kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুইয়ে দুই

অস্ট্রেলিয়া : ২০ ওভারে ১২১/৭, বাংলাদেশ : ১৮.৪ ওভারে ১২৩/৫, ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

মাসুদ পারভেজ   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০৩:০২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুইয়ে দুই

অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরাই শুধু নন, ব্যাকরণ ভোলা গোলমেলে ব্যাটিংয়ের রোগ ছড়াল প্রতিপক্ষ শিবিরেও। তাতে বাংলাদেশও এমন আক্রান্ত যে সহজসাধ্য লক্ষ্যও দুঃসাধ্য হওয়ার মতো অবস্থা। রোগের বিস্মৃতি যখন টপ পেরিয়ে মিডল অর্ডারেও পৌঁছে যায়, তখন জয় অনিশ্চিত হয়ে যেতেও বাধ্য। মাত্র ১২২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয় নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার পরই অবশ্য রোগ সারতে শুরু করল, সারালেন আফিফ হোসেন আর নুরুল হাসান মিলে।

রোগাক্রান্ত অন্যদের ব্যর্থতার দিন তাঁদের দুজনের ব্যাট হয়ে উঠল পথ দেখানো আলো। সে আলোয় বাংলাদেশের ধীরগতির উইকেটে হারের অন্ধকারে ডুবে থাকল অস্ট্রেলিয়াও। তাদের সিরিজে ফেরার পথরোধ করে দাঁড়ালেন আফিফ-নুরুল। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের কাউকেই যেখানে খুব স্বাচ্ছন্দ্য মনে হচ্ছিল না, সেখানে তাঁরা দুজন শুরুর সামান্য জড়তা কাটিয়ে সাবলীল। যে বল দেখে-শুনে খেলার কথা, সেটি খেললেন সেভাবেই। আবার মারার বল পেলেও ছাড়লেন না। তাই ৬৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসা দলের স্কোর বোর্ড সচল থেকে ৮ বল বাকি থাকতেই খুঁজে নিল সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে দেওয়া জয়ের ঠিকানাও।

৬ বল আর ১ রানের মধ্যে সাকিব আল হাসান ও অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহকে হারানোর ধাক্কার পরও জয় নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার কথা ছিল না। কারণ তখনো ৫২ বলে ৫৫ রানের প্রয়োজন মেটাতে দরকার ছিল কেবল দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দারুণ এক পার্টনারশিপের। মিচেল মার্শের বলে শুরুতে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া আফিফ আর পেছন ফিরে তাকালেন না।  যোগ্য সঙ্গীর ভূমিকায় আবির্ভূত হলেন নুরুলও। ৩৮ বলে তাঁরা গড়ে ফেললেন ৫০ রানের পার্টনারশিপও। জয় ততক্ষণে ঢিল ছোড়া দূরত্বেও এসে গেছে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের ব্যাটে ৪৪ বলে ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট পার্টনারশিপেই ৫ উইকেটের জয় বাংলাদেশের।

জশ হ্যাজলউডকে মারা বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করে আসা আফিফের ৩১ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংসটি সাজানো ৫ বাউন্ডারি আর অ্যান্ড্র টাইকে মারা ছক্কা দিয়ে। এমন ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পর কী আর ম্যাচ সেরার পুরস্কার তাঁর জন্য বরাদ্দ না থেকে পারে! নুরুলের ২১ বলে অপরাজিত ২২ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি তিনটি। তাঁদের ম্যাচ জেতানো জুটির আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি ক্ষেত্রে সমানতালে পাল্লা দিয়েছে বাংলাদেশও। সেই পাল্লা দুই দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যাকরণ ভোলা ব্যাটিংয়ে উন্মত্ত হওয়ার।

শরীর থেকে দূরের কিংবা সোজা বলও কোনো ফুটওয়ার্ক ছাড়াই খেলতে যাওয়ার ভারসাম্যহীনতায় যেমন উইকেট বিলিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কম যায়নি বাংলাদেশও। যা ভালো ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন অবশ্যই নয়। কিন্তু মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে দুই দলের ব্যাটিংয়ের এই গোলমাল রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পথও খুলেছিল। তাতে ২০১৪ সালের জুনে এই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই হওয়া বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডের স্মৃতিও ফিরে ফিরে আসছিল। যে ম্যাচে ভারতকে ১০৫ রানে আটকে রাখার পর নিজেরাই ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় ডুবেছিল স্বাগতিকরা।

সাত বছর আগের সেই ম্যাচের মতো এবারও বোলাররা তাঁদের কাজটি করলেন ঠিকঠাক। লক্ষ্য তাই নাগালেই থাকল। ধীরগতির উইকেটে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আস্তে বল করার ফর্মুলা অব্যর্থ বলে প্রমাণিত হওয়ায় আরেকবার সেই পথেই হাটল বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান দেখা দিলেন স্বমহিমায়। তাঁর স্লোয়ারের ধাঁধায় পড়লেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরাও। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগল। সেটি না হলেও ২৩ রানে ৩ শিকার ধরে দলের সেরা বোলার। আরেক বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামও (২/২৭) অবদান রাখলেন। সেই সঙ্গে অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসান (১/১২) ও সাকিবরাও (১/২২) ডট বল করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে গেলেন। সফরকারীদের ইনিংসে ডট বলের সংখ্যাও কম নয়, ৫০টি।

যথারীতি তিন পেসার নিয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া রান তাড়ার সময় স্বাগতিকদের গতি দিয়ে কাঁপিয়ে দিতে চাইল। বাংলাদেশ তাতে কাঁপলও। মিচেল স্টার্কের করা প্রথম ওভার সেই বার্তা ভালোভাবেই দিল। নাঈম শেখের হেলমেটে বলও লাগল। স্টাম্পের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে সৌম্য সরকারের বোল্ড হওয়াতে শুরুর সেই গতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও থাকতে পারে। স্টাম্প সোজা বলে নাঈমের লাইন মিস করে বোল্ড হওয়াতেও থাকতে পারে স্টার্ক-হ্যাজলউডদের গতির ভূমিকা। তাই রান তাড়ার শুরুতে এলোমেলো স্বাগতিকরাও। আরো লণ্ডভণ্ড অবস্থাও হতে পারত, যদি একের পর এক ক্যাচ তুলেও অল্পের জন্য মেহেদী হাসান বেঁচে না গেলে। তবু যে খুব ভালো অবস্থায় বাংলাদেশ থাকল, তা-ও নয়। প্রতিপক্ষের ভুলের সঙ্গে তাল মেলালো নিজেদের ভুলও। তাই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো চলতেই থাকল। অ্যাস্টন অ্যাগারের টার্ন করে বেরিয়ে যেতে থাকা বল জায়গায় দাঁড়িয়ে চালাতে গিয়ে উল্টো উইকেটে টেনে নিলেন মাহমুদ উল্লাহ। একটু আগেই লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন ১৭ বলে ২৬ রান করা সাকিবও। আফিফ আর নুরুলের ব্যাটে গোলমালের শেষটা এর পর থেকেই!



সাতদিনের সেরা