kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন’ লাইভ

যারা আমাকে গতিদানব বলে তারা ক্রিকেটটাই কম বোঝে : খালেদ মাহমুদ সুজন

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ আগস্ট, ২০২১ ১১:৪৫ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



যারা আমাকে গতিদানব বলে তারা ক্রিকেটটাই কম বোঝে : খালেদ মাহমুদ সুজন

ফাইল ছবি

কালের কণ্ঠ ও বীকনের যৌথ উদ্যোগে 'সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন' স্লোগানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়ে প্রায় ৫৬ মিনিট ধরে চলে। কালের কণ্ঠ'র ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব ও কালের কণ্ঠ'র ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখানো হয়।

'সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন' শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিসিবির বর্তমান পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন কালের কণ্ঠ'র স্পোর্টস এডিটর এ টি এম সাইদুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে হাইজিনেক্স।

কালের কণ্ঠ : খালেদ মাহমুদ সুজন, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য। শুভ সন্ধ্যা।

খালেদ মাহমুদ সুজন : শুভ সন্ধ্যা সাইদুজ্জামান ভাই। ধন্যবাদ আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।

কালের কণ্ঠ : খালেদ মাহমুদ, আপনার নাম তো সবাই খালেদ মাহমুদ জানে। কিন্তু আমি (সাইদুজ্জামান) যে নামে পরিচিত আপনার সঙ্গে, আপনার সঙ্গে তো আমার পরিচয় অনেক দিনের; ঠিক মনেও নেই কত দিন আগের। এখন আমরা সবাই আধুনিক হয়ে গেছি। আপনাকে খালেদ মাহমুদ বলেই কথা বলি। আসলে আলোচনা ঠিক কোন জায়গা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না। কারণ, অনেক ঘটনা মনে পড়ছে। নেপাল থেকেই শুরু করি। ১৯৯৮ সালে যখন আপনি নেপাল থেকে ফিরলেন, এসিসির একটা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ জিতল। আপনি বোধ হয় ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিলেন? জাতীয় দলের হয়ে সেটাই আপনার প্রথম লাইমলাইটে আসা কি না?

খালেদ মাহমুদ : এক রকম হয়তো বা তা-ই। তবে এর আগেও আমি বাংলাদেশ দলে খেলেছিলাম। তবে ওই টুর্নামেন্টটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই টুর্নামেন্টে যাওয়ার প্রাক্কালে আমার একটা ইনজুরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস আমি মাঠের বাইরে ছিলাম। তবে ওই সময় আমি বাসায় ফিরিনি। আমি বিকেএসপির ক্যাম্পেই ছিলাম। আমার পা মচকে গিয়েছিল। 

সে কারণে আমার দৌড়াতে সমস্যা হতো। আমার মনে আছে, সিরাজ ভাই ছিলেন সিলেক্টর। ওই আমার ফিটনেস টেস্ট দেওয়া হলো। ওই ফিটনেস টেস্টে আমি পাস করলাম। আমাকে অনেক রকমভাবে দৌড়াতে বলা হলো, আমি ওইভাবে দৌড়ানোর পর যখন ফিরলাম, তারপর সিলেক্ট হলাম। ওই টুর্নামেন্টটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার ক্যারিয়ারের জন্য। বাদ পড়ে গেলে হয়তো বা অনেক পিছিয়ে যেতাম। আল্লাহর কাছে অনেক ধন্যবাদ যে আমি তখন সময়মতো ফিট হতে পেরেছিলাম এবং ওই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরেছিলাম।

কালের কণ্ঠ : আরেকটা ম্যাচ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, সেটা আপনার অধিনায়কত্বে টেস্ট ম্যাচ; ২০০৩ সালে মুলতানে ওয়ানডে টেস্ট ম্যাচ। একটা হলো অসম্ভব আনন্দের, একটা অসম্ভব দুঃখের, এর মাঝখানে ঢাকায় এশিয়া কাপ হলো ২০০০ সালে। সেখানেও পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটা বোধ হয় আপনার জন্য খুব একটা আনন্দদায়ক না। আপনার জীবনের স্মরণীয় ঘটনাগুলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেটা শুধু ব্যাটে-বলে লড়াইয়ে না, পাকিস্তানের সঙ্গে খেললেই আপনি উজ্জীবিত থাকতেন। অনেক বড় টিম পাকিস্তান, সেই বিষয়টিই কি উজ্জীবিত করত?

