথমবার রোদের মধ্যে ম্যাচ শুরু করে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার থাকবেই।

বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু অবশ্য মূল অনুপ্রেরণাটা নিতে চাইছেন ভারত ম্যাচ থেকেই, ‘ভারতও কিন্তু সুযোগ তৈরি করে একের পর এক তা নষ্ট করেছে। তার পরও তারা হাল ছেড়ে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছে। তারই ফল পেয়েছে। আমাদেরও তাই জেতার এই চেষ্টাটা করে যেতে হবে প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত।’ আগের দুই ম্যাচে দারুণ পারফরম করে নজর কাড়া উইঙ্গার রাকিব হোসেনের সুযোগ আছে এই ম্যাচে ফেরার। প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের অপেক্ষায় থাকা রাকিবও চাইছেন আস্থার প্রতিদান দিতে, ‘এই ম্যাচে আমি শুরুর একাদশে বা বদলি যেভাবেই খেলি না কেন, চেষ্টা থাকবে নিজের সেরাটা দেওয়ার। দেশের জন্য যদি একটা কিছু করতে পারি, তাতে আমার চেয়ে বেশি খুশি তো আর কেউ হবে না।’

ব্রুজোনের গতকালের অনুশীলনেও ইঙ্গিত ছিল এই উইঙ্গারকে একাদশে ফেরানোর। সবচেয়ে স্পষ্ট ছিল বাংলাদেশ যে এই ম্যাচে গোলের জন্য ঝাঁপাবে সেটি।  অনুশীলনে কাল ফরোয়ার্ডে মতিন মিয়া ও সুমন রেজাকে একই সঙ্গে ব্যবহার করেছেন ব্রুজোন। ৪-৪-২ ছকে মিডফিল্ডে জামাল ভুঁইয়ার সঙ্গে সোহেল রানা, দুই উইংয়ে রাকিব ও সাদ উদ্দিন। পরে আবার ৩-৪-৩ ছকেই দলকে খেলিয়েছেন কিছুক্ষণ। আক্রমণে একই সঙ্গে বক্সে অন্তত তিনজন খেলোয়াড়কে চাইছেন এই ফরোয়ার্ড। কাল যেমন সাদের ক্রসে কখনো তপু, জামাল, বিপলু একসঙ্গে মুভ করেছেন, আবার কখনো সুমন, মাহবুবুর, তারিক। ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে নেপাল খুব দ্রুব ডিফেন্স লাইন জমাট করে ফেলে বলে ফরোয়ার্ডদের কাজটা সহজ নয় মানেন রাকিব। ওপেন প্লের পাশাপাশি অবশ্য বাংলাদেশ সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সেট পিসেও। অর্থাৎ গোলের জন্য সম্ভাব্য সব পথই খোলা রাখছে। সত্যজিৎ দাস রুপু মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘রক্ষণে কোনো ভুল করা যাবে না। তাতে বাড়তি একটা চাপ নিজেদের ওপরই আসবে।’ সব দিক দিয়ে শতভাগ নিখুঁত একটা ম্যাচ খেলেই তাই ফাইনালের রঙিন স্বপ্ন সত্যি করতে চায় বাংলাদেশ।



সাতদিনের সেরা