kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

মোহামেডানকে বিধ্বস্ত করে শুরু আবাহনীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০৩:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোহামেডানকে বিধ্বস্ত করে শুরু আবাহনীর

চোট কাটিয়ে সুপার লিগ দিয়েই এই আসরে প্রথমবার আবাহনীর হয়ে মাঠে নামলেন লিটন কুমার দাস। তবে সুবিধা করতে পারলেন না। তাঁর দ্রুত বিদায়ের পর ঝড় তুললেন মুনিম শাহরিয়ার (২৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৩), সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তও (১৭ বলে ৩ ছক্কায় ২৭)। তাঁদের ধরে দিয়ে যাওয়া ছন্দের সঙ্গে তাল মেলালেন ম্যাচ সেরা মুশফিকুর রহিমও। ৩২ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৫৭ রানের হার না মানা ইনিংসে আবাহনী স্কোরবোর্ডে জমা করল চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) সর্বোচ্চ পুঁজিও।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৫০ রানের লক্ষ্যও যেখানে নিরাপদ বলে প্রমাণিত, সেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৭ উইকেটে ১৯৩ রান মোহামেডানকে এমন চাপে ফেলল যে শুরুতেই তারা ছন্নছাড়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হওয়ার আগেই ২ উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। এই ধাক্কা সামলাতে না পারা মোহামেডান ৪২ রানেই হারিয়ে বসে ৬ উইকেট। সেখান থেকে আবু হায়দারের ফিফটি (৪২ বলে ৫৩*) ও মাহমুদুল হাসানের (৩৬ বলে ৩৭) ব্যাটে ৭ উইকেটে ১৩৩ রান পর্যন্ত যাওয়ার পরও মোহামেডানের বিশাল হারের লজ্জা। তাদের ৬০ রানে বিধ্বস্ত করেই সুপার লিগ শুরু করল মুশফিকুর রহিমের দল।

আবাহনীর মতো অত না হলেও মিরপুরে ১৬৪ রান তুলে ফেলা দলের নাকে তেল দিয়েই ঘুমিয়ে পড়ার কথা; কে তাড়া করবে এই রান! কিন্তু গতকাল সুপার লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের জয়ে সেটিই করে দেখিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি। প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে উদ্ধত তাদের অধিনায়ক নুরুল হাসানের ব্যাট। ১৭ বলে অপরাজিত ৪৪, ৭ উইকেটে দলের জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় দ্রুততম ফিফটির চেষ্টা আর করা হয়নি নুরুলের। তবে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানের কাছে মূল দাবি ‘ক্লিন হিটিং’ মিটিয়ে গেছেন তিনি। নুরুল একা নন, বহুদিন পর শেখ জামাল বনাম প্রাইম ব্যাংক ম্যাচের মূল আকর্ষণই ছিল পাওয়ার হিটিং। নুরুলের আগে শেখ জামালের ওপেনার সৈকত আলী কিংবা প্রাইম ব্যাংকের মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটেও ঝড় উঠেছে।

তবে ম্যাচের সেরা প্রদর্শনী নুরুলের ব্যাটিং। ৩৬ বলে ৩ ছক্কা আর ৬ বাউন্ডারিতে ৬০ রান করা সৈকত আলী এবং পরের ওভারেই আরেক সেট ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসকে (৪০ বলে ৪৪) ফিরিয়ে দেওয়ার পর জয়ই দেখছিল প্রাইম ব্যাংক। দলটির যে ক্ষুরধার বোলিং আক্রমণ, তাতে মুঠো গলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু সৈকত আর ইমরুল মিলে আগেই প্রাইম ব্যাংকের বোলিং অহমে চোট দিয়ে গেছেন। নুরুল আরো সংহারী। শরিফুল ইসলামের বাউন্সারকে ফোরহ্যান্ড শটে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা, পরের বল সোজা ব্যাটে লং অন দিয়ে আছড়ে ফেলেন সাইটস্ক্রিনের কাছে। রুবেলকে ‘অবমাননাকর’ শটটি খেলার আগে প্রাইম ব্যাংকের স্পিনার মনির হোসেনকে একই জায়গা দিয়ে নুরুল আছড়ে ফেলেন সীমানার ওপারে। প্রাইম ব্যাংকের সবচেয়ে নামি বোলার মুস্তাফিজুর রহমানও এদিন ৩ ওভারে গুনেছেন ৩৭ রান। তার আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংকের শুরুটা ভালো না হলেও মিঠুন (৪২ বলে ৬৭*) ও রকিবুল হাসানের (১৯ বলে ৩৪*) চতুর্থ উইকেটে ৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপে ৩ উইকেটে ১৬৪ রানের ইনিংস গড়েছিল প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু সৈকত আর নুরুলের ‘খুনে’ ব্যাটিংয়ে এই  রানপাহাড়ও ১১ বল বাকি থাকতেই টপকে গেছে শেখ জামাল। আর শুরুর তাণ্ডবে ২৮ বলে ফিফটি করা সৈকত আলীর হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

গতকাল সকালের ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ১২ ওভারে তারা ৩ উইকেটে ৭৪ রান তুলতেই বৃষ্টির কারণে খেলা থামিয়ে দেন আম্পায়ার। রিজার্ভ ডেতে খেলা এখান থেকেই শুরু হবে।



সাতদিনের সেরা