kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

বন্দিজীবনে উড়ছে কিংসের স্বপ্নঘুড়ি

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০২১ ০৪:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্দিজীবনে উড়ছে কিংসের স্বপ্নঘুড়ি

মালদ্বীপে এসেও স্বচ্ছ নীল সমুদ্রে চোখ ভাসিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই! নিজেদের চেনা জগতের বাইরে দুদণ্ড দাঁড়িয়ে কথা বলারও উপায় নেই তাদের! প্রথম বিদেশ সফরে এসে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের সব আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেন বন্দি জৈব সুরক্ষা বলয়ে। মালের বন্দিজীবনে হচ্ছে তাদের এএফসি কাপ স্বপ্নের লালন।

মালের চারদিকে সমুদ্র, সমুদ্রের এত কাছে থেকেও নিজেদের সঁপে দিতে পারছেন না তপু-রোবিনহোরা। হোটেল থেকে বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। এমনকি হোটেলের ভেতরেও খেলোয়াড়-কোচের গণ্ডি আলাদা। অন্যদের সঙ্গে ছোঁয়াছুঁয়ি তো দূরে, প্রকাশ্যে কিংসের খেলোয়াড় দর্শনও হয়ে গেছে মহার্ঘ ব্যাপার। তাতে যে ফুটবলাররা খুব ভালো আছেন, তা নয়। বিশেষ করে কিছুদিন আগে বেঙ্গালুরু এফসি দলের কয়েকজন খেলোয়াড় কভিড প্রটোকল ভাঙায় এখন বেশ কড়াকড়ি। বসুন্ধরা কিংসের ম্যানেজার ওয়াসিমুজ্জামান করোনার নিয়ম-কানুনের ব্যাপারে বেশ কড়া। পান থেকে চুন খসতে দিচ্ছেন না। কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন অবশ্য কখনো এমন ফুটবলজীবন আশা করেননি, ‘খেলাটা হলো আনন্দের। এ রকম বন্দি জীবনে দীর্ঘদিন থাকলে ফুটবলারদের মানসিক প্রশান্তি নষ্ট হয়। প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে তা-ই হয়। কিন্তু কিছু করার নেই, করোনা এড়িয়ে খেলতে গেলে আমাদের কিছু বিধি-নিষেধ মানতে হবে। এর মধ্যে আবার নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটা করতে হবে।’

খুবই চ্যালেঞ্জিং সময়। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা বিনোদন। করোনাকালে সেই বিনোদনকে ছুটি দিয়ে তার জায়গা নিয়েছে জৈব সুরক্ষা বলয়। থাকতে হবে আলাদা, খেতে হবে আলাদা, আর খেলতে হবে দর্শকবিহীন মাঠে। মানে খেলে নিজেই বিনোদিত হবেন, অন্যকে বিনোদন দেওয়ার সুযোগ নেই। ইউরোপে অবশ্য মাঠে দর্শক ফিরলেও দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো ফেরার উপায় নেই। তাই এএফসি কাপে ‘ডি’ গ্রুপের খেলা হবে দর্শকশূন্য মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে। গ্রুপে চতুর্থ দল গতকাল নিশ্চিত হয়েছে প্লে-অফ ম্যাচে, মালদ্বীপের ক্লাব ইগলসকে ১-০তে হারিয়ে বেঙ্গালুরু এফসি এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপে খেলবে। বাকি তিন দল বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, মালদ্বীপের সেরা মাজিয়া স্পোর্টস ও ভারতের এটিকে মোহনবাগান। চার দলের মধ্যে ফেভারিট ধরা হচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের। তবে কিংস কোচ এটা সরাসরি বলছেন না, ‘এখানে কেউ ফেভারিট নেই। প্রতিটি ম্যাচই হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং সব কটি ম্যাচ যারা জিতবে তারাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে।’    

কোচ বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন আগামীকাল মাজিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ওপর, ‘মাজিয়া ভালো দল। তারা দ্রুতগতিতে ফুটবল খেলে এবং কাউন্টারে ভালো। তারা বাইরে গিয়ে কিছু প্রীতি ম্যাচও খেলেছে। প্রথমে মাজিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জিততে হবে।’ এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে মালদ্বীপের চাম্পিয়নরা প্রায় দুই সপ্তাহ ট্রেনিং করেছে সৌদি আরবে। প্রস্তুতি ম্যাচে তারা হারিয়েছে আল-ইত্তিহাদকে এবং ড্র করেছে আল-ওয়েদা এফসির সঙ্গে। সৌদিফেরত মাজিয়া নিজেদের মাঠে খেলবে প্রথম ম্যাচ। এখানে একটু এগিয়ে থাকলেও বসুন্ধরা কিংসের অধিনায়ক খুবই আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা ঘরোয়া ফুটবলে খুব ভালো একটা মৌসুম শেষ করেছি। সবাই আত্মবিশ্বাসী এবং খেলার মধ্যে আছে। মাজিয়া ভালো দল, তবে তাদের হারানোর মতো সামর্থ্য আমাদের আছে।’

কিন্তু সামর্থ্যের জায়গায় কিছু ভজকট লেগেছে। পাসপোর্ট জটিলতায় টুর্নামেন্ট খেলতে আসতে পারেননি দ্রুতগতির দেশি ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া। খেলতে পারছেন না এলিটা কিংসলেও। কয়েক মাস আগে এই নাইজেরিয়ান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিলেও এএফসির টুর্নামেন্ট খেলার যাবতীয় প্রক্রিয়া নাকি সম্পন্ন হয়নি। বাফুফের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এই ফুটবলারের গত ১০ বছরের বিদেশ ভ্রমণের ইমিগ্রেশনের কিছু কাগজপত্র চেয়েছিল এএফসি। সেগুলো পাঠানো হয়নি বলেই কিংসের শক্তি কিছুটা কমেছে। ফরোয়ার্ড অস্কার রাউল বেসেরার খেলাও অনিশ্চিত। এই আর্জেন্টাইনের ডান পায়ের মাংসপেশির চোট সারেনি পুরোপুরি। গতকাল প্র্যাকটিসেও সেখানে বরফ লাগিয়ে বসে ছিলেন। এ নিয়ে হয়তো কিছু দুর্ভাবনা আছে অস্কার ব্রুজোনের মনে। সেটা গোপন করে কিংস কোচ বললেন, ‘তাকে খেলানো, না-খেলানো নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু সময়ের জন্য নামতে পারে হয়তো। তবে আমার বিকল্প চিন্তা আছে, সেটা এখন বলা যাবে না।’

না বললেও বোঝা যায়, প্রথম ম্যাচ নিয়েই ব্রুজোনের সব চিন্তা। এবং কিংসের এএফসি কাপের স্বপ্নেরও শুরু এখান থেকে।



সাতদিনের সেরা