kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

‘সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন’ লাইভ

এখনো অনেকে মিস্টার ফিফটি বলে: হাবিবুল বাশার

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ আগস্ট, ২০২১ ১২:৩২ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



এখনো অনেকে মিস্টার ফিফটি বলে: হাবিবুল বাশার

কালের কণ্ঠ ও বীকনের যৌথ উদ্যোগে 'সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন' স্লোগানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়ে ৫৬ মিনিট ধরে চলে। কালের কণ্ঠ'র ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব ও কালের কণ্ঠ'র ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখানো হয়।

'সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন' শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং সঞ্চালনা করেছেন কালের কণ্ঠ'র স্পোর্টস এডিটর এটিএম সাইদুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে হাইজিনেক্স।

কালের কণ্ঠ: আপনাকে প্রথমেই অভিনন্দন জানাচ্ছি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার জন্য। আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং অভিনন্দন। আজকে নিশ্চয়ই আপনাদের অন্যরকম একটা দিন। 

হাবিবুল বাশার সুমন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমি সত্যিই খুব খুশি। মনের মধ্যে  হয় না যে, চাপা এক ধরনের ইচ্ছা থাকে, জাতীয় পুরস্কারের সাথে তো আর অন্য কোনো পুরস্কারের তুলনা করা যায় না। সে কারণে এটা স্পেশাল এবং আমার অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল পুরস্কার পাওয়ার। পুরস্কার পেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছি।

কালের কণ্ঠ: আজকে আসলে অন্য একটা বিষয় দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছিলাম। কারণ এই সময়টা করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আমরা সবাই কমবেশি আক্রান্ত। আমরা জানি যে, আপনার পরিবারেও একটা সময় গেছে, যখন করোনার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তার পরেও যেহেতু জাতীয় পুরস্কার অনেক বড় সম্মানের, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান। আমি জানতে চাচ্ছি যে, করোনার প্রায় দেড় বছর হলো এই সময়ে যে স্বাস্থ্যবিধিগুলো আপনি চর্চা করেছেন নিজে বা পরিবারে, করোনা থেকে কী শিখলেন একজন মানুষ হিসেবে?

হাবিবুল বাশার: শেয়ারিং অ্যান্ড কেয়ারিং। যখন করোনা শুরু হয়েছিল, তখন এ ব্যাপারে আমরা খুব বেশি জানতাম না। অজানা একটা ভাইরাস নিয়ে দ্বিধাবিভক্তিতে ভুগছিলাম। জাতি হিসেবে আমার একটা জিনিস ভালো লাগে, যখন আমরা একটা সমস্যার মধ্যে পড়ি, অনেকে কিন্তু এগিয়ে আসে। এই জিনিসটা আগেও দেখেছি, এবার একটু বেশি দেখেছি। সুস্থ থাকাটা কতোটা জরুরি, এই সময়ে সেটা খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছি। আমাদের তো ফিজিক্যাল ওয়ার্ক করতে হয়েছিল যখন খেলাধুলা করেছিলাম, মাঝখানে খেলাধুলা ছাড়ার পর তা কমিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সবসময় সুস্থ থাকাটা যে কতটা জরুরি, তা এই সময়ে এসে বুঝতে পেরেছি। বাকিদের আমি উদ্বুদ্ধ করেছি  কিছুটা ফিজিক্যাল ওয়ার্ক করার ব্যাপারে যাতে তাদেরও ইমিউনিটি বুস্ট করে। কভিড অসুখে যারা সবল লোক, তাদের কিন্তু তেমন একটা অসুবিধা হয়নি। যারা সাধারণত বসে থাকেন, শরীরচর্চা করেন না, তারা যখন আক্রান্ত হয়েছেন, তখন একটু বেশিই সমস্যার মুখে তারা পড়েছেন। আমাকেও খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি।  আমরা এখনো কিন্তু করোনা থেকে বের হতে পারিনি। আমি মনে করি আমাদের সবার এখনো একটু সাবধান থাকা উচিত। লকডাউন দিলে কিন্তু আমাদের সবার ক্ষতি হয়। আমরা সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সবাই সবার বিষয়টি চিন্তা করি, তাহলে আমরা হয়তো দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারবো। শেয়ারিং অ্যান্ড কেয়ারিং খুব ভালো করে শিখেছি এই করোনার সময়ে।

কালের কণ্ঠ: বিদেশ সফরে দেখা গেছে, দুটো কারণে আপনার মন খারাপ থাকতো। রান করতে না পারলে এবং পরিবারের জন্য। সবাই আপনাকে ক্রিকেটার হিসেবে চেনে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আপনি পরিবারের প্রতি আবেগপ্রবণ। এই কভিডের সময়ে পরিবারের সঙ্গে এতোদিন এক ছাদের নিচে থাকাটা নিশ্চয়ই উপভোগ করেছেন। আবার কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি তো?

