kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

ইংল্যান্ডে সমকামীদের ক্রিকেট ম্যাচ ; নতুন ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ মে, ২০২১ ২১:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইংল্যান্ডে সমকামীদের ক্রিকেট ম্যাচ ; নতুন ইতিহাস

বিশ্বে সমকামী নারী/পুরুষ ক্রিকেটার বিরল নয়। তবে সমকামীদের আলাদা ক্রিকেট ম্যাচ বিরল বটে। এবার সমকামীদের ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। গতকালের ২৩ মে বার্মিংহামের ওইয়েলি হিল ওভালের মাঠে ৪০ ওভারের এই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল লন্ডনের ক্লাব গ্রেসেস ও বার্মিংহাম ইউনিকর্নস। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম অনুষ্ঠিত  হয়েছে সমকামীদের ম্যাচ। এর মাধ্যমে সমকামীদের ক্রিকেট যেন আলাদা স্বীকৃতি পেয়ে গেল।

ইংল্যান্ডের বুকে 'গ্রেসেস' হলো সমকামীদের প্রথম ক্রিকেট ক্লাব। ১৯৯৬ সালে এই ক্লাব স্থাপিত হয়। তারপর এই ক্লাবকে দেখে আরও অনেক ক্লাব গড়ে উঠেছে। ক্লাবের চেয়ারম্যান লিও সিকনের বলছেন, 'আমাদের ক্লাব শুধু ইংল্যান্ড নয় সারা দুনিয়ার কাছে উদাহরণ তৈরি করেছে। ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করে আমরা প্রমাণ করলাম যে, এই খেলা জানলেই আপনি প্যাড বেঁধে ব্যাট নিয়ে মাঠে নামতে পারবেন। আপনি কোন ধর্ম, কোন লিঙ্গ সেটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে ক্রিকেট খেলে আমরা সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টাও করছি।'

গ্রেসেস দলের অধিনায়ক মণীশ মোদি আবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত। গুজরাটের এক ক্রিকেট পাগল পরিবারে জন্ম হলেও পরে তার পূর্বপুরুষ ইংল্যান্ডে চলে যান। মণীষ পেশাদার ক্রিকেট শুরু করলেও সমকামী হওয়ায় ক্যারিয়ার এগোয়নি। তিনি বলেছেন, 'জীবনে সবচেয়ে ভালোবাসার জিনিস হলো ক্রিকেট। কিন্তু সমকামী হওয়ার জন্য আমাকে অনেক অপমান হজম করতে হয়েছে। সবাই লিঙ্গের ভিত্তিতে আমাকে বিচার করেছে। কেউ আমার ক্রিকেট বোধকে পাত্তা দেয়নি। তবে অবশেষে আমাদের জয় হলো। অনেক বঞ্চনার পর আমরা যেন স্বাধীনতা পেলাম।'

ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের জন্ম হয়েছিল। সেই দেশেই এবার দেখা গেল সমকামীদের প্রথম ম্যাচ। এমন উদ্যোগ নিতে পেরে গর্ববোধ করছে ইসিবি। বোর্ডের জনসংযোগ উপদেষ্টা হেনরি কোয়েন বলেছেন, 'গ্রেসেস ও বার্মিংহাম ইউনিকর্নস ক্লাবের এই উদ্যোগ শোনার পর খুব আনন্দ পেয়েছিলাম। আমরা প্রথম বিশ্বের দেশ হলেও সমকাম নিয়ে এখনও অনেকের নাক সিটকানো ব্যাপার আছে। কিন্তু সমকামী মানুষদের দিকটাও তো ভেবে দেখতে হবে। তাই ইসিবি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে সমকামীদের ক্রিকেট ক্লাবের সংখ্যা আরও বাড়বে।'



সাতদিনের সেরা