kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

আবার ‘ভুল খবরে’ সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

১২ জুন, ২০২১ ০২:৩০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আবার ‘ভুল খবরে’ সাকিব

ছবি : মীর ফরিদ

বিতর্ক পিছু ছাড়ে না সাকিব আল হাসানের। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন তিনি। আবার ঘটনাক্রম বিবেচনায় বিতর্কও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। সর্বশেষ গতকাল আবাহনীর বিপক্ষে প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মোহামেডান অধিনায়ক যে আচরণ করেছেন, তা ক্রিকেট আইনে শাস্তিযোগ্য। যদিও ম্যাচ রেফারি গতকাল কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তবে সাকিবের নিজের ‘প্রফাইলে’র সঙ্গে বিসদৃশ। তাই ম্যাচের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।

দিনকাল ভালো যাচ্ছে না সাকিব আল হাসানের। ২০১৯ বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর জুয়াড়ি সম্পর্কে তথ্য গোপন করার অভিযোগে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পর ব্যাটে-বলে নিজেকে খুঁজে ফিরছেন তিনি নিজেও। সর্বশেষ টানা তিন হারে সুপার লিগ থেকে ছিটকে পড়ার দশা সাকিবের দল মোহামেডানের। এ অবস্থায় গতকাল ব্যাটে রানের আভাস মিলেছে। বোলিংয়ে সমস্যা হচ্ছিল না। কিন্তু নিজের করা একমাত্র ওভারের দুই ও তিন নম্বর বলেই একটি করে চার ও ছক্কা মেরেছেন মুশফিকুর রহিম! তার আগে মাত্র ৯ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে ফেলা আবাহনীর হার নিশ্চিত করতে মুশফিকের উইকেটটিই সবচেয়ে দরকার সাকিবের। ওভারের শেষ বলে সে সুযোগ এসেছিলও তাঁর সামনে। টিভি রিপ্লেতে খুবই যৌক্তিক আবেদন মনে হলেও ঝটিতি ‘নট আউট’ ঘোষণা দেন আম্পায়ার ইমরান পারভেজ। জবাবে আরো দ্রুততার সঙ্গে লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙে সাকিব আম্পায়ারের ওপর তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

আধুনিক ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য এই দৃশ্য পরের ওভারেই ভুলিয়ে দিয়েছে সাকিবের আরেকটি কাণ্ড। আকাশে ঘন মেঘ দেখে মাঠকর্মীদের পিচ কাভার নিয়ে আসার ইঙ্গিত করেন আরেক আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলের আগে এভাবে খেলা থামিয়ে দেওয়ায় ভিসুভিয়াসের মতো বিস্ফোরণ ঘটান সাকিব। এগিয়ে এসে মাহফুজুরের সামনের তিনটি স্টাম্প তুলে আছাড় মারেন মাটিতে। বলার অপেক্ষা রাখে না, অনর্গল আম্পায়ারকে উদ্দেশ করে কী যেন বলে যাচ্ছিলেন তিনি। সেসব মোটেও শ্রুতিমধুর হওয়ার কথা নয়।

ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে উত্তেজনার বারুদ ঠেসে দেওয়ার যে তখনো বাকি, কে জানত! সাকিবরা মাঠ ছাড়ার আগেই বৃষ্টির ফোঁটা পড়া শুরু। তাতে প্রকৃতি শান্ত হলেও সাকিব খুব অশান্ত। হঠাৎ দেখা গেল আবাহনীর ডাগআউট থেকে মোহামেডানের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। এগিয়ে আসছেন সাকিবও। অনিবার্য সে সংঘাত প্রতিহত করেছেন মোহামেডানের সহকারী কোচ ডলার মাহমুদ ও শামসুর রহমান। শেষোক্তজন মাহমুদকে টেনে নিয়ে যান আবাহনীর ড্রেসিংরুমে। আর ডলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাকিবকে ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে নেওয়ার। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখা গুটিকয় আবাহনী সমর্থক গালাগাল করেছিল সাকিবকে। জবাবে সাকিবের পাল্টা দেওয়া দেখে আবাহনীর ডাগআউট ভেবেছিল উদ্দেশ্য বুঝি তারা। পরে নাকি ভুল-বোঝাবুঝির অবসানও হয়েছে সাকিব ও মাহমুদের। যদিও ম্যাচের পর রীতিতে পরিণত হওয়া দুই দলের সৌহার্দ্র বিনিময়কালে ড্রেসিংরুম থেকে বের হতে দেখা যায়নি আবাহনী কোচ মাহমুদকে। তবে বৃষ্টির পর খেলা আবার শুরু হওয়ার আগে আবাহনীর খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল সাকিবকে দেখা গেছে। পরে আম্পায়ারদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।

এগুলো তো গতকালের ঘটনাক্রম। গত সপ্তাহেই ভিন্ন কারণে খবর হয়েছেন সাকিব আল হাসান। বিসিবির সাত কোটি টাকা মূল্যমানের বায়ো-বাবল রীতি উপেক্ষা করে দুজন নেট বোলার নিয়ে প্র্যাকটিসে গিয়েছিলেন তিনি। যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল অংশগ্রহণকারী সবগুলো দলকে। এরপর শুনানিতে ভুল স্বীকার করায় সতর্কবার্তা শুনতে হয়েছে সাকিবকে, পূর্বঘোষিত সাজাভোগ করতে হয়নি।

এবার কি হবে? টিভিতে খেলা দেখিয়েছে। সাকিবের এই উগ্রতার ভিডিও ক্রিকেট সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। আম্পায়ারদের কাজের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) খুবই তৎপর। এসংক্রান্ত পরিষ্কার গাইডলাইনও আছে। ম্যাচের পরপরই অনুষ্ঠিত হয় অভিযুক্ত ক্রিকেটারের শুনানি। এসব ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বিনা বাক্য ব্যয়ে ভুল স্বীকার করে নেন। তবে শাস্তি অনিবার্য।

সাকিবেরও কি শাস্তি হবে? এ ব্যাপারে গতকাল সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আইসিসি স্বীকৃত ম্যাচ। এটা দেখে থাকেন বিসিবির আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’

সেই সিদ্ধান্তের আগেই একযোগে অনেকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সাকিব আল হাসান। নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। যারাই আজকের ম্যাচে আমার আচরণ দেখে কষ্ট পেয়েছেন, বিশেষ করে ঘরে বসে যাঁরা খেলা দেখেছেন, তাঁদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার মতো অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমনটা মোটেও কাম্য নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে প্রতিকূল পরিবেশে এমনটা হতে পারে। এমন ভুলের জন্য সকল দল, টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও অর্গানাইজিং কমিটির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এমন কোনো কাজে আমি আর জড়াব না। সকলের জন্য ভালোবাসা।’



সাতদিনের সেরা