kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

এবার ওয়ানডে মিশন

দুই দলই সমান-সমান

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ মে, ২০২১ ০৩:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই দলই সমান-সমান

ছবি : মীর ফরিদ

নিজেদের নিরঙ্কুশ ফেভারিট বলে যেমন ঘোষণা করলেন না, তেমনি জিতে আইসিসি সুপার লিগের জন্য পয়েন্ট পাওয়ার গুরুত্বের কথাও ভুললেন না বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে সামনে রেখে গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই দক্ষিণ আফ্রিকান তুলে ধরলেন ভবিষ্যৎ ভাবনার গুরুত্বও। সম্প্রতি দলের বাজে ফিল্ডিং থেকে শুরু করে তরুণদের ভূমিকা, বাদ গেল না কোনো প্রসঙ্গই

গত কিছুদিনে দলের বাজে ফিল্ডিং নিয়ে সমালোচনার জবাবে

দেখুন, ফিল্ডিং ব্যাপারটি অনেকাংশে নির্ভর করে আত্মবিশ্বাসের ওপর। এখন এটি নিয়ে আপনি যত বেশি কথা বলবেন, কাজটি তত কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের তাই উচিত হবে দুর্দান্ত সব ফিল্ডিং পারফরম্যান্সের স্মৃতিচারণা করে সেখান থেকে ইতিবাচক ব্যাপারগুলো নেওয়া। আমরাও দারুণ সব ক্যাচ নিয়েছি এবং রান আউট করেছি, কিন্তু এগুলো আমাদের আরো ধারাবাহিকভাবে করতে হবে এবং মনোযোগ সরাতে হবে ভুল থেকেও।

দলে তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরে

আমাদের দলে মুশফিক, রিয়াদ, তামিম ও সাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা আছে। তবে একই সঙ্গে সব সময় তরুণদের সুযোগ দেওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিজ্ঞরা চিরকাল থাকবে না। তাই আশা করছি এই সিরিজে আফিফের মতো খেলোয়াড়রা দলের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে।

ওয়ানডেতে ভালো করতে এখন যে ফর্মুলা অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন

দল হিসেবে বেসিকটা ঠিকঠাক করতে পারলেই হবে। তা করতে পারলে আমরা এমন জায়গায় যাব, যেখান থেকে আরো দু-একটি জিনিস চেষ্টা করে দেখা যেতে পেরে। যদিও গত কয়েকটি ম্যাচে আমরা সে কাজটিই করতে পারিনি। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভালো খেলেছি। এখন যখন আত্মবিশ্বাস আবার নিচুতে নেমে গেছে (নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার পর), তখন খুব জটিল করে কিছু ভাবার নেই। এই ফরম্যাটে সাফল্য পেতে বেসিক ঠিক রাখলেই হবে।

আদর্শ প্রস্তুতি না হলেও মানিয়ে নেওয়া সমস্যা হবে না দাবি করে

গত কয়েক দিন ধরে ছেলেরা প্রস্তুতি নিয়েছে। পুরো কোচিং প্যানেলের না থাকার বিষয়টি আদর্শ না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচ বাবুল ও তালহার উপস্থিতি খুব কাজে দিচ্ছে। তা ছাড়া এই ছেলেরা অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। কাজেই ওরা জানে ওদের কী করতে হবে। আর হেড কোচের সঙ্গে পরামর্শ করে মাঠে সব সিদ্ধান্ত অধিনায়কই নিয়ে থাকে। কাজেই এটি (কোচদের অনুপস্থিতি) প্রভাব ফেলবে না।  

২০১৯-এর জুলাইতে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলা মোসাদ্দেককে দলে রাখার ব্যাখ্যায়

ব্যাটিংয়ের সাত নম্বরের জন্য আমরা এমন একজনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি যে কিনা স্পিন বোলিংটাও করতে পারে। আফিফ ও মোসাদ্দেক এই ভাবনা থেকেই দলে আছে। অবশ্য একই জায়গায় আমরা সৌম্যকেও চেষ্টা করে দেখেছি। মোসাদ্দেক লড়ছে লোয়ার মিডল অর্ডারে জায়গার জন্য। ও এমন একজন যে কিনা ম্যাচ শেষ করে আসতে পারে এবং দুর্দান্ত ফিল্ডারও। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দারুণ এক প্যাকেজও।

পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন প্রসঙ্গে

সম্প্রতি চোট ওকে খানিকটা পিছিয়েই দিয়েছে। আত্মবিশ্বাসও ভালো জায়গায় নেই। তবু সে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ওকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলার জন্য দলে শহীদুলও আছে। আমরা এখনো এখনজন সত্যিকারের অলরাউন্ডার খুঁজছি। সাইফউদ্দিন মূলত বোলারই, যে কিনা শেষের দিকে বিগ শট খেলতে পারে। তবে সেরা ছয়ে ব্যাটিং করার মতো যথেষ্ট ভালো ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেনি এখনো।

জয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ভাবনার গুরুত্ব তুলে ধরে

জেতাটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও চোখ রাখা জরুরি। দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ। এখান থেকে পয়েন্টও তুলে নেওয়ার আছে। পাশাপাশি এই ব্যাপারেও আমাদের সচেতন থাকা দরকার যে অতীত নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে না, সামনেও তাকাতে হবে। দলের উন্নতির ধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত দুই বছর পর সাকিব, তামিম, রিয়াদ ও মুশফিকদের আমরা আর পাব না। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে এখনকার তরুণ খেলোয়াড়রা যেন তখন দায়িত্ব নিতে পারে।

দুই দলের ব্যাটিং অর্ডারের তুলনা করে

দু-একজন বড় খেলোয়াড় ছাড়াই এসেছে শ্রীলঙ্কা। চান্দিমাল নেই, ম্যাথুজও নেই। ওদের চেয়ে আমাদের ব্যাটিং লাইপ আপকে তাই অভিজ্ঞই বলতে হবে। তবে ওরাও কুশল পেরেরা ও কুশল মেন্ডিসের মতো উঁচু দরের খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে। আমার দৃষ্টিতে দুই দলই সমান-সমান। ওরা তরুণ দল নিয়ে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবে। আমাদের ছেলেরাও দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছে। দুই দলের ব্যাটিংয়ের লড়াই দেখার জন্য তাই আমিও মুখিয়ে আছি।



সাতদিনের সেরা