খালেদ মাহমুদ : না, সে রকম কিছু না। ধরেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যখনই খেলা আসত, তখন বাড়তি কেমিস্ট্রি বলতে গেলে হয়তো বা ৭১ সালে জন্ম বলেই ওদের সঙ্গে উত্তেজনা বেশি কি না জানি না। কিন্তু ওদের সঙ্গে হারতে চাইতাম না কোনো সময়। শুধু পাকিস্তান না, বাংলাদেশের কোনো পাড়ার খেলায়ও আমি কোনো সময় হারতে চাইতাম না। এটা সব সময় ছিল আমার ভেতরে। আর তখন পাকিস্তান বড় দল। ওরা স্লেজিং করে; তবে আমার কথা হলো- মাঠে তো বড় ছোট নাই। ওরা অবশ্যই অভিজ্ঞ দল, অনেক বড় দল, আর আমরা তো একেবারে নতুন। যখন প্রথমবার খেলি ওদের সঙ্গে, আমি মাঠে সব সময় অ্যাগ্রিসিভনেসটা রাখার চেষ্টা করতাম। পাকিস্তানের সঙ্গে খেলার সময় বেশির ভাগ সময় আমি অ্যাগ্রিসিভ ছিলাম। টিভিতে দেখা যায়নি। 

কিন্তু একটা ওভার ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে আমার অ্যাগ্রিসিভনেস অনেক বেশি হয়েছিল। পুরো ওভারটাতেই সেটা হয়েছিল। একপর্যায়ে ওয়াসিম আকরাম এসে আমাকে বলেছিল- কী করতেছিস, এ রকম করিস না, খামাখা মন খারাপ হবে, তুই রাগ করবি। আমি বললাম, আপনি আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বইলেন না, আপনি আমার কাছে আইসেন না। আমি পুরো ওভার বল করার পর ওয়াসিম আকরাম আমাকে প্রচুর গালাগালি করেছে মাঠে। সবচেয়ে সুবিধা হলো, এর পরেই রাগ করতে করতে তিনি আউট হলেন। তখন আমরা বলতে গেলে ম্যাচটা অনেকটাই জিতে গেছি। এটা খেলারই অংশ। ছোট দলের একজন খেলোয়াড় গালি দিচ্ছে, অখ্যাত একটা দলের প্লেয়ার চোখ দেখাচ্ছে; আমি গালি দিইনি কোনো, শুধু চোখ দেখিয়েছি। সেটা ওয়াশিম আকরামের মতো বড় প্লেয়ার কোনোভাবেই নিতে পারেনি। সে কারণে আউট হওয়ার আগেও আমাদের গালিগালাজ করছিল সত্যি কথা। 

কালের কণ্ঠ : আপনি যে সময়ে ক্রিকেট খেলতেন, তখন শ্রীলঙ্কার ফার্নান্দোর প্রতিও এক্সট্রা রিসপেক্ট থাকত। ছোট দলগুলোর বড় দলগুলোর প্রতি এক ধরনের আগ্রহ থাকে। যাদের এত দিন টিভিতে দেখেছি, তাদের বিপক্ষে খেলছি। ঢাকার মাঠেও দেখা গেছে- জেতার জন্য যা যা করা দরকার, যে আগ্রাসনটা থাকা দরকার তা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিল। সেটা ওয়াসিম আকরামের চোখে চোখ রেখে কথা বলা, ইনজামামের সঙ্গে কথা বলা, এটা কি একজনের দেওয়া টিপসের কারণে নাকি প্রকৃতিগতভাবে আপনার মধ্যে আছে?

খালেদ মাহমুদ : বাইন্যাচারালি এটা আমার মধ্যে ছিল। আমি যখন ঢাকায় লিগ খেলতাম, তখনো আমি অনেক অ্যাগ্রিসিভ ছিলাম।  ছোটবেলায় সিটি ক্লাব মাঠে সেকেন্ড ডিভিশনে একটা খেলা ছিল। আমার ওই দিন আবার একটা পরীক্ষা ছিল কলেজে। তখন আমাকে খেলতেও হয়েছে, পরীক্ষাও দিতে হয়েছে। ওই সময় একজন সিনিয়র ভদ্রলোক নাম না বলি- উনি আমাকে একটা কথা বলেছিলেন। সেই ম্যাচে আমি মাত্র ব্যাটিং করে আউট হয়ে গেছি। আমি ওপেনিং করেছিলাম। আমি তখন ওই টিমের ক্যাপ্টেন ছিলাম। মাঠ থেকে বের হয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আমি অ্যাগ্রিসিভ হয়েছিলাম। ওই ভদ্রলোক তখন জানতে চেয়েছেন, কোথায় গেল, এমনভাবে রাগ করে গেল। আমাদের এক সিনিয়র ভাই তখন ওনাকে বলেছেন, আপনি  যে এমন রাগারাগি করলেন, পাড়ায় মনে হয় ছেলেদের ডাকতে গেছে, আপনাকে মনে হয় মারবে। 

