kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

ইংরেজ হুংকার না ড্যানিশ রূপকথা

অনলাইন ডেস্ক   

৭ জুলাই, ২০২১ ০৩:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইংরেজ হুংকার না ড্যানিশ রূপকথা

শেষ কবে ইংল্যান্ড টানা দুটি বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলেছে? উত্তর মিলবে সেই ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী আলফ রামসির দলের কাছে। তাঁর পর গ্যারেথ সাউথগেটই দ্বিতীয় কোচ, যাঁর অধীনে ইংলিশরা বিশ্বকাপের পর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেরও এখন শেষ চারে। রামসির দল বিশ্বকাপ জিতেছিল, সাউথগেট কি শূন্য হাতে ফিরবেন? তার আগে আজ ফাইনাল নিশ্চিত করতে হবে ডার্ক হর্স ডেনমার্ককে হারিয়ে।

ড্যানিশরা ১৯৯২ ইউরোর স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। সেবারও তাদের কেউ ফেভারিট ধরেনি। কিন্তু মাঠে রূপকথা লিখেছিলেন হেনরিক লারসনরা। এবারও রূপকথা নয়তো কী! সেই কবে ইউরো জয়ের পর এবারের আগ পর্যন্ত আর কোনো বড় আসরের সেমিফাইনালেই যে উঠতে পারেনি তারা। এবারের টুর্নামেন্টেরও প্রথম দুই ম্যাচেই হার। কে ভেবেছিল তারা শেষ চারে থাকবে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ইউরোপীয় এ আসরে নক আউট রাউন্ডে ওঠার রেকর্ডই নেই যে আর কারো। আর ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের সেই দুর্ঘটনা। যেদিন ফুটবলটা গৌণ হয়ে গিয়েছিল, ইউরোর চাকচিক্যে নেমে এসেছিল বিষাদের কালো ছায়া। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে এরিকসেন যেমন ফিরেছেন, তেমনি ড্যানিশদেরও জ্বলে ওঠা। গ্রুপে বাঁচা-মরার শেষ ম্যাচে রাশিয়াকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা। শেষ ষোলোতেও ওয়েলসের জালে এক হালি গোল দিয়েছে। যে চেক প্রজাতন্ত্রকে মনে করা হচ্ছিল এবারের আসরের ডার্ক হর্স; প্যাট্রিক শিকের সেই দলকে বিদায় করে ড্যানিশরাই এখন এই আসরের বড় বাজি।

জার্মানিকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ইউক্রেনের জালে গোলোৎসব করা ইংলিশরাও তাই স্বস্তিতে নেই। ওয়েম্বলিতে আজ তাই এক রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালেরই আশা করতে পারেন ফুটবপ্রেমীরা। হ্যারি ম্যাগুয়ার স্বপ্ন দেখছেন। গত বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনালেই ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে ফাইনালে উঠতে না পারার স্মৃতিটা তাঁর কাছে টাটকা। সেটি মনে করেই বলছিলেন, ‘সেই ম্যাচের থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে নিজেদের ডেনমার্কের বিপক্ষে এই সেমিফাইনালে। সেবার অনেক দিন পর আমরা এমন একটা পর্যায়ে উঠে এসেছিলাম, তাতে নিজেদের মধ্যে একটা জড়তা ছিল। এবার তা নেই।’ ড্যানিশদের প্রতি অবশ্য পূর্ণ সমীহই আছে এবারের আসরে ইংলিশদের অন্যতম সেরা এই পারফরমারের, ‘র্যাংকিংয়ের দিক দিয়ে এ পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া দলগুলোর চেয়ে ওরাই সবচেয়ে এগিয়ে। দারুণ একজন কোচের অধীনে অসাধারণ একটা দল ওরা এবং এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দেও আছে।’ ওয়েম্বলিতে দুই দলের মুখোমুখি সাত দেখায় প্রতিবারই ম্যাচ শেষ ১-০ ব্যবধানে। এর মধ্যে পাঁচটিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের সর্বশেষ দেখায় অবশ্য ড্যানিশদেরই জয়, ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের একমাত্র গোলে। সেই এরিকসেন আজ টিভির সামনে বসে সতীর্থদের জন্য গলা ফাটাবেন নিশ্চিত। ক্যাসপার উলমান্ডের এই দলটাও তো সেই অনুপ্রেরণা নিয়েই এতটা পথ চলে এসেছে। আজ ওয়েম্বলিতে ডেনমার্ক, ইংল্যান্ড দুই দলেরই তাই আগুনে পরীক্ষা। এএফপি, বিবিসি



সাতদিনের সেরা