kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫

প্রস্তুতি এখনো শুরুই হয়নি!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০২:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রস্তুতি এখনো শুরুই হয়নি!

মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ১৩টি ম্যাচ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এত ম্যাচ খেলার সুযোগ আর কোনো দলই পায়নি, যা পেয়েছে বাংলাদেশ। সুবাদে আগামী ৪ অক্টোবর ওমানের পথে রওনা হওয়ার আগে সবচেয়ে জমাট প্রস্তুতি মাহমুদ উল্লাহর দলেরই হয়ে যাওয়ার কথা।

কিন্তু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক কিছুই হয় না। যেমন এত ম্যাচ খেলেও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নাকি এখনো শুরুই হয়নি। তা শুরু হতেও ঢের বাকি। অন্তত ওমানে না যাওয়া পর্যন্ত সে প্রস্তুতি পর্ব ঝুলেও থাকছে। তা-ও আবার যে-সে নন, এ কথা বলছেন খোদ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। অক্টোবর-নভেম্বরে ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে বসে তাঁকে বলতে শোনা গেল ঠিক এ কথাই, ‘বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কিন্তু ওমানে গিয়ে শুরু হবে।’

kalerkantho

এই সাবেক অধিনায়কের বক্তব্যে অনুমেয় যে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও তা বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সহায়ক হবে বলে মনে করছে না বাংলাদেশ শিবিরও। কারণ দল জিতছে, কিন্তু যে উইকেটে এবং যেভাবে, তা টি-টোয়েন্টির রোমাঞ্চ ছড়াতে পারছে না একটুও। বরং বাংলাদেশের একেকটি জয়ে এ প্রশ্নই উচ্চকিত হয়ে চলেছে যে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আসলে আদৌ কতটা হচ্ছে? মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ধীরগতির টার্নিং উইকেট আর এর অসমান বাউন্সে ভিনদেশিদের মতো স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরাও ম্যাচের পর ম্যাচ এমন ভুগেছেন যে সেই অর্থে সামনের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মহড়াই হয়নি তাঁদের।

তবে ম্যাচ জিতে জিতে যা হয়েছে, তা-ও ফেলনা নয়। মিনহাজুলের মতে, টানা তিনটি সিরিজ জয়ে আরেকটি কাজের কাজও হচ্ছে। বিশ্ব আসরে ভালো কিছু করতে গেলে ভরপুর আত্মবিশ্বাসও নিয়ে যেতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার পর কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে সেই বিশ্বাসের জ্বালানিই মাহমুদ উল্লাহরা যথাসম্ভব ভরে নিয়েছেন, যা বিশ্ব আসরে ভালো শুরুর ক্ষেত্রে অমূল্য হয়ে উঠবে বলেও বিশ্বাস প্রধান নির্বাচকের, ‘দেখুন, যে সংস্করণেই খেলি না কেন, জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। হারতে থাকলে কিন্তু মানসিকতা এমনিতেই নেমে যায়। সেই হিসেবে জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো জায়গায় আরেকটি সিরিজ বা টুর্নামেন্ট ভালোভাবে খেলা যায়।’ 

আজ কিউইদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ থেকেও বিশ্বাসের জ্বালানির মজুদ বাড়িয়ে নিয়ে ওমানে প্রস্তুতি শুরুর অপেক্ষায় থাকতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে মিরপুরের উইকেট পাওয়া যাবে না বলেই সে অপেক্ষা, ‘দেশে আমরা যেমন উইকেটে খেলি, বাইরে কিন্তু সে রকম উইকেটে খেলি না। দেশে দুটি পেসার খেলালে বাইরে তিনটাও খেলাই।’ বিশ্বকাপ দল গড়তে গিয়ে সে ভাবনাই প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানালেন মিনহাজুল, ‘অভিজ্ঞতা, পারফরম্যান্সসহ সব দিকই দেখা হয়। পাশাপাশি এটিও বিবেচনা করা হয় যে বিদেশে কে কেমন করতে পারে। বিদেশে কে ভালো পারফরম করতে পারে, তা চিন্তা করা হয়। কারণ কন্ডিশন-উইকেট দেশে এক রকম, বিদেশে আরেক রকম।’

সব দিক ভেবেই গড়া দল বিশ্বকাপে ভালো কিছু করবে বলেও আশ্বস্ত মিনহাজুলরা, ‘এখানে ক্রিকেটারদের যেভাবে পাচ্ছি ও অনুশীলনে দেখছি, আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ওদের ওপরে। আমরা মনে করছি, ওরা তৈরি (বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার জন্য)।’ বিশ্বকাপে প্রথম পর্ব নামের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের সব খেলাই ওমানে। সেখানে ‘বি’ গ্রুপে ১৭ অক্টোবর স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু হবে মাহমুদ উল্লাহদের। পরের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওমান ও পাপুয়া নিউ গিনি। প্রথম পর্ব উতরাতে পারলে সুপার টুয়েলভ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান।

একটু আগেভাগেই ওমানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রাখা বাংলাদেশ আগে সেখানকার উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে অন্ধকার থেকেও বেরিয়ে আসতে চায় বলে জানালেন মিনহাজুল, ‘আমরা কখনোই ওমানে খেলিনি। ওখানে না যাওয়া পর্যন্ত কী পরিকল্পনায় খেলব, বোঝা মুশকিল। কাজেই ওখানে গেলেই শুরু হবে আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ওখানে গিয়ে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ যখন খেলব, বিশ্বকাপের বিষয়টি তখন থেকেই শুরু হবে।’



সাতদিনের সেরা