kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

চ্যাম্পিয়নকে তৈরি হতে হয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

২০ মে, ২০২১ ০২:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চ্যাম্পিয়নকে তৈরি হতে হয়

ছবি : কালের কণ্ঠ

দুপুরের ভাপসা গরমে এক বেলার অনুশীলনের ধকলই অনেক। তবে নিজের ‘বাজারমূল্য’ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা যাঁর আছে, তাঁর ব্যাপারই আলাদা। তাই নির্ধারিত অনুশীলন পর্ব শেষে পুরো দল হোটেলে ফিরলেও একজন থেকে যান ড্রেসিংরুমে। প্রায় এক ঘণ্টা পর ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে আসা মানুষটি সাকিব আল হাসান। আরেক সেশন ব্যাটিংয়ের জন্য ইনডোরে ঢোকেন তিনি।

এই দৃশ্যের দুটি ব্যাখ্যা আছে। সরলীকৃত ব্যাখ্যাটি হলো দেশের সেরা ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান নিজের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত। চিন্তিত হওয়ারই কথা। এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ব্যাটে স্বস্তি নেই তাঁর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট আর ওয়ানডেতে একটি করে ফিফটি আছে, তবে সে দুটি ইনিংসে বড়জোর নিজের ছায়া দেখে থাকবেন তিনি। জনমনেও সাকিবের ব্যাটিং নিয়ে সংশয় আছে। দামি সব ‘এন্ডোর্সমেন্টে’র জমানায় এ সংশয়ের গুরুত্ব আছে। তবে সাকিবের মতো তারকাদের কাছে যুগে যুগে আরো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে নিজের ‘প্রেস্টিজ’।

দুইবারের করোনা টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু মাথা আর শরীরের ব্যথা পুরোপুরি না যাওয়ায় দলের সঙ্গে এখনো যোগ দেননি টিম লিডার খালেদ মাহমুদ। আরো দুটি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলে পরে ২১ মে রাতে টিম হোটেলে ওঠার কথা সাবেক এ অধিনায়কের। মাঠে না গেলেও জেনেছেন সাকিবের বাড়তি সেশনের খবর। সন্ধ্যায় টেলিফোনে এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত মাহমুদ, ‘চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার এমনি এমনি তৈরি হয় না। মাশরাফি, মুশফিক, তামিম, রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ)—ওরা সবাই কষ্ট করেই বড় হয়েছে। প্রতিভাবান আপনি অনেক দেখবেন চারপাশে, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার সবাই হয় না। আজকে সাকিব যদি বাড়তি প্র্যাকটিস না করত, কেউ কিছু বলত ওকে? বলত না। এটাই সাকিবকে কিংবা যাদের কথা বললাম, তাদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।’

অন্যরা বলতে আসলে অনেকেই। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব দল—যে তাঁবুতেই থাকুন না কেন, তাঁরা অবিচল! কোচের বেঁধে দেওয়া অনুশীলন শেষেই সিনেমা-নাটকের শুটিংয়ের মতো ‘প্যাক আপ’ করে চলে যান যাঁর যাঁর মতো করে। পারফরম্যান্সের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী করার জন্য যে বাড়তি কিছু করা জরুরি, সে তাগিদ অনুভব না করার অভিযোগ তাঁদের বিপক্ষে। একেবারে যে করেন না, তা নয়। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লে কাউকে কাউকে উদ্যোগী হতে দেখা যায়। তবে সেসব খাটাখাটনির তাৎপর্য বোঝা কঠিন। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল একটা কথার ওপর খুব জোর দেন সব সময়, ‘কোয়ান্টিটি না, আপনাকে নজর দিতে হবে কোয়ালিটির ওপর। যেটুকু সময়ই নেটে ব্যাটিং করুন, সর্বোচ্চ মনোযোগ যেন থাকে। প্র্যাকটিস করব নিজের সমস্যার জায়গাগুলো নিয়ে। আপনাকে সেটি চিহ্নিত করতে হবে কিংবা কোচের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। এখন আমি যদি কোনো কিছু না জেনে-বুঝে সারা দিন ব্যাটিং প্র্যাকটিস করি, কোনো লাভ নেই। এ জন্য আপনার নিজের একজন আস্থাভাজন কোচ থাকা জরুরি। দল থেকে বাদ পড়লে তো আর জাতীয় দলের কোচের সাহায্য পাবেন না। তখন আস্থা আছে এমন কোনো কোচের পরামর্শ নিলে সুফল মিলবে।’

সাকিব আল হাসানের বোঝাপড়ায় সমস্যা নেই। জাতীয় দলের বাইরে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নামের একজন আস্থার মানুষও আছেন। তাই ধরেই নেওয়া যায়, গতকাল ইনডোরে অর্থপূর্ণ অনুশীলনই করেছেন সাকিব।

মাহমুদ এই ছবিটাই ছড়িয়ে দিতে চান ড্রেসিংরুমে, ‘সাকিব কিংবা দলের সিনিয়ররা কিভাবে নিজেদের তৈরি করছে, এটা দলের বাকিদের জন্যও দারুণ অনুপ্রেরণার।’ কিন্তু কতজন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন; প্রশ্ন আছে!



সাতদিনের সেরা