kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

খবর নেই ছায়া জাতীয় দলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৫ আগস্ট, ২০২১ ০৩:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খবর নেই ছায়া জাতীয় দলের

ভিন্ন নামেই বিভিন্ন দেশের ‘এ’ দল আছে। এই যেমন ইংল্যান্ডের আছে ‘ইংল্যান্ড লায়ন্স’, আয়ারল্যান্ডের ‘আয়ারল্যান্ড উলভস’। গত ১৫ জুন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের সভার পর সভাপতি নাজমুল হাসানের ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ নামের ছায়া জাতীয় দল গঠনের ঘোষণায় মনে হচ্ছিল এটি বুঝি ‘এ’ দলেরই আরেক নাম। তবে এর কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব পাওয়া বিসিবি পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ জানিয়েছিলেন, ‘এ’ দলের সঙ্গে ছায়া জাতীয় দল সাংঘর্ষিক নয়। বরং জাতীয় দলের চাহিদার সঙ্গে মানানসই দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এই ‘ডেভেলপমেন্ট প্রগ্রাম’-এর কোনো কিছুই এখনো দৃশ্যমান নয়। এখন পর্যন্ত হওয়া তিন-চারটি সভাতেই সীমাবদ্ধ এর অগ্রগতি।

যদিও এত দিনে এর কার্যক্রম শুরু করে দেওয়াতে কোনো বাধা ছিল না। কারণ এর আওতায় শুধু সেই ক্রিকেটাররাই, যাঁরা জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন কিন্তু আবার ফিরতে পারেন কিংবা জাতীয় দলের বিবেচনায় থাকা সম্ভাব্যরা। এঁদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যাঁদের বিসিবি পরিচালিত বিভিন্ন বয়সভিত্তিক অনুশীলন শিবিরে জায়গা পাওয়ার বয়সও পেরিয়ে গেছে। যুব ক্রিকেটারদের ঠাঁই হয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শিবিরে। ২৩ বছরের কম বয়সী প্রতিশ্রুতিশীলদের জন্য আছে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি)। যে দলে এর চেয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটাররা সুযোগ পান সামান্যই। এইচপিতেও যেখানে অনুশীলনের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা মেলে, সেখানে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া অনেকের সেই সৌভাগ্য হয় না। ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ গঠনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে জাতীয় দলে খেলোয়াড় সরবরাহ ব্যবস্থাকে গতিশীল করার কথাই বলা হয়েছিল। এটিও বলা হয়েছিল যে জাতীয় দলের হেড কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী এর দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় কোচরাই। এর আওতায় জাতীয় দলের মতোই অনুশীলনের সুবিধা পাওয়ার কথা ইমরুল কায়েস ও এনামুল হকদের মতো বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের। অথচ সেই উদ্যোগই এখন স্তিমিত।

যদিও এর মধ্যেই অন্যান্য কার্যক্রম শুরুর তোড়জোড় ঠিকই আছে। ১৯ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে শুরু হচ্ছে এইচপির অনুশীলন শিবির। সেপ্টেম্বরে তাঁদের সঙ্গে সিরিজ খেলার জন্য সক্রিয় করা হচ্ছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলও, যা এত দিন নিষ্ক্রিয়ই ছিল। চট্টগ্রামে এইচপির সঙ্গে তিনটি এক দিনের ম্যাচের পাশাপাশি দুটি চার দিনের ম্যাচও খেলবে ‘এ’ দল। নভেম্বরে ‘এ’ দলকে শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চললেও সফর এখনো চূড়ান্ত নয়। তা না হলেও উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টা আছে। যেটি ঘটা করে ঘোষণা দেওয়ার পরও নেই ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ নিয়ে। জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনও কোনো আশার খবর দিতে পারলেন না। তাঁর ভাষায়, ‘ইতিমধ্যে এটি নিয়ে আমরা তিন-চারটি সভা শেষ করেছি। আমরা একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারব।’

পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা গেলেও সমস্যা আছে বাস্তবায়নে। সেই দিকটিও দেখিয়ে রাখতে চাইলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘কিন্তু এখনো সমস্যা আছে। সমস্যাটি মাঠের (ভেন্যু)। কোথায় অনুশীলন করাব আমরা? কারণ বৃষ্টির মৌসুমে ইনডোরে অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিবেচনায় আগে ইনডোরসহ পুরোপুরি প্রস্তুত একটি ভেন্যু পেতে হবে আমাদের। তা পাওয়া গেলে ওটাও (বাংলাদেশ টাইগার্সের কার্যক্রম) শুরু করতে পারব।’



সাতদিনের সেরা