kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নতুন কিংয়ের ঝাণ্ডা উড়ছে ফুটবলে

সনৎ বাবলা   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন কিংয়ের ঝাণ্ডা উড়ছে ফুটবলে

শুরুর অস্বস্তি ভুলে এ দেশে দারুণ মানিয়ে যাওয়া রবসন রোবিনহো এখন দারুণ খুশি। দলের শিরোপা ও নিজের অবিশ্বাস্য অর্জনের আনন্দ বুকে নিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান মেতেছেন শিরোপা উৎসবে, ‘নতুন জায়গা, তাই শুরুতে একটু অস্বস্তি হয়েছিল। বাংলাদেশ এখন চমৎকার, বসুন্ধরা কিংসের শিরোপায় আমার ২১টি গোল আছে। প্রথম এই উপমহাদেশে খেলে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছি, এটা অনেক আনন্দের।’ তাঁর চ্যালেঞ্জ ছিল এ দেশের প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে মেলে ধরা আর বসুন্ধরা কিংস খুঁজছিল ড্যানিয়েল কলিনদ্রেসের একজন যোগ্য উত্তরসূরি। ব্রাজিলিয়ানের দুপায়ের ভেলকি ও সর্বোচ্চ ২১ গোলের বিস্ফোরণে মিলে গেছে কিংসের অঙ্কও। সুবাদে নতুন ব্রাজিলিয়ান ব্র্যান্ডে সাফল্যে মোড়ানো আরেকটি মৌসুম পার করল বসুন্ধরা কিংস।

প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছিল তারা আগেই। শেষ ম্যাচে কাল আনুষ্ঠানিক উদযাপন হয়েছে তার। আবাহনীর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বসুন্ধরা কিংস টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে। পয়েন্টের জায়গায় কাল নতুন রেকর্ডের সুপ্ত বাসনা ছিল তাদের। ২০০৯-১০ মৌসুমে আবাহনীর সর্বোচ্চ ৬৭ পয়েন্ট টপকে যাওয়ার রেকর্ড ভাঙার। ড্রয়ে সেই রেকর্ড অক্ষত তবে পুরো মৌসুমে অবিশ্বাস্য দাপটের নতুন এক গল্প রচনা করেছে কিংস। তার জন্য গল্পকার অস্কার ব্রুজোন কৃতিত্ব দিচ্ছেন গল্পের সব চরিত্রগুলোকে, ‘এই সাফল্য রাতারাতি হয়নি। আগের মৌসুমের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্লাব ম্যানেজমেন্টের পেশাদার মনোভাব, খেলোয়াড় বাছাই এবং করোনা মহামারির মধ্যেও লক্ষ্যে অটুট থাকা। প্রতিটি ম্যাচে আমি সেরা দল নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করেছি, আর ফুটবলাররা তাদের সর্বোচ্চ দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যেতে পেরেছি একটু একটু করে।’ করোনায় বিশ্ব বদলে গেলেও কিংসের স্বপ্ন বদলায়নি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে ফুটবলাররা গোপনে ট্রেনিং করে গেছেন। তারই ফল হলো, ২৪ ম্যাচে মাত্র একটি হার, চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে। এ ছাড়া দুটি ড্র বাদ দিলে লম্বা লিগে ২১ ম্যাচ জেতা মোটেও সহজ কর্ম নয়।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে তাদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি। প্রথম লেগে শেখ জামালের সঙ্গে ম্যাচটি ড্র হয়েছিল দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর, আর ফিরতি লেগে চ্যাম্পিয়নরা ২-১ গোলে হেরে যায় চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে। তবে প্রথম লেগে ঢাকা আবাহনীকে ৪-১ গোলে হারের লজ্জায় ভাসিয়ে শিরোপার স্বপ্ন ফিকে করে দেয়। এর পরও কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোনের চোখে ‘আবাহনী সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ’। বোঝাই যায়, এ ম্যাচ নিয়েই তাঁর টেনশন বেশি। কালকের ম্যাচে ২৮ মিনিটে কিংস পিছিয়ে পড়ে তপুর আত্মঘাতী গোলে। আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান রাফায়েলের শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে এই ডিফেন্ডার বল জমা করে দেন নিজেদের পোস্টে। দুই মিনিট বাদে আরেক গোলের সুযোগ তৈরি করেন সানডে চিজোবা। ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকেও বল পোস্টে রাখতে পারেননি আবাহনীর এই নাইজেরিয়ান। তাতে ম্যাচে ফেরাটা খুব কঠিন হয়নি কিংসের। যাঁর ভুলে পেছানো সেই তপুর হেডেই ৩৭ মিনিটে তারা ম্যাচে ফেরে। জোনাথনের ফ্রি কিকে তাঁর হেড শহীদুলকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় জালে। বিরতির পর বয়সের ভারে নেতিয়ে পড়া আবাহনী আর দাঁড়াতেই পারেনি চ্যাম্পিয়নদের সামনে। দারুণ কিছু সেভে আকাশি-নীলরা শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা ধরে রাখে, তবে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে তৃতীয়। ৫২ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স আপ হয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। এই পরাশক্তিদের ছাড়িয়ে আবারও ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসুন্ধরা কিংস। নতুন ‘কিং’-এর ঝাণ্ডা উড়ছে দেশের ফুটবলে।



সাতদিনের সেরা