kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

উল্টো বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ড : ২০ ওভারে ১২৮/৫, বাংলাদেশ : ১৯.৪ ওভারে ৭৬, ফল : নিউজিল্যান্ড ৫২ রানে জয়ী

সাইদুজ্জামান   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:১৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উল্টো বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

শূন্য রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়ছেন সাকিব আল হাসান। ছবি : মীর ফরিদ

এমনিতেই মিরপুরের উইকেটে সাদা বলের ক্রিকেট দেখে আনন্দ নেই। আর টি-টোয়েন্টিতে দর্শক আরো বেশি করে ধুন্ধুমার ব্যাটিং দেখতে চায়। তবু নিজের দল জিতছে যখন, তখন ঘুমপাড়ানি ক্রিকেটেও মজা খুঁজে নিয়েছিল দেশের ক্রিকেটজনতা। কিন্তু সেই জনতাই আগ্রাসী। সমালোচনা শুধু ৫২ রানে হারের ম্যাচে সীমাবদ্ধ নয়, মানসম্পন্ন উইকেট আর দলের বিপক্ষে মাহমুদ উল্লাহদের সম্ভাব্য করুণ ছবিও আঁকা হয়ে গেছে।

ব্যাটিং ৪-১ ব্যবধানে জেতা অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও ভালো হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পরও ব্যাটিং নিয়ে অস্বস্তিটা ছিল। গতকাল হাজার ওয়াটের আলোর নিচে অস্বস্তির পেছনের কারণ প্রকাশ হয়ে গেছে।

জয়ের জন্য মামুলি ১২৯ রান করতে যে নাভিশ্বাস উঠবে, সেটি বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই বোঝা গিয়েছিল।

স্কোরকার্ডে এমন হারের সবচেয়ে বেশি দায় অর্পিত করা আছে মুশফিকুর রহিমের কাঁধে। এই ফরম্যাটে ৩৭ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকা তো কাজের কথা নয়! অবশ্যই মিডল অর্ডারের কারোর কাছ থেকে এমনটা প্রত্যাশিত নয়, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানটি যখন বিজিত দলের। তবে গতকাল বাংলাদেশ দলের কোনো ব্যাটসম্যানই হারের দায় এড়াতে পারবেন না।

সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা লিটন দাসের কথাই ধরুন। কিউই অফস্পিনার কোল ম্যাককনিকে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন তিনি নিজের ভুলে। ইনিংস সূচনায় তাঁর সঙ্গী নাঈম শেখের গোলমাল ফুটওয়ার্কে। সোজা ব্যাটে দুটি বাউন্ডারিতে ১৩ রান করে নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রর বল স্টাম্পে টেনে এনেছেন তিনি। খেলেছেন ১৯ বল। তার মানে বাউন্ডারি ছাড়া বাকি ৫ রান করেছেন তিনি ১৫ বলে!

এই সংকট নাঈমের পুরনো। আর তা সংক্রমণে রূপ নিয়েছে পুরো দলে। নিউজিল্যান্ড স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত মনে হয়েছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। নাঈমের সমস্যা মুশফিকের নেই, প্রয়োজনে প্রান্ত বদল করে রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জানেন। সেই তিনি নিজের জ্ঞাত-অজ্ঞাত সব শট খেলেও অপরাজিত থেকেছেন ৫৪.০৫ স্ট্রাইক রেট নিয়ে। অন্যরাও বাদ যাবেন কেন? সাকিব আল হাসান মোট দুই বল খেলেছেন। দুইবারই আউট হতে পারতেন। ক্যারিয়ারসেরা ১৬ রানে ৪ উইকেট নেওয়া এজাজ প্যাটেলের প্রথম বল চালাতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। পরেরটি ডাউন দ্য উইকেটে চালিয়ে খেলে সাকিব ক্যাচ দিয়েছেন লং অনে। অবিশ্বাস্য ম্যাচই গেছে সাকিবের। এই ফরম্যাটে বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার এবং ভাঙার সুযোগ ছিল। কিন্তু উইকেটই পাননি, উল্টো একটি ক্যাচ ফেলেছেন। এরপর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাটও রানহীন!

