kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

জয় দিয়েই শেষের আশায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০৩:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয় দিয়েই শেষের আশায় বাংলাদেশ

শামীম পাটোয়ারী অপ্রত্যাশিত কিছু করেননি। সীমানাদড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ কিংবা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ধুন্ধুমার ব্যাটিং—যুবা বয়সেই এসব করে অভ্যস্ত তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হার্ডলটা অনেক উঁচুতে। তবে প্রথম আবির্ভাবে যা করেছেন শামীম, তাতে সম্ভাবনার কথা লেখা রয়েছে। আরো বেশি দৃশ্যমান হয়েছে জিম্বাবুয়ে সফরের শেষ দুটি ম্যাচে—টি-টোয়েন্টি আদতে তারুণ্যের জয়গান। পাওয়ার তো তারুণ্যেরই কলতান!

শামীম পাটোয়ারীকে শুরুতে টেনে আনার মানে তাঁর কাঁধে রাজ্যের প্রত্যাশার চাপ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। টি-টোয়েন্টিও তেমনি বয়সভিত্তিক ক্রিকেট নয়—পাওয়ার ক্রিকেট। এত বয়সেও ক্রিস গেইলের বাজার আছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের চলমান যুগে পাওয়ার হিটিং দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। সেখানে শামীমের মতো এক-দুজন দীর্ঘ মেয়াদে দরকার। তিনি যেন সাব্বির রহমান কিংবা এমন আরো অনেকের মতো হারিয়ে না যান, আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টির দিনে এটাও অন্যতম একটি চাওয়া।

শামীমের সঙ্গে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে গত দুই বছর ধরে খেলেছেন তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম। তাই খুব ভালো জানেন এবং স্বপ্ন দেখেন, ‘শামীম দুর্দান্ত ফিল্ডার। বিগ হিটিংও জানে। আশা করি আমরা অনেক দিন বাংলাদেশ দলকে সার্ভিস দিতে পারব।’ সেই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের খোঁজে অনেক দিনই ডুবে বাংলাদেশ।

আপাতত আজকের অপেক্ষা জিম্বাবুয়েতে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জেতা। ১-১ সমতায় শুরু হওয়া আজকের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিবে কিন্তু সেই ব্যাটসম্যানরাই। শরিফুল অবশ্য ব্যাকরণের কথাই বলেছেন, ‘আমাদের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং ভালো হতে হবে।’ কথা ভুল বলেননি তিনি। যেকোনো ম্যাচ জিততে সব ডিপার্টমেন্টের একসঙ্গে হাত তোলা জরুরি। কিন্তু কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটিং ভরাডুবি হলে আর বিশেষ কিছু করার থাকে না। আগের ম্যাচে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৯ নম্বরে নেমেছেন। তার মানে ব্যাটিং লাইনআপের দৈর্ঘ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই বাংলাদেশের। তবে প্রয়োগে গড়বড় হয়ে গেলে ভিন্ন কথা। নইল জিম্বাবুয়ের ১৬৬ রান তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৪৩ রানেই কেন গুটিয়ে যাবে বাংলাদেশ! ২৩ রানের হার আরো বড় হতো যদি ৮ নম্বরে নেমে শামীম ১৩ বলে ২৯ রান না করতেন।

শুরুর ধাক্কাই আসলে সামলে উঠতে পারেনি মাহমুদ উল্লাহর দল। ব্লেসিং মুজারাবানি তাঁর প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে তুলে নেওয়ার পর থেকেই পথহারা বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে ধরে খেলার সময় নেই। মারো, আরো মারো’র ক্রিকেটে একটু ভাগ্যও দরকার। বোলিংয়ে সিরিজজুড়ে লাইন-লেন্থের সংকটে ভোগা জিম্বাবুয়ের শনিবারের ম্যাচে সে সমস্যা হয়নি। ক্যাচ ফেলেনি। উল্টো শামীমের দুর্দান্ত ক্যাচের দিনও অপেক্ষমাণ দুই ফিল্ডারের মাঝখানে ক্যাচ পড়েছে। উইকেটের পেছনে নির্ভরতার প্রতীক নুরুল হাসানও ক্যাচ ফেলেছেন। সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে এই ছোটখাটো ভুল শোধরানোর আগেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়! সিরিজে সমতাও এসেছে এমন গোলেমালে।

নিজেরা ভুলের মালা গলায় না জড়ালে টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের ফেলে আসার কথা নয়। দৃশ্যত স্বাগতিকদের চেয়ে শক্তিধর মাহমুদ উল্লাহর দল। ফিট হয়ে উঠলে আজ মুস্তাফিজুর রহমানের একাদশে ফেরার কথা। তাতে ধারালো হবে বোলিং আক্রমণ। একইভাবে একাদশে ফিরতে পারেন লিটন কুমার দাস। তাতে ব্যাটিংয়ের পাল্লাও ভারী হবে।

তবে এগুলো কাগজে-কলমের হিসাব। টেস্ট, ওয়ানডের পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। একদা এমন একটি জয়ের ক্ষুধা নিয়েই জিম্বাবুয়ে সফরে যেত বাংলাদেশ দল। সেখানে এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠেই জয়ের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকতে হয় জিম্বাবুয়েকে। তবে ধরা দেওয়া জয় নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে সিকান্দার রাজার জিম্বাবুয়েকে। বোলিং দিয়ে আরেকবার বাংলাদেশকে টেক্কা দেওয়ার আশা করতেই পারে স্বাগতিকরা। মুজারাবানির বাউন্স সিরিজের শুরু থেকেই ঝামেলায় ফেলছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। টেন্ডাই চাতারা গত ম্যাচে ২৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৩ উইকেটের সমানসংখ্যক ক্যাচও নিয়েছেন। তাঁর একটি শিকার আবার সাকিব আল হাসান, যা কিনা স্রেফ বুদ্ধির জোরে আদায় করে নিয়েছেন ওয়েলিংটন। এই স্মার্টনেসটাই হতে পারে সিরিজ নির্ধারক।



সাতদিনের সেরা