kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজ প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা

বিশ্বাসেই উড়ছে বাংলাদেশের স্বপ্নঘুড়ি

সনৎ বাবলা   

১ অক্টোবর, ২০২১ ০২:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বাসেই উড়ছে বাংলাদেশের স্বপ্নঘুড়ি

আবারও স্বপ্নের ওড়াউড়ি ফুটবলে। প্রত্যাশা ফাইনালে ঘুরপাক খেতে খেতে জামাল ভুঁইয়ার মুখে শিরোপা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। স্বপ্নঘুড়ি এবার বাস্তবের জমিনে ফেরা শুরু হচ্ছে আজ।

মালদ্বীপে আজ শুরু হচ্ছে সাফ ফুটবলের ত্রয়োদশ আসর। আগের ১২ আসরে মাত্র একবার চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেলেও বাংলাদেশ ফুটবল কয়েক দিন আগেও ছিল মর্যাদার আসনে। সমীহ করত আঞ্চলিক প্রতিপক্ষরা। এক দশক ধরে মর্যাদা হারিয়ে একদম এলেবেলে অবস্থা। কাকতালীয়ভাবে এই সময়টা আবার দেশের সেরা ফুটবল তারকা কাজী সালাউদ্দিনের শাসনকাল।

টানা চার সাফে গ্রুপের বেড়া টপকাতে পারেনি তাঁর দল। এদিকে তিনিই আবার সাফের সভাপতি, নিজের হাতে নিজের দলকে ট্রফি তুলে দেওয়ার স্বপ্ন তাঁর অধরাই থেকে গেছে। তাঁর দিক থেকে আহাজারিও কম নয়। আর প্রতিপক্ষে চলে আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু সামগ্রিক ফুটবলে হয় লজ্জাবোধ। দুই বছর পর পর দল বেঁধে বড় স্বপ্ন নিয়ে খেলতে যাওয়া আর মাথা নিচু করে ফেরা।

এই লজ্জা থেকে মুক্তির জন্য এবার সাফের আগে আগে ঘটে গেছে কোচ বদলের নাটকীয় ঘটনা। সাড়ে তিন বছরের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে-কে বিদায় করে জাতীয় দল তুলে দেওয়া হয়েছে অস্কার ব্রুজোনের হাতে। ক্লাব ফুটবলে দারুণ সফল এই স্প্যানিশ কোচ। তাঁর অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার মতো গালভরা বুলিতে জাতিকে না ভুলিয়ে কোচ হাঁটছেন বাস্তবতার নিরিখে। মালদ্বীপে কাল টুর্নামেন্ট শুরুর সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘আমি কখনো বলিনি, আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। আগেও বলেছি, এই টুর্নামেন্টে র্যাংকিংয়ে আমরা নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় দল। এখনই ফাইনালের কথা বলাটা হবে স্বপ্নের মতো, এখানে বাস্তবতা নেই। আমরা যেটা করতে পারি, সেটা হচ্ছে, আগামীকাল নিজেদের খেলাটা খেলব, ভালো শুরুর চেষ্টা করব এবং নতুন কৌশলে জয়ের চেষ্টা করব।’

আট দিন ট্রেনিংয়ের সম্বল নিয়ে একজন কোচ এর চেয়ে বেশি বলতে পারেন না। দলটিকে ট্রেনিংই করিয়েছেন, একটি ম্যাচও খেলানোর সুযোগ হয়নি। বলতে হলে অন্তত আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই ম্যাচের ওপরই তাঁর দলের নিয়তি অনেকখানি নির্ভর করছে এই টুর্নামেন্টে। র্যাংকিং ধরলে শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টের তলানিতে, কিন্তু কয়েকজন প্রবাসী লঙ্কানের যোগে হালের শ্রীলঙ্কার সামর্থ্যও বাড়বাড়ন্ত। ২০২০ সালে ঢাকায় ৩-০ গোলে তাদের হারানোর সুবাদে যে এই ম্যাচ জেতার গ্যারান্টি দেবে, সেই অবস্থাও নেই জামাল ভুঁইয়াদের। তবে কোচ দিচ্ছেন অ্যাটাকিং ফুটবলের গ্যারান্টি। তিন বছর ধরে যে দলটি সামনে এগোনোর খেলা ভুলে গিয়েছিল, তাদের গত আট দিনে অ্যাটাকিং ফুটবলের দীক্ষা দিয়েছেন অস্কার। অন্তত সমশক্তির দলের সঙ্গে তো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে, নইলে জিতবেই বা কী করে।

নতুন স্টাইলে বাংলাদেশ সাফের জন্য কতটা তৈরি হয়েছে, সেটা বোঝা যাবে আজকের ম্যাচে। তার আগ পর্যন্ত কোচের কথায় কথায় ভরসা রাখতে হবে, ‘নতুন কৌশলে খেলানোর জন্য আমি আত্মবিশ্বাসী এবং খেলোয়াড়রাও তাতে মানিয়ে নিয়েছে। ফিফা র্যাংকিং অনুযায়ী আমরা নিচের থেকে দ্বিতীয় দল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে আমরা এই মুহূর্তে সেরা দলের বলেই বিশ্বাস করি। আমরা পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এটা শুধু আমার কথা নয়, পুরো দলের মধ্যেই আমি এই মনোভাব দেখতে পাচ্ছি।’

কৌশলের পাঠে খানিকটা অপূর্ণতা থাকলেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর অস্কারের বাংলাদেশ। এই বিশ্বাস থেকেই হয়তো জামাল ভুঁইয়ার শিরোপা-কথন। আপাতভাবে বাড়াবাড়িই মনে হতে পারে। বাস্তবে হয়তো মিলছে না। কিন্তু কখনো কখনো বিশ্বাসেও মেলে দুষ্প্রাপ্য কিছু। 



সাতদিনের সেরা