kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

‘জীবন ফিরে পাওয়া’র টুর্নামেন্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২ জুন, ২০২১ ০২:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘জীবন ফিরে পাওয়া’র টুর্নামেন্ট

জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা ক্রিকেট বোর্ডের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন সামান্যই। করোনাকালে তা আরো দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠলে নিজেকে ফিট রাখার জন্য তাই ঢাকা ছাড়েন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দীক। নিজের ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে থিতু হন নিজ জেলা রাজশাহীতে। সেখানে বাড়ি লাগোয়া স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন করেছেন যেমন, তেমনি পদ্মার পারে ফিটনেস ঠিক রাখতে ঘামও ঝরিয়েছেন যথেষ্ট। এর ফলও পেয়েছেন তিনি, ‘বিপ টেস্টে ১২.৮ আর ইয়ো ইয়ো টেস্টে ১৯.১ স্কোর করি, যা আমার জাতীয় দলে থাকার সময়কার মতোই ফিটনেস। তৈরি ছিলাম কিন্তু সমস্যাও ছিল।’

সেই সমস্যাটি মাঠে নামতে না পারার। গত বছরের ১৬ মার্চ প্রথম রাউন্ড হওয়ার পর স্থগিত হয়ে যায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। এবার স্থগিত সেই আসরটিই টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ৩১ মে থেকে শুরু হওয়ার মাঝে পেরিয়ে গেছে সাড়ে ১৪ মাস। এই সময়ে জুনায়েদ খেলতে পেরেছেন করোনার ছোবলে দুই রাউন্ড হওয়ার পরই স্থগিত জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) মাত্র দুটো ম্যাচ। অনেক আগেই জাতীয় দলের বিবেচনা থেকে ছিটকে পড়া এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সুযোগ হয়নি জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে হওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেও। খেলার অপেক্ষায় থেকে থেকে অবশেষে ব্রাদার্সের হয়ে গত পরশু ম্যাচ খেলার আনন্দ তাঁর কথায়, ‘সাড়ে ১৪ মাস পর সাদা বলে খেললাম। মাঝে কিছু খেপের ম্যাচ খেলেছি যদিও। তবে সেগুলোতে তো আর ডিপিএলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ থাকে না।’

তবে এই আসরে খেলা সবাই জুনায়েদের মতো অবস্থাপন্ন নন। তাঁর কাছে খেলতে পারা মনে আনন্দ ফিরিয়ে আনলেও অনেকের কাছেই ডিপিএল করোনাকালীন দুঃসহ সময় পেরিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারার পথে প্রথম পদক্ষেপ। ব্রাদার্সেই জুনায়েদের সতীর্থ মাইশুকুর রহমান কালও কিছু উদাহরণ টানতে গিয়ে শিউরে উঠলেন, ‘খেলোয়াড়রা জানত কোনো না কোনো এক সময় খেলা শুরু হবেই। সে জন্য নিজেদের ফিট রাখার কাজটি করে যেতে হয়েছে। এমনিতেই বিসিবির রাডারের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য কাজটি কঠিন। তবু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে কিছু বিনিয়োগ আমাদেরও করে যেতে হয়েছে। উপার্জন না থাকার সময়টিতে কতজনকে যে কত বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে! আমি কারো নাম বলছি না। তবে এই সময় অনেকেই তার প্রিয় জিনিসটি ত্যাগ করেছে। কেউ পছন্দের বাইকটি বিক্রি করে দিয়েছে। কাউকে দেখেছি গাড়ি বিক্রি করতে। কেউ কেউ আবার বিক্রি করেছে স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কারও।’

ডিপিএল শুরু হওয়া মানে তাঁদের আবার উপার্জনের কক্ষপথে ফেরাও। সবার এনসিএলেও খেলার সুযোগ হয় না। সিংহভাগ ক্রিকেটারেরই আয়-রোজগার হয় এই আসর খেলেই। টেস্ট ইতিহাসে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি যাঁর, সেই সোহাগ গাজী সবচেয়ে গুরুত্ব দিলেন এই বিষয়টিকেই। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের এই অফস্পিনার বলছিলেন, ‘অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করলে এনসিএলের সঙ্গে ডিপিএলের তুলনা চলে না। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বাদ দিলে অন্যদের বছরের মূল রোজগারটা হয় এই ক্লাব ক্রিকেট খেলেই। সেটি জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে আয়োজন করায় বিসিবিকে ধন্যবাদ। তা ছাড়া এনসিএলে সবাই সুযোগ পায় না, এমন ক্রিকেটারও কম নয়। সবাই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের চুক্তিতেও নেই। ওদের জন্য এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়াটা আরো জরুরি ছিল।’

এঁদেরই একজন মোহামেডানের ওপেনার অভিষেক মিত্র। এনসিএলে রাজশাহী দলে থাকলেও খেলা হয়নি, চুক্তিতেও নেই তিনি। তাঁর প্রতিক্রিয়া শুনে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে ডিপিএল তাঁদের ‘কোমা’ থেকেই ফেরাল, ‘বলতে পারেন এটি আমাদের জীবন ফিরে পাওয়ার টুর্নামেন্ট।’



সাতদিনের সেরা