আসলে সে রকম কিছু না, উনিও মজা করেছিলেন। ওই ম্যাচেও আমি খুব অ্যাগ্রিসিভ ছিলাম এবং আমার মনে আছে ম্যাচটা জিতেছিলাম। ওনাকে আমি খারাপ কোনো গালি দিইনি, কিন্তু আমি খুব অ্যাগ্রিসিভ ছিলাম যে কেন উনি আমাকে এই কথাটা বললেন। মাঠে গেলে আমি সিনিয়র জুনিয়র মানতাম না তখন। আমার কথা হলো- মাঠে তুমিও এসেছ খেলতে আমিও এসেছি খেলতে, আমার দলকে জেতানোর জন্য যেটুকু করার দরকার তা করব। কিন্তু আমি কোনো সময় কারো সঙ্গে বেয়াদবি করিনি, ক্রিকেটের ভাষায় যতটুকু করা যায়, যতখানি অ্যাগ্রিসিভ থাকা যায় আর কি। আমি আসলে কোনো সময় হারতে চাইতাম না। ইমরুল কায়েস আমাকে সব সময় বলে, প্রথমবার আমি ইমরুল কায়েসের সঙ্গে খেলেছি ও মনে হয় ভিক্টোরিয়ার হয়ে খেলেছিল। আমার একটা শট বলে ইমরুল কায়েস চার মারল, আমি বললাম- এই তুই কে রে? মানে আমি ওকে কোনো দিন দেখিনি। পরের বলে ও ছয় মারে। 

আমার তখন তো মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে। আমি আবার ওর কাছে যাই। আমি রাগ করি তখন, রাগ করে দুইটা কথা বলি, ইমরুল তখন হেসে দেয়। উল্টো কোথায় আমার কথা শুনে রাগ করবে, সে হেসে দেয়। সে বলছে যে, ভাই আমার নাম ইমরুল, আমার বাড়ি কুষ্টিয়া, আমি এ বছরই প্রথম খেলছি। আমি বলি- ও আচ্ছা। যাই হোক, আমি ইমরুলকে প্রচুর আদর করি। ওই যে বললাম না, ইমরুল এত জুনিয়র, কিন্তু জুনিয়র সিনিয়র আমি মাঠে রাখতাম না কোনো সময়। খেলার বাইরে আমরা সবাই ফ্রেন্ডস। 

কালের কণ্ঠ : আপনি বিরোধীপক্ষের চোখে চোখ রেখে এ রকম করেন, যেটা মাঠে দেখা গেছে। কিন্তু আপনার রাগের শিকার আপনার টিমমেটরাই হয়েছে যুগ যুগ ধরে। 

খালেদ মাহমুদ : এই অভিযোগ আছে আমার বিরুদ্ধে। আনোয়ার হোসেন মনির আর তালহা যুবায়ের; এরা যখন ঢাকা মেট্রোর জন্য খেলে। গালি খাওয়ার কারণও ছিল। গালি খাওয়ার কাজ করত বলে গালি দিতাম। মানুষ তো স্লিপ এডজাস্ট করে না। বলে যে ফার্স্ট স্লিপে দাঁড়াও, সেকেন্ড স্লিপে দাঁড়াও। আমি এডজাস্ট করে নিতাম। বলতাম যে আরেকটু বাঁয়ে আরেকটু বাঁয়ে- এভাবে এডজাস্ট করতাম। আমার মনে আছে- ফার্স্ট ওভারে প্রথম তিন বলে তিনটা ক্যাচ গেছে এবং ড্রপ পড়েছে। তো তখন বকা দিতাম। আমার একটা দোষ যে খেলা জেতার জন্য তখন আমি অন্য কিছু বুঝতাম না। সে কারণে আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ওই সময় মনির এবং তালহা জোরে বল করত। ওদের দিয়ে আমি বাউন্সার মারাতাম; আমি বুঝতাম না যে, ওরা ইয়াং, ওদের ইনজুরি হতে পারে, কোমরে ব্যথা পেতে পারে। আমার তখন এসব চিন্তা ছিল না, আমার চিন্তা হলো ম্যাচ জিততে হবে। যখন বাউন্সার মারতে বলতাম, বাউন্সার মারতে না পারলে বকা দিতাম। কিন্তু তারা জানত যে, আমি যেটুকুই বলি মাঠের মধ্যে বলতাম, মাঠের বাইরে ছোট হোক বড় হোক আমি সবারই ভালো বন্ধু।

কালের কণ্ঠ : টিমমেটদের সঙ্গে মাঠে বা ড্রেসিংরুমে বকাবকির বিষয়টা কিন্তু ইতিবাচকভাবেই নেন আপনার টিমমেটরা। তারা চিন্তা করে আপনি ইনভল্ভড হলে কিংবা বকাবকি করলে সেটা ভালোর জন্যই করেন। আপনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। মুহাম্মদ রফিক, উনি সহজ-সরল মানুষ, কিন্তু তাকে হ্যান্ডেল করাটা কঠিন। আপনি তাকে কখনো মাঠে বকা দিয়েছেন? মুলতান টেস্টের সময় বোধ হয় তাকে কিছু একটা বলেছিলেন।

