kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

অপেক্ষার অবসানের পর ১১ বলের আক্ষেপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

২৬ মে, ২০২১ ০৪:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপেক্ষার অবসানের পর ১১ বলের আক্ষেপ

ছবি : মীর ফরিদ

সেই কবে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি! নির্দিষ্ট করে বললে এই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর। এরপর পেরিয়ে গেছে সাড়ে পাঁচ বছর। অথচ পরিশ্রম-নিবেদন আর নির্ভরযোগ্যতা-ধারাবাহিকতায় এ সময়েই নিত্যনতুন অর্জনের মালা গেঁথেছেন মুশফিকুর রহিম। বিদেশের মাটিতে আরো তিনটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছেন। তিন অঙ্ক ছুঁতে ছুঁতেও না-ছোঁয়া ইনিংস আছে আরো দুটি। তাঁর সাত টেস্ট সেঞ্চুরির চারটিই এই সময়ে। এর মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি আবার ডাবল। এত কিছুর পরও দেশে আরেকটি ওয়ানডে সেঞ্চুরির অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে শুধু দীর্ঘতরই হচ্ছিল। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি দিয়ে কাল অবসান হলো মুশফিকের সে অপেক্ষার।

১২৭ বলে ১২৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে আসা জয়ে বাংলাদেশের একটি ‘চক্রপূরণ’-এর অপেক্ষার অবসানও ঘটাল। সেই ২০১৫ সালেই দুই ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানকে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে হারানো হয়ে গেলেও এত দিন অধরা ছিল শ্রীলঙ্কা। বৃষ্টি আইনে ১০৩ রানের জয়ে এই প্রথমবারের মতো তাদের বিপক্ষে সিরিজ জেতার হাসিও হাসা গেল। এমন জয়ে ব্যাট হাতে অবদান রাখতে পারার আনন্দও মিশে থাকল টানা দুই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা মুশফিকের প্রতিক্রিয়ায়। ম্যাচের পর বলছিলেন, ‘জয় সব সময়ই বিশেষ। আর আপনি নিজে তাতে অবদান রাখলে তা দারুণ ভালোলাগার অনুভূতিই দেয়।’

দেশের মাটিতে আরেকটি ওয়ানডে সেঞ্চুরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের আনন্দের সঙ্গে অবশ্য আক্ষেপও করতে শোনা গেল মুশফিককে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি আউট হওয়ার সময় যে বাংলাদেশ ইনিংসের আরো ১১টি বল রয়ে গিয়েছিল। তিনি থাকলে দলের ইনিংসও আরো বড় হতো নিঃসন্দেহে। সেই কাজটি অসমাপ্ত রেখে আসার জন্য তাই দুঃখও ঝরল এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে, ‘আমি ভীষণ হতাশই হয়েছিলাম (আউট হওয়ার পর)। কারণ ইনিংসটা শেষ করে আসতে পারিনি। তখনো ১১টি বল বাকি ছিল।’

প্রথম ওয়ানডের মতো এই ম্যাচেও বিপর্যয়ের মধ্যে দলের হাল ধরতে হয়েছিল তাঁকে। আবার উইকেটের ধর্ম বুঝে ব্যাটিংয়ের দাবিও মিটিয়েছেন ষোলো আনাই, ‘এ ধরনের উইকেটে খুব বুঝে-শুনে শট খেলতে হয়। কারণ এখানে ব্যাটিং করা খুব সহজ কাজ ছিল না।’ আগের ম্যাচেও উইকেট এ রকমই ছিল অনেকটা। সেদিনও বেশ রয়েসয়েই খেলেছেন। আগের ম্যাচেই তাঁর অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরির দেখা পাওয়াটা শুধুই সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসা মুশফিককে থামতে হয় ৮৪ রানে। কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শূন্য থেকে শুরু করে যথারীতি আগের ম্যাচের মতোই সাবধানী তিনি। বিগ শট না খেলে সিঙ্গেল-ডাবলসের ওপর নির্ভর করে রান বাড়ানোয় মনোযোগী ছিলেন বেশ। প্রথম বাউন্ডারি মারেন ৪০ বল খেলার পর। আর ৭০ রান পর্যন্ত তাঁর ইনিংসে বাউন্ডারি ওই একটিই।

এতেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন যে আগের ম্যাচের মতো ভুলে আর সেঞ্চুরির স্বপ্ন বিসর্জনে পাঠাতে চান না। কিন্তু সেই সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও আরেকবার তা না পাওয়ার বঞ্চনার সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিল। দুই দফায় যে বৃষ্টির বাধা! কারণ প্রথমবার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় মুশফিকের রান ৮৪। এ দফায় খেলা বন্ধ থাকে ২৬ মিনিট। সদয় প্রকৃতি আরেকটি সুযোগ নিয়ে এলেও আবার বাধা। এবার মুশফিককে ডেঞ্ছসিং রুমে ফিরতে হয় ৯৬ রান নিয়ে। ৩৮ মিনিটের আরেক দফার অপেক্ষা। তাঁর সেঞ্চুরির সঙ্গে বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা তবু চলতেই থাকে। ৯৯ রানে থাকার সময়ও বৃষ্টি ঝমঝমিয়ে ঝরছিল। প্রকৃতির সেই চোখরাঙানি অবশ্য ছিল ক্ষণিকের। মুশফিকের সেঞ্চুরিকে আরেকবার সংশয়ে ফেলেই জলদি থেমে যায় তা। লঙ্কান পেসার দুশমন্ত চামিরার বল ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়েই ১১৪ বলে তিনি পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। সাড়ে পাঁচ বছরের অমপক্ষার অবসানও তাতেই। সময়ের দাবি মেটানো ব্যাটিং অবশ্য করতে শুরু করেছিলেন আরো আগে থেকেই। তাঁর ইনিংসে যে বাউন্ডারির মার শেষ পর্যন্ত ১০টি। অর্থাত্ ৭০-এর পর ৫৫ রানের মধ্যেই মেরেছেন পরের ৯টি! বাকি ১১ বল খেলতে পারলে সংখ্যাটা আরো বেশি হতো নিশ্চিতভাবেই।



সাতদিনের সেরা