kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর ছক হয়েছিল জিম্বাবুয়েতে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৭ আগস্ট, ২০২১ ০৮:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর ছক হয়েছিল জিম্বাবুয়েতে!

নিত্য এটা শুনতে হয় যে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ভালো দল নয়। শুনে শুনে ত্যক্তবিরক্ত বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো হতাশাও প্রকাশ করেছিলেন। আর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ হতাশা চেপে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বদলাতে চেয়েছিলেন সে ধারণা।

অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো কোনো দ্ব্বিপক্ষীয় সিরিজে কবজা করার পর তা বদলেছেও। না হলে কী আর মাহমুদকে এমন প্রশ্নে হাসিমাখা উত্তর দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়, ‘গত ৩০ দিনে কী এমন করলেন যে টি-টোয়েন্টি দলে রাতারাতি পরিবর্তন চোখে পড়ছে?’

চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্সের ছক তাঁরা দূর আফ্রিকায় বসেই কাটতে শুরু করেছিলেন বলে জানালেন মাহমুদ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়েকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ এ হারানোর পরপরই, ‘জিম্বাবুয়েতে খেলা শেষ হওয়া মাত্রই এটি নিয়ে আমরা বসেছিলাম। ঠিক করেছিলাম, আমাদের আরো কয়েক ধাপ এগোতে হবে। আমরা নিজেদের ভালো এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল বলে মনে করলেও আমাদের র্যাংকিং দেখে কেউ তা বলবে না। আমাদের তাই নিজেদের দক্ষতা মেলে ধরার ক্ষেত্রে বড় হৃদয় নিয়েই খেলতে হতো।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে হৃদয় উজাড় করে খেলার প্রয়োজনও বেড়ে যায় আরো। কারণ এই সিরিজে প্রথমবারের মতো টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের ইনিংস প্রত্যাশিত গতি পায়নি। ১২৭ রানের পুঁজি নিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত হওয়ারও উপায় ছিল না কোনো। দু-দুটো রান আউট পুঁজি আরো বাড়ানোর পথ রোধ করে দাঁড়ায়। সেই সঙ্গে ইনিংসের শেষ তিন বলে অস্ট্রেলিয়ার অভিষিক্ত পেসার নাথান এলিসের হ্যাটট্রিকেও স্বাগতিকদের আরো কিছু রান করার লক্ষ্যে বাদ সাধে। এত কম রান নিয়ে দলকে উজ্জীবিত করাও কঠিনই ছিল।

৫৩ বলে ৫২ রানের ইনিংসে দলের ব্যাটিং আগলে ম্যাচ সেরা হওয়া মাহমুদ জানালেন, সেই কঠিন ভারটি তিনি তুলে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানের কাঁধেই। ১২৭ রান ডিফেন্ড করতে নামার আগে দলের সেরা তারকাকে অধিনায়ক যা বলেছিলেন, ‘মাঠে নামার সময় আমি চেয়েছিলাম, সাকিব ছেলেদের সঙ্গে কথা বলুক। সাকিব বলেছিল যে যেটিই হোক না কেন, বিশাল হৃদয় নিয়ে বোলিং করতে হবে। শুরুতে কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে হবে এবং চাপ অব্যাহত রেখে যেতে হবে। প্রয়োজনীয় রানরেট ওভারপ্রতি ৮-৯ রানে তুলতে হবে। তা করতে পারলে সুযোগ আসবে।’

সেই সুযোগ আসার আগে ঘামও ছুটেছে। জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়া জেতার সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল। তবে সাকিব হাল ছাড়েননি। সারাক্ষণ মাঠে কথা বলে গেছেন। বোলারদের উজ্জীবিত করার চেষ্টায় প্রতি ডেলিভারির আগে তাঁদের সামনে পরামর্শ নিয়ে হাজির হয়েছেন। বোলাররাও যে তাতে চাঙা হয়েছেন, ম্যাচের শেষাঙ্ক জমিয়ে তোলার মধ্যেই আছে এর প্রমাণ। এমন এক জয়ে ৩-০ করার পর দলের সবাইকেই কৃতিত্বের ভাগ দিতে চাইলেন মাহমুদ, ‘ছেলেরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাড়া দিয়েছে। ওরা যেভাবে লড়াই করেছে, তা দেখতে খুবই ভালো লেগেছে। শরীফুলও অবদান রেখেছে। সব বোলারই পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছে।’

তবে মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য প্রশংসার সিংহভাগ বরাদ্দ থাকতে বাধ্য। অধিনায়ক তা দিলেনও, ‘শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজ আরেকবার কাজটি করে দিয়েছে। আজ রাতে এক কথায় অসাধারণ ছিল সে। ও একজন চ্যাম্পিয়ন বোলার।’



সাতদিনের সেরা