তো, ২ রানের ব্যবধানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিবের পতনের পর ভোল পাল্টে যায় ম্যাচের। মনে হচ্ছিল যেন মিরপুরে নয়, খেলা হচ্ছে অকল্যান্ডে! না, মিরপুরের ট্রেডমার্ক উইকেটই। তবে সেটি তখন বাংলাদেশ নয়, যেন নিউজিল্যান্ডের হোম গ্রাউন্ড। এজাজ আর ম্যাককনির সঙ্গে তৃতীয় স্পিনার নির্দিষ্ট একটা লেন্থে বল ফেলেছেন। কিউই বোলিং ইউনিটের পেসাররাও গতিবৈচিত্র্যে এমন একটা ইন্দ্রজাল তৈরি করেন, যে জালে জড়িয়ে বাংলাদেশ সম্ভাবনার সলতে আর জ্বালতে পারেননি। তা-ও ভালো যে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা এড়ানো গেছে। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ৭০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ, আপাতত সেটি অক্ষত আছে! অবশ্য দেশের মাটিতে গতকালের ৭৬ রানই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ইনিংস।

দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তারও আগে সফরকারী দলের নিখুঁত পরিকল্পনা করার স্তুতি শোনা গিয়েছিল বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের কণ্ঠে। তবে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিজের শততম টি-টোয়েন্টিতেই কিউইরা তাদের বিদ্যা জাহির করবে, তা নিশ্চয় আশা করেননি মাহমুদ। সেটির শুরু ম্যাচের শুরু থেকেই।

কভিড নেগেটিভ হয়ে মাত্রই এক বেলা অনুশীলন করেছিলেন ফিন অ্যালেন। তখনই অবশ্য জানিয়েছিলেন যে নিজের ব্যাটিং দর্শন থেকে পিছু হটবেন না। প্রথম ওভারে দুটি, পরেরটিতে একটি বাউন্ডারিতে ফিনের আগ্রাসী মূর্তিটাই দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম বলটাই ছিল কাটার, টাইমিংয়ের গোলমালে সেটি ফিন তুলে দেন মিড অফে। তাতে সফরকারীদের ব্যাটিং ধারায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। রাচিন এবং ৩ নম্বরে নামা উইল ইয়াং মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৩০ রান তোলার পর জোর ধাক্কা খায় কিউই ইনিংস। সাইফউদ্দিন দুই বলের ব্যবধানে ইয়াং ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর রাচিনকে তুলে নেন মাহমুদ। পরের ওভারে দলকে ৬২ রানে রেখে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথামের বিদায়ে মনে হচ্ছিল দুই ম্যাচ হাতে রেখে বাংলাদেশের সিরিজ জয় অবধারিত।

ম্যাচ শেষে মনে হচ্ছে ভাগ্য বদল হয়েছে নিউজিল্যান্ড ইনিংসের শেষ ৯ ওভারে, হেনরি নিকোলস ও টম ব্লান্ডেলের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিতে। তাঁরা দ্রুত বুঝে ফেলেন এই উইকেটে নিজেদের কাজটা লোয়ার অর্ডারের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে লাভ নেই। তাই শুরুতে রয়েসয়ে খেলেছেন। পরে যে তুলে তুলে মেরেছেন, তা-ও নয়। মুস্তাফিজের করা শেষ দুই ওভারেই নিকোলস ও ব্লান্ডেল ২৪ রান তুলেছেন স্মার্ট ক্রিকেট খেলে। এরপর বোলিং চাতুর্যে আরেকবার বাংলাদেশকে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াতেও কি এদিন বাংলাদেশকে পেছনে ফেলেছে সফরকারীরা? সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে এই প্রশ্নেরও উত্তর মিলে যাবে। তবে ঝটিতি ব্যাটিং-বোলিংয়ে উন্নতি ঘটাতে না পারলে প্রশ্নের উত্তরটা মাহমুদের দলের জন্য খুব প্রীতিকর না-ও হতে পারে!



সাতদিনের সেরা