kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

এবার ৩-০ হবে তো?

সাইদুজ্জামান   

২০ জুলাই, ২০২১ ০৩:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার ৩-০ হবে তো?

দলে একাধিক ম্যাচ উইনার থাকে বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর। কিন্তু বাংলাদেশ অনেক দিন ধরেই ‘দশে মিলে করি কাজ’-এর দল। নির্দিষ্ট দিনে সবার নৈপুণ্যের হাত না তুললে হারের পথে হাটে বাংলাদেশ। গত পরশু সাকিব আল হাসানের রানে ফেরার দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সম্ভবত একজন ম্যাচ উইনারের খোঁজ পাওয়া। তাঁর অপরাজিত ৯৬ বাকিদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী হওয়ার কথা। আজ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে আরো কেউ কি ম্যাচ উইনার হতে পারবেন নাকি সেই দলগত নৈপুণ্যের ভেলায় চড়েই আসবে জয়?

মাঠের ক্রিকেটের যে চিত্র, তাতে জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজে ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তার রোমাঞ্চ নেই। একজন ব্রেন্ডন টেলরকে ফিরিয়ে দিলেই উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে স্বাগতিকদের ব্যাটিং। বোলিংয়ে শুরুর সাফল্য থেকেও দ্রুতই বিচ্যুত হতে দেখা যাচ্ছে জিম্বাবুয়েকে। এমন পরিস্থিতিতে সিরিজের ফল ৩-০ না হওয়ার যাবতীয় ‘দায়দায়িত্ব’ আসলে তামিম ইকবালদের। আরো নির্দিষ্ট করে বললে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের। আগের দুটি জেতা ম্যাচেও দেখা গেছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা হঠাৎই আস্থাহীনতায় ভুগেছেন। এই সিরিজ থেকে তামিমদের পুরো ৩০ পয়েন্ট না তুলতে পারার পেছনে এই একটাই পথের কাঁটা—ব্যাটসম্যানদের পথ হারিয়ে ফেলা।

তবে পথ দেখানোর কাজটা তো মাত্রই ৪৮ ঘণ্টা আগে করে দেখিয়েছেন সাকিব। ইনিংসটা মোটেও দুর্ধর্ষ নয়। কিন্তু দলীয় সাফল্যে এই অপরাজিত ৯৬ এর বাজারমূল্য সম্ভবত ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিবের চোখ-ধাঁধানো ইনিংসগুলোর চেয়েও বেশি। অন্যদের ভুলভাল শটে খাদের কিনারায় ঝুলতে থাকা দলকে টেনে তুলেছেন যে সাকিব। তিনি নিজেও সম্ভবত খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন ব্যাটিং আত্মবিশ্বাসকে। এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরার পর রান তো পাচ্ছিলেনই না, সঙ্গে আউট হওয়ার ধরনও অস্বস্তির মেঘ ভারী করেছে। পরশুর পর সেই মেঘ সরে যাওয়ার কথা।

সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেলে পরের ম্যাচকে ঘিরে শঙ্কার মেঘ কেটে যাওয়ার কথা। কিন্তু আইসিসির প্রবর্তিত ওয়ানডে সুপার লিগের কারণে আজকের ম্যাচটি জিততেও সমান মরিয়া চেষ্টা করার কথা তামিম ইকবালদের। ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে যে কয়টি সিরিজকে পাখির চোখ করেছে বাংলাদেশ, তার মধ্যে এটা অন্যতম। এখন সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থাকলেও বাংলাদেশ দল খুব ভালো করেই জানে যে সামনে কঠিন সময় আছে। তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচটিও মহাগুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় জয়ে সাকিবের সঙ্গী মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও যেমন গতকাল বলেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তামিম ইকবাল ভাই চোট নিয়ে এই সিরিজ খেলছে, কারণ সুপার লিগে পয়েন্টের ব্যাপার আছে। প্রত্যেকেই এটা মাথায় রেখে গুরুত্বের সঙ্গে খেলছে।’

এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবশ্য একাদশে কিছু পরিবর্তন আসছে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিজের বোলিংয়ে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজকে খেলানোর ব্যাপারে গতকাল রাত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। হারারে থেকে দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম এমনটিই জানিয়েছেন। নড়বড়ে মিডল অর্ডারে ভরসা ফিরিয়ে আনতে সম্ভবত বাদ পড়ছেন মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন। ব্যাটিং ভারসাম্য ঠিক রাখতে এ ম্যাচে তামিমের সঙ্গে ইনিংস সূচনা করতে দেখা যাওয়ার কথা নাঈম শেখের। সে ক্ষেত্রে মিডল অর্ডারে ফিরে যাবেন লিটন কুমার দাস। আর তাঁর উইকেটকিপিং গ্লাভস এ ম্যাচে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ওঠারও সম্ভাবনা প্রবল। বোলিংয়েও একটি পরিবর্তন প্রত্যাশিত। টানা ক্রিকেটের ক্লান্তি থেকে তাসকিন আহমেদকে বিশ্রাম দেওয়ার ভাবনা আছে টিম ম্যানেজমেন্টের, ফিট হয়ে ওঠায় একাদশে ফিরবেন মুস্তাফিজুর রহমান।

কিন্তু বাংলাদেশের গোছানো ক্রিকেট ফিরবে তো? জিম্বাবুয়ের এই দলকে হারাতে নাভিশ্বাস ওঠার কথা নয় তামিম ইকবালদের। অন্তত দলের জুনিয়র সদস্য সাইফউদ্দিনের কথাটা মাথায় রেখে খেললেই লক্ষ্য অর্জন হয়ে যাওয়ার কথা, ‘হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য থাকবে। প্রসেস ঠিক থাকলে ৩-০ ব্যবধানে জিতব ইনশাআল্লাহ।’

এই ‘প্রসেস’ কোনো হাতি-ঘোড়া নয়।  তামিমরা নিজেদের সামর্থ্যটা মাঠে ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে পারলেই ৩-০ অবধারিত। তবে মনে কাঁটার খচখচানিও আছে। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে শেষ হার্ডলটা পার হতে পারেনি বাংলাদেশ, সিরিজ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে।



সাতদিনের সেরা