kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পুরনোদের সঙ্গে নতুনরাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০২১ ০৩:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরনোদের সঙ্গে নতুনরাও

৩ আগস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো জয়ই ছিল না বাংলাদেশ দলের, চার ম্যাচের সব কটিতে হার। কী আশ্চর্য, শক্তিধর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ঘরের মাঠে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪-১-এ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ! গত পরশু সিরিজের শেষ ম্যাচের পর বেশ কিছু রেকর্ড লেখা হয়। অলক্ষ্যে দুটি ইঙ্গিতও দিয়েছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ।

প্রথমটি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে—মিরপুরের উইকেট। সাবেক কোচ শ্রীলঙ্কার চন্দিকা হাতুরাসিংহের ‘ব্রেন চাইল্ড’ এমন ধীরগতি আর অসম বাউন্সের উইকেট। মিরপুরের উইকেট এমন আচরণ করত শুধু বাউন্সি উইকেটে খেলে অভ্যস্ত দেশগুলোর বিপক্ষে। তাই প্রত্যাশিতই ছিল অস্ট্রেলিয়াকে ‘স্পঞ্জি’ উইকেটে ফেলেই খেলবে বাংলাদেশ। তবে এই উইকেটের দিকে আঙুল তুলে মাহমুদ উল্লাহদের সিরিজ জয়কে মোটেও কম গৌরবময় মনে করছেন না জাতীয় নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘সবাই হোম অ্যাডভান্টেজ নেয়। উইকেট আপনার যতই পছন্দের হোক, জিততে হয় কিন্তু ভালো খেলেই। আমি বলব, এটা দারুণ জয়। ছেলেরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ী দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার খুব বাড়িয়ে বলেননি। উইকেটের সাহায্য ছিল বটে, তবে সহায়ক উইকেটে স্মার্ট ক্রিকেট খেলেই জিতেছে বাংলাদেশ। সেই জয়ে অবদান অনেকের। বাংলাদেশ দলে ম্যাচ উইনারের ছড়াছড়ি কখনোই ছিল না, অনেকের কাঁধে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছে বাংলাদেশের জয়ের গাড়ি। এই সিরিজেও ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি। এক-দুজন বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে কমবেশি অবদান আছে সবারই।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বলছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। ব্যাটে-বলে শীর্ষ তিনে থাকা তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যের ধারেকাছে কেউ নেই। তাই সাকিবকে সিরিজসেরার পুরস্কার দেওয়ায় বিতর্ক নেই। কিন্তু তাঁর পাওয়া পুরস্কারটির নীরব একজন দাবিদার আছেন বাংলাদেশ দলেই, মুস্তাফিজুর রহমান।

সাকিব নন, অস্ট্রেলিয়া দল এবং সে দেশের মিডিয়ার কাছে মুস্তাফিজের দুর্বোধ্য বোলিং নিয়েই গবেষণা হয়েছে বেশি। উইকেটে বল ‘গ্রিপ’ করলে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারের স্লোয়ার-কাটারে ধোঁকা খান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানও। এই সিরিজে তো মুস্তাফিজের বিপক্ষে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাট চালানো দেখে মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছিল এ যেন কমিক! বারবার ব্যাট চালিয়েও বলের খোঁজ না পাওয়া ব্যাটসম্যানকেও হতাশায় হাসতে দেখা গেছে। তাই উইকেট গড় আর ওভারপ্রতি রান দেওয়ায় সবার সেরা মুস্তাফিজ। খালি চোখে পুরো সিরিজের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারী ক্রিকেটারও। সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে উইকেটহীন মুস্তাফিজ রান দিয়েছেন মোটে ৯! তাঁর স্পেলে হিমশিম খাওয়া সফরকারী ব্যাটসম্যানরা রানের জন্য চড়াও হয়ে উইকেট দিয়েছেন অন্য বোলারদের।

অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ মুস্তাফিজকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দারুণ ব্যবহারও করেছেন। অবশ্য শুধু এই বাঁহাতি পেসার কেন, বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ড সেট করায় বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি এই সিরিজের বাংলাদেশের দুই ফিফটির একটি মাহমুদের।  অবশ্য সাকিব, মুস্তাফিজ আর মাহমুদের কাছ থেকে নৈপুণ্য তো প্রত্যাশিতই। এই সিরিজ বরং আরো বেশি আশাবাদ জাগিয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ দুজনের নৈপুণ্যের ঝলক—আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান।

মিরপুরের দুর্বোধ্য উইকেটে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ মনে হয়েছে আফিফ হোসেনকে। লোয়ার অর্ডারে নেমে খুব বেশি রান করেননি, তবে অন্যদের তুলনায় এই তরুণকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করতে দেখা গেছে। আর ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও নানা কম্বিনেশন এবং অজানা কারণে দলে ঠাঁই হচ্ছিল না নুরুল হাসানের। তবে জিম্বাবুয়ের পর অস্ট্রেলিয়া সিরিজে উইকেটের পেছনে এবং সামনে নিজের সামর্থ্য যে আছে, সে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়েছেন তিনি। উইকেটের পেছনে নুরুলের নৈপুণ্য নিয়ে কোনোকালেই সংশয় ছিল না, দেশসেরা উইকেটরক্ষক তিনি। তবে ব্যাটিংয়ে নির্ভরতার ঘাটতি ছিল। পর পর দুটি সিরিজে সেই ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসার আশ্বাস অন্তত দিয়েছেন নুরুল।



সাতদিনের সেরা