kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কেঁদে কাঁদিয়ে বিদায় মেসির

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০২১ ০২:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেঁদে কাঁদিয়ে বিদায় মেসির

পোডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়েই কান্নায় ভেঙে পড়লেন লিওনেল মেসি। তাঁর স্মৃতির শহর আর প্রিয় বার্সেলোনা এফসিকে বিদায় বলতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু পারলেন কই। তাঁর চোখের পানি আর মুখের কথায় যেন ফুটে উঠেছে প্রিয়জন হারানোর শোক। সতীর্থদের চোখও ছলছল। মেসির বিদায়ি বক্তৃতা ও পরের কোলাকুলি মিলিয়ে পুরোটাই যেন এক শোকসভা।

বার্সেলোনাকে ছেড়ে যাওয়া মেসির জীবনে বড় এক ক্লাইমেক্স! কিন্তু এক বছর আগে যে এই ক্লাব ছাড়তে উঠেপড়ে লেগেছিলেন?

সেটাও বলতে পারেন, ভালোবাসাজাত। বার্সেলোনা সেরা দলের চেহারা হারাচ্ছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্কে চিড় ধরছে, সভাপতির নানা অপকর্মে ক্লাবের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, সেটা দেখে তিনি একরকম বিদ্রোহ করেছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি বার্তেমেউর বিরুদ্ধে। সেই দ্রোহের আগুনে অন্তত বার্সেলোনা পথে ফিরেছে। ওই আলোড়ন না হলেও হয়তো বা লাপোর্তার সভাপতি পদে আসীন হওয়াটাও অত সহজ হতো না। নতুন সভাপতির অধীনে অনেকটা গুছিয়ে উঠেছে বার্সেলোনা আর তখনই ক্লাব ছাড়ার বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে নেপথ্য সংস্কারকের। বিশ্বসেরা ফুটবল তারকার। প্রিয় ক্লাবটিকে পথে ফিরিয়েই মেসি যাচ্ছেন নতুন গন্তব্যে।

যেতে বাধ্য হয়েছেন। গত ৩০ জুন তাঁর চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন চুক্তি করতে চেয়েছিলেন ৫০ শতাংশ কম বেতনে। এর পরও বার্সেলোনা তার ইতিহাসের সেরা ফুটবলারটিকে রাখতে পারেনি! ক্লাব সভাপতি লাপোর্তা নানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ক্লাবের ঋণের কথা বলেছেন। তাঁর সারকথা হলো, ক্লাবকে বাঁচানোর জন্য ইতিহাসের সেরা ফুটবলারটিকে বিদায় দিচ্ছেন। সভাপতি তাঁর মতো করে যুক্তি দিচ্ছেন, ব্যথিত হচ্ছেন, কিন্তু এর উল্টো পিঠেও চলছে নানা আলোচনা। সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি লিনেকার যেমন মেসির মতো ক্লাবকে সাফল্য উপহার দেওয়া আর কাউকে দেখছেন না, ‘মেসির আবেগঘন বিদায় বক্তৃতা দেখতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। ক্রীড়া ইতিহাসে তার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে একটা ক্লাবকে এত সাফল্য, এত আনন্দ এবং এত অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উহার দিয়েছে।’

সেই ১৩ বছর বয়স থেকে তাঁর সখ্য এই ক্লাবের সঙ্গে। তাঁর শরীরে হরমোনের অভাব ধরা পড়ায় দীর্ঘদিন তাঁকে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। একসময় তাঁর বাবার পক্ষে আর্জেন্টিনায় সেই চিকিৎসা চালানো কঠিন পড়ে এবং বার্সেলোনা পাশে দাঁড়ায় এই আর্জেন্টাইনের। ক্লাব দিয়েছিল তাঁর হরমোন চিকিৎসার গ্যারান্টি আর তাঁর তরফে ছিল ক্লাবের স্বপ্ন রাঙানোর প্রতিশ্রুতি। লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠার সময় তাঁর পায়ের জাদুকরী খবর চাউর হতে থাকে। একাডেমি দল পেরিয়ে ২০০৪ সালে তাঁর অভিষেক হয় মূল দলে। এর পর থেকেই ফুটবলবিশ্ব আস্তে আস্তে মোহাবিষ্ট হয় খুদে জাদুকরে। তিনি হয়ে ওঠেন ক্লাবের সাফল্যের মহানায়ক। বার্সেলোনাকে উপহার দিয়েছেন ১০টি লা লিগাসহ ৩৫টি শিরোপা। বার্সার জার্সিতে ২১টি বছর রাঙিয়েছেন গোলের আনন্দে। ক্লাব ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভেঙেছেন, লা লিগায়ও শীর্ষ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন। বার্সেলোনায় এই গোলের ম্যাজিক দেখিয়ে নিজে হয়েছেন ছয়বারের বিশ্বসেরা।

এত দেওয়ার পরও মেসিকে ছাড়তে হবে বার্সেলোনা। এটাই বাস্তবতা, কিন্তু মানা যে বড় কঠিন, ‘এই শহরে আমি বড় হয়েছি, খেলেছি। আমার সন্তানরা কাতালান-আর্জেন্টাইন হয়ে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু এখন ...।’ প্রিয় সেই বার্সেলোনাই হয়ে যাবে তাঁর কাছে স্মৃতির শহর, সুখস্মৃতির ক্লাব।



সাতদিনের সেরা