হাবিবুল বাশার: না, সমস্যা তৈরি হয়নি। আমি বাইরে যেতে খুব পছন্দ করি, মানুষের সঙ্গে মিশতে খুব পছন্দ করি। আড্ডায় খুব বেশি মধ্যমণি না হলেও আড্ডা খুব পছন্দ করি। ঘরে বসে থাকাটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তির বিষয়। প্রথম এক সপ্তাহে সে (আমার স্ত্রী) খুব খুশি ছিল। কারণ, সে টানা এতোদিন কখনো আমাকে এভাবে কাছে পায়নি। বিয়ের পর থেকেই তো আমাদের ট্যুর ছিল, ট্রাভেল ছিল, দেশের মাটিতে যখন খেলতাম, তখন হোটেলে থাকতাম। লকডাউন যতো লম্বা ছিল, দেখলাম ও খুব খুশি। লকডাউন থাকলে তার জন্য ভালো। আমার বাচ্চারাও খুশি ছিল। সত্যি বলতে কি, শেষের দিকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমরা কোয়ালিটি টাইম পার করেছি। তবে শঙ্কা, সংশয়, দ্বিধা তো থাকতোই, তবে সমস্যা হয়নি। ওই সময় বাসায় সবার সাথে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি।

কালের কণ্ঠ: মিস্টার ফিফটির পরিচয়টা কি অসহনীয় নাকি আপনি এক ধরনের উপভোগও করেন? বাংলাদেশে যখন কেউ ফিফটি করতে পারতো না, সেই সময়ে আপনি এতো সংখ্যক ফিফটি করে এই নাম অর্জন করেছেন।

হাবিবুল বাশার: এখন আক্ষেপ লাগে। এখনো অনেকে মিস্টার ফিফটি বলে, গায়েই লেগে গেছে ট্যাগ। ২০০২-০৩ সালের দিকে পাকিস্তান যখন খেলতে আসতো, ওদের ভালো বোলিং সাইড ছিল। আমি এক ইনিংসে ৫০ মারলাম, পরের ইনিংসে রান করলাম আবার পরের ইনিংসে খুব ব্রিলিয়ান্ট ফিফটি করলাম; ফিফটি করছি সিক্সটি করছি তবে সেঞ্চুরি মিস করছি, তখন সেটা নিয়ে অতোটা আক্ষেপ লাগতো না। কারণ ওইটা হাইলাইট হতো। কিন্তু পরের দিকে বেশ কিছু একশো হওয়া উচিত ছিল আমার। তাহলে ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ঠি অনেক বেশি থাকতো। এই ট্যাগলাইনটা এখন যে খুব বেশি উপভোগ করি, তা না। এখন মনে হয়, তিনটা সেঞ্চুরির জায়গায় ডেফিনেটলি আমার সাত-আটটা সেঞ্চুরি হওয়া উচিত ছিল। 

কালের কণ্ঠ: যে সময়টা আপনি ক্রিকেট খেলেছেন এবং যে বোলারদের সঙ্গে আপনাকে খেলতে হয়েছে, ওই সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে আপনি যে সার্ভিটা দিয়েছেন, সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিতেই হচ্ছে।

হাবিবুল বাশার: ওই সময় আসলেই দুর্দান্ত কিছু বোলার ছিল। ওই সময় কিন্তু বেশ কিছু বোলার ওয়ান ফিফটি প্লাসে বল করতো। যে দলের সঙ্গে খেলতাম, পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টটা বেশ ভালো খেলতো। তখন কিছু কোয়ালিটি সম্পন্ন স্পিনারও ছিল, এখনো আছে। আমরা যখন খেলেছি, তখন স্বপ্ন দেখতাম টেস্ট ক্রিকেট কিভাবে খেলে তা নিয়ে। আমরা তো তখন টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য তৈরি হইনি। বলতে পারেন আমরা জিরো থেকে শুরু করেছিলাম। 

কালের কণ্ঠ: দল খারাপ করলে নির্বাচকদের আমরা অনেক সমালোচনা করি। কিন্তু যখন দল ভালো করে তখন নির্বাচকদের কেউ মনে রাখে না। এই বিষয় নিয়ে মন খারাপ হয় কি না?

হাবিবুল বাশার:  না, আসলে মন খারাপ করে না। যখন পার্সোনালি কেউ অ্যাটাক করে, তখন মন খারাপ করে। আর নির্বাচক হয়ে ভালো কাজের পরেও সমলোচনা করলে মন খারাপ লাগে। আমরা তো আসলে ভালোর জন্য কাজ করি। ভালো লাগে তখনই যখন কোনো একটা ছেলের ব্যাপারে আমি মনে করলাম এই ছেলেটা ভালো। সেই ছেলেটা যখন ভালো করে, দল নির্বাচন করার পর দলটা যখন ভালো করে, মানুষের বাহবার চেয়ে তখন সেটা বেশি ভালো লাগে। যখন কাউকে নেওয়ার পর সে ভালো করে, সেটা বেশি ভালো লাগে। কেউ এসে যখন বলে তুমি ভালো করেছে, তার চেয়ে বরং ওইটা আমার বেশি ভালো লাগে। তখন মনে হয়- আমার জাজমেন্টটা ঠিক ছিল। তবে সব সময় ঠিক থাকি না, সব জাজমেন্ট ঠিক হয় না। ১০টার মধ্যে হয়তো আটটা ঠিক হয়েছে, দুইটা ঠিক হয়নি। তবে যখন ঠিক হয়, পরিকল্পনা কাজে লাগে, সেটাতে অনেক সন্তুষ্টি আসে। 

ভিডিওটি দেখতে পারেন



সাতদিনের সেরা