kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

আমি অনেকদিন ধরে ম্যাচ খেলছি না : তাইজুল

অনলাইন ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমি অনেকদিন ধরে ম্যাচ খেলছি না : তাইজুল

বাংলাদেশের যে গুটিকয়েক ক্রিকেটারের গায়ে 'টেস্ট স্পেশালিস্ট' তকমা লেগে গেছে, তাইজুল ইসলাম তাদের অন্যতম। বাংলাদেশ এমনিতেই টেস্ট খেলার সুযোগ কম পায়; তাই একটা ম্যাচের জন্য তাইজুলকেও চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকতে হয়। তাইজুল গত মে মাসে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা পোশঅকে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ৯ ওয়ানডের ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২০ সালে। আগের বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে বাড়তি খেলোয়াড় প্রয়োজন হওয়ায় তাইজুলকে নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলে রাখা হয়েছে। কিন্তু তার মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আজ তাইজুল জানালেন দলে সুযোগ না পাওয়ার অনুভূতির কথা। বিসিবির পাঠানো ভিডিওবার্তায় তাইজুল বলেন, 'আসলে আমি অনেকদিন ধরে ম্যাচ খেলছি না। বিগত তিন-চার মাসে আমাদের অনেকগুলো ম্যাচও হয়ে গেছে। এর মাঝে টিম কম্বিনেশন হোক আর অন্য কোনো কারণেই হোক আমার খেলা হয়নি। এটা নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। যখনই সুযোগ পাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।'

তাইজুল আরও বলেন, 'আমি আমার কাজগুলো যথাযথভাবে নিজের সাধ্যমতো করে যাচ্ছি। সত্যি কথা বলতে কী, নিজের চাইতে আমি দেশটাকে বড় করে দেখি। দেশ ভালো করছে, এটা আমার কাছে ভালো লাগার বিষয়। দলে আমার যারা প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন, তারা সবাই ভালো করছেন। আমি আশা করি সামনেও তারা অনেক ভালো করবেন। আমি যখনই সুযোগ পাব ভালো করার চেষ্টা করব এবং বাংলাদেশকে ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব।'

এদেশে দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা কোচদের সংস্পর্শ পান না বলেই চলে। তাদের বেশ কষ্ট করেই দলে ফিরতে হয়। তাইজুলের কথায় যেন আবারও ফুটে উঠলে এই দৈন্যতা, 'দলের সঙ্গে থাকায় আমি যে পরিবেশ পেয়েছি, বাইরে থাকলে সেটা পেতাম না। এখানে কোচরা আছেন, যেমন রঙ্গনা হেরাথ এবং ব্যাটিং কোচ সবাই আমাকে অনেক সহযোগিতা করছেন। আমি যখন যেটা চাচ্ছি, তখনই সেটা পাচ্ছি। আমার মনে হয়, সামনের দিনগুলোর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে এটা খুব ভালো হচ্ছে। টিমমেটদের সাপোর্ট সবসময় পেয়ে এসেছি এবং এখনও পাচ্ছি। আমিও সেভাবে সবসময় সাপোর্টটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। জানি না কতটুকু দিতে পারছি। আমি সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।'

সেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকেই ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনায় মিরপুর শেরেবাংলার উইকেট। অবশ্যই সবসময়ই এই মাঠের উইকেট স্পিন সহায়ক এবং স্লো। কিন্তু বর্ষাকাল থাকায় অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড সিরিজে এই উইকেটের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়েছে। অজি সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও প্রথম দুই ম্যাচে জয় এসেছে। ঘূর্ণি সহায়ক উইকেট বলেই যে বাংলাদেশি স্পিনাররা মুড়ি-মুড়কির মতো শিকার ধরছে- এমনটা মনে করেন না অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। আজ বিসিবির ভিডিওবার্তায় তাইজুল বলেন, 'আমরা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটা ভালোভাবেই জিতেছি। দ্বিতীয় ম্যাচটা অনেক কঠিন ছিল। মুস্তাফিজও দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আশা করি সামনের ম্যাচটা জিতে আমরা সিরিজ জয় করে নেব। আমাদের যে প্রসেস, সেটা যদি ঠিক রাখি তাহলে ভালো করব। জিম্বাবুয়ের কন্ডিশন আমাদের জন্য অত সহজ ছিল না। তারপরেও আমাদের রেগুলার প্র্যাকটিসের কারণে ব্যাটসম্যান-বোলাররা ভালো করায় ম্যাচগুলো জিততে পেরেছি।' তাইজুল আরও বলেন, 'সেখান থেকে আত্মবিশ্বাস পেয়ে দেশে ফিরে যখন আলাদা কন্ডিশন পেলাম, অস্ট্রেলিয়ার জন্য যেমন কঠিন ছিল আমাদের জন্যও কঠিন ছিল। তারপরেও আমাদের ব্যাটসম্যান-বোলাররা ভালো করায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে পেরেছি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও দুই ম্যাচ জিতলাম। আমাদের দলে সবার মাঝে এখন দারুণ আত্মবিশ্বাস আছে। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। দলের সবার মাঝেই আত্মবিশ্বাস আছে। সবাই একটা দল হিসেবে খেলছে। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে যে, সবাই নিজের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করছে।' সমালোচকরা বলেন, স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে সেটার ফায়দা নিচ্ছে বাংলাদেশি স্পিনাররা। তাইজুল এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, 'স্পিন সহায়ক উইকেট হলেই যে আপনি পাঁচ-সাতটা উইকেট পাবেন এটা ভুল ধারণা। আপনি যতই স্পিন উইকেটে খেলেন বা ফ্লাট উইকেটে খেলেন, ঠিক জায়গায় বল ফেলাটা খুব জরুরি। আমাদের বোলাররা নিয়মের মাঝে থেকে ভালো জায়গায় নিয়মিত বল করে যাচ্ছে। এজন্য সাকিব ভাই, নাসুম, মেহেদি এবং পেস বোলাররা সবাই ভালো করে যাচ্ছে। দলের জয়ে অবদান রাখছে।'



সাতদিনের সেরা