kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

লড়ছেন ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ মে, ২০২১ ২০:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লড়ছেন ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান

লড়ছেন হাসরাঙ্গা। ছবি : এএফপি

পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান হাসরাঙ্গা ডি সিলভা। ইতোমধ্যেই তিনি হাফ সেঞ্চুরি তুলে ফেলেছেন। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে যে লড়াই চালাতে হচ্ছে, তার নেতৃত্ব এখন হাসরাঙ্গার হাতে। এখন পর্যন্ত তিনি ৩টি চার এবং ৫টি ছক্কা মেরে দিয়েছেন। ৭ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন এখন ৫০ বলে ৬১ রান। বাংলাদেশ শিবিরে বাড়ছে চাপ।

রান তাড়ায় নেমে দলীয় ৩০ রানে অতিথিদের দূর্গে প্রথম আঘাত হানেন মেহেদি মিরাজ। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে দানুশকা গুনাথিলাকাকে (২১) কট অ্যান্ড বোল্ড করেন এই অল-রাউন্ডার। স্কোরবোর্ডে আর ১১ রান যোগ হতেই মঞ্চে মুস্তাফিজুর রহমান। তার বলে নিশাঙ্কার (৮) ক্যাচ নেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এরপর ৪১ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন কুশল পেরেরা আর কুশল মেন্ডিস। এসময় সাকিব আল হাসান নিজের দ্বিতীয় ওভারে তুলে নেন কুশল মেন্ডিসের (২৪) উইকেট। কুশল পেরেরা বিরুদ্ধেও লেগ বিফোরের আবেদন উঠেছিল। সাকিব রিভিউ নিয়েও ব্যর্থ হন।

সেই পেরেরাকে পরের ওভারেই শিকার করেন মেহেদি মিরাজ। ৫০ বলে ৩০ রান করা পেরেরা বোল্ড হয়ে যান মিরাজের বলে। ফিরতি ওভার করতে এসে মিরাজ ফের বোল্ড করে দেন ধনাঞ্জয়া ডিসিলভাকে (৯)। ৯৭ রানে লঙ্কানদের ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়ে যায়। এরপর আসেন বান্দারাকে (৩) বোল্ড করে মিরাজ ৪ নম্বর শিকার ধরেন। ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩০ রান দিয়ে মিরাজ নেন ৪ উইকেট। লঙ্কানদের ৭ম উইকেট পতন ঘটে সাইফউদ্দিনের বলে দাসুন শানাকা (১৪) বোল্ড হওয়ায়।

একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাসরাঙ্গা ডি সিলভা। ক্রমেই তিনি সঙ্গীহীন হয়ে পড়েন। তারপরেও ৩১ বলে ৩ চার এব ৪ ছক্কায় তুলে নেন ফিফটি। সাকিবের করা ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে ডিম মিডউইকেটে কঠিন ক্যাচ তুলে দিয়ে লিটন দাসের কারণে জীবন পান হাসরাঙ্গা। তখন তার সংগ্রহ ৬৪।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৭ রান করে বাংলাদেশ। দলীয় ৫ রানে চামিরার বলে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার তালুবন্দি হয়ে ফিরেন লিটন দাস। ৩ বলে তার নামের পাশে ০। দুই সিরিজ পর তিন নম্বরে ফেরা সাকিব আল হাসানের ব্যাটিংয়ে জড়তা ছিল। ৩৪ বলে ২ চারে ১৫ রান করে গুনাথিলাকার শিকার হন। ৬৬ বলে ফিফটি পূরণ করা তামিমের ইনিংস থামে ৭০ বলে ৫২ রানে। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং একটি ছক্কা। চারে নেমে বাংলাদেশের ভরসা হয়ে দাঁড়ান সেই মুশফিকুর রহিম। ৫২ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ফিফটি পূরণ করেন।

ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে পাঁচে নামা মোহাম্মদ মিঠুন 'গোল্ডেন ডাক' মেরে প্যাভিলিয়নে ফিরলে মুশফিকের সঙ্গী হন তার ভায়রা-ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই জুটিতেই এগোতে থাকে বাংলাদেশ। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে জুটি পৌঁছে যায় তিন অংকে। এছাড়া মুশফিকও তিন অংকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য। ক্যারিয়ারের ৮ম ওয়ানডে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে তাকে থামতে হয়। মুশফিকের ৮৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ওভার বাউন্ডারিতে গড়া ৮৪ রানের ইনিংসটি থামে সান্দাকানের বলে উদানার তালুবন্দি হয়ে। ভাঙে ১০৯ রানের দারুণ এক জুটি।

মুশফিককে সঙ্গ দিয়ে যাওয়া মাহমুদউল্লাহ ৭১ বলে ক্যারিয়ারের ২৪ নম্বর ফিফটি তুলে নেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সঙ্গী হন তরুণ আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৪৮তম ওভারে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে বোল্ড হয়ে যান ৭৬ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ভীষণ প্রয়োজনীয় ইনিংস খেলা মাহমুদউল্লাহ। শেষদিকে নেমে সুন্দর ব্যাটিং করেছেন আফিফ আর সাইফউদ্দিন। আফিফের ২২ বলে ২৭* আর সাইফের ৯ বলে ১৩* রানের দুটি ছোট অবদানে দলের স্কোর দাঁড়ায় ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৭ রান।১০ ওভারে ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ধনাঞ্জয়া। বাকি তিন উইকেট তিন বোলার ভাগাভাগি করেছেন।



সাতদিনের সেরা