kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

সাকিবের লাথি এবং 'চোর' 'চোর' স্লোগান শুনে আম্পায়ারদের পালানো

সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল   

১২ জুন, ২০২১ ১৯:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাকিবের লাথি এবং 'চোর' 'চোর' স্লোগান শুনে আম্পায়ারদের পালানো

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের ঘটনা। ঢাকা তৃতীয় বিভাগ লিগে মুখোমুখি হয়েছিল কামরাঙ্গীর চর স্পোর্টিং ক্লাব এবং ঢাকা রয়্যাল ক্রিকেটার্স। সেই ম্যাচে দুই আম্পায়ার ছিলেন সাইদুর রহমান ও জহিরুল ইসলাম (জুয়েল)। যাদের বিরুদ্ধে ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিংয়ের অভিযোগ ছিল। ওই ম্যাচে তারা রয়্যাল ক্রিকেটার্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ৪টি নিশ্চিত আউট তারা দেননি! যে কারণে শেষ পর্যন্ত 'চোর' 'চোর' স্লোগানের মাঝে তাদের মাঠ ছেড়ে পালাতে হয়!

হ্যাঁ, বাংলাদেশের মাটিতেই এই ঘটনা ঘটেছিল। যে ঘটনার ভিডিও এখনও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রায় সব স্তরের ম্যাচই যে ফিক্সিং হয়, সেটা কারও অজানা নয়। এ কারণেই এখন পর্যন্ত মানসম্মত অবস্থায় যেতে পারেনি ঘরোয়া ক্রিকেট। গতকাল শুক্রবার সাকিবের 'প্রতিবাদের' ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং। দেশের শীর্ষ দুই ক্লাবের ম্যাচ ছিল গতকাল। তার মধ্যে একটি ক্লাবের বিরুদ্ধে 'আম্পায়ারকে হাত করে নেওয়ার' অভিযোগ অনেক পুরনো।

আরও পড়ুন : 'চোর' 'চোর' স্লোগান শুনে পালিয়ে গেলেন আম্পায়াররা! (ভিডিওসহ)

আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আম্পায়ার ছিলেন ইমরান পারভেজ এবং মাহফুজুর রহমান। এর মধ্যে ইমরান পারভেজের ওপর সাকিব চটেছিলেন একটি এলবিডাব্লিউ না দেওয়ায়। যেটিকে দেখে পরিষ্কার আউট মনে হয়েছিল। কয়েক মিনিট পর অপর আম্পায়ার ইমরান পারভেজ বৃষ্টি আসায় খেলা বন্ধ করেন। তখন তার ওপরেও চটে যান সাকিব। মাঠ ছাড়ার সময় তার সঙ্গে লেগে যায় খালেদ মাহমুদ সুজনের। কিছু সময় পরেই সাকিব নিজের অনুতাপ প্রকাশ করেন। সুজন, আবাহনী এবং ভক্তদের কাছে ক্ষমাও চান।

আজ জানা গেছে, সাকিব ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন। এতে অনেকে খুশি। আবার অনেকের চোখে 'বেয়াদব সাকিব'কে কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে তারা নাখোশ। সাকিব গতকাল যা করেছেন, তা কোনোভাবেই ক্রিকেটের আচরণবিধি সমর্থন করে না। এজন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হতেই পারে। তবে সাকিবকে শাস্তি দিলে কি ঘরোয়া ক্রিকেটের নোংরামি বন্ধ হয়ে যাবে? সব দুর্নীতি দূর হয়ে যাবে? সাকিব লাথিটা দিয়েছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটীয় দুর্নীতিকে।তার পরবর্তী কাণ্ডগুলো ছিল প্রথমটির ধারাবাহিকতা।

আরও পড়ুন :  ঘরোয়া ক্রিকেটে মনযোগ দিয়ে লাভটা হবে কী : বিসিবি প্রধান

এদেশে আম্পায়ারকে কিনে নেওয়া, কিংবা পছন্দমতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ঠিক এই কারণেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে মাথা ঘামান না। খেলতেও চান না। কারণ তারা ভালো করেই জানেন, এই নামকাওয়াস্তে ঘরোয়া লিগ খেলে আপাতদৃষ্টিতে কোনো লাভ নেই। সাকিব যার বিরুদ্ধে লেগ বিফোরের আবেদন করেছিলেন, তিনি মুশফিকুর রহিম। দুজনেই বড় তারকা। সাকিব যখন পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিংয়ের বিরুদ্ধে রাগ ঝাড়ছিলেন, মুশফিকও নিশ্চয়ই আম্পায়ার তার পক্ষ নিয়েছেন বলে লজ্জা পাচ্ছিলেন!

২০১৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছিল। ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন দেশের ক্রিকেটাররা। সেই ১১ দফার অধিকাংশই ছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের সংস্কার নিয়ে। ভারত, ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলো তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে এসব সংস্কার করে ক্রিকেটে পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আজ বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসলে সেই আন্দোলনকে সফল বলা যেত। তিন বছর আগের ওই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব; গতকালও 'প্রতিবাদী' কিংবা 'অপরাধী'র ভূমিকায় দেখা গেল সেই সাকিবকেই।



সাতদিনের সেরা