খালেদ মাহমুদ : আসলে রফিক এমন একজন প্লেয়ার ছিল, যখন তাকে বলটা হাতে দিতাম, অধিনায়কের যে আত্মবিশ্বাস থাকে একজন প্লেয়ারের ওপর, আমার পুরো আত্মবিশ্বাস ছিল যে সে পারবে। রফিককে যদি বলতাম পয়সার মধ্যে বল ফেল, সে বল ফেলত। এ রকম কনফিডেন্ট ছিল সত্যি কথা বলতে গেলে। মুলতান টেস্টে আমি তার ওপর একটু রাগ করেছি। আমি তাকে বলেছি, আমরা জেতার জন্য খেলছি, ম্যাচ ড্র করব নাকি? আমি নিশ্চিত ছিলাম যে রফিককে মারার মতো ব্যাটসম্যান নাই। পরে সে আমার কথা মেনেছে। কিন্তু ওই সময় তার সঙ্গে একটু ... রফিককে বলেছি কোনোভাবেই দিব না, তুই পারবি, তুই ভালোভাবে খেললে আমরা ম্যাচটা জিতব; এটাই। রফিককে হ্যান্ডল করা ইজি কিংবা টাফ কিছু ছিল না। কিন্তু ও মাঝেমধ্যে অ্যাগ্রিসিভ থাকত। আমরা ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছি, এক টিমে খেলে বড় হয়েছি একদম ছোটবেলা থেকে। যার কারণে রফিকের সঙ্গে আমার কেমিস্ট্রি অনেক ভালো ছিল। 

কালের কণ্ঠ : সারা বিশ্ব এখন একটা বিশেষ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কভিড নিয়ে। আপনি করোনা টিকা নিয়েছেন, মাঝখানে আক্রান্তও হয়েছিলেন; গত এক-দেড় বছরে আপনি এবং আপনার পরিবার এই পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা অভ্যস্ত হয়েছেন?

খালেদ মাহমুদ : অনেক বেশি। এখন অনেকটাই নিয়মের মধ্যে চলে এসেছে জীবনটা যে কিভাবে কী করতে হবে, কতটুকু মিশতে পারব, কতটুকু যেতে পারব, কতটুকু কী হতে পারবে।  এই রোগটা সারা বিশ্বের জন্য একটা বিপর্যয়। আমি এটা মেনে নিয়েছি যে আমাদের এভাবেই চলতে হবে।

কালের কণ্ঠ : আপনি ১৩০-এর বেশি গতিতে বল করতেন। ১৩৫, ১৩৭ ও আপনি করেছেন। তার পরেও আপনার নাম হলো গতিদানব। কিন্তু এখন যাদের খেলতে দেখা যায়, তারা ১৩০-এর নিচে বল করে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ১১০, ১১১-এ  বল করেছে। আপনি তাদের চেয়েও জোরে বল করতেন।

খালেদ মাহমুদ : আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অতটা ব্যবহার করি না। এদিক থেকে আমি ভালো আছি। আমার বন্ধুরা অনেক সময় আমাকে এসব কথা বলত। আমি বলতাম যে, আমাকে জানাস না এগুলো। যার যেটা মন্তব্য সেটা করবে। এগুলো নিয়ে বলার কিছু নাই। কিন্তু আমি মনে করি, যারা এগুলো বলে তারা ক্রিকেটটাই কম বোঝে বেসিক্যালি। আমার যে হাইট ছিল, ওই হাইটে বল করে শচিন টেন্ডুলকার আর আজাহার উদ্দিনকে আটকে রাখতে পারবেন না।  লেগ কাটার ডেভেলপ করতে আমার যে কত কষ্ট করতে হয়েছে আমি জানি। আমার ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ারে দেখেন ফাইভ পয়েন্ট জিরো ফাইভে বল করেছি। বাংলাদেশের জন্য আমি উইকেট নিয়েছি যথেষ্ট। ম্যাক্সিমাম সময় দেখা যেত, লেগ কাটারেই আমি সাকসেসফুল। ... আমি তো দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ক্রিকেট খেলিনি, আমি ক্রিকেট খেলেছি বাংলাদেশকে কিভাবে ভালো খেলা কিংবা সাফল্য দেওয়া যায়, কিভাবে আমি আমার জায়গা থেকে সাকসেসফুল হতে পারি, তখন আমার চিন্তা ছিল এটাই।  

 

ভিডিওটি দেখতে পারেন



সাতদিনের সেরা