kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

গ্রানাডা খেল ৪ গোল, শিরোপার সম্ভাবনা দেখছে রিয়াল মাদ্রিদ

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ মে, ২০২১ ০৮:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রানাডা খেল ৪ গোল, শিরোপার সম্ভাবনা দেখছে রিয়াল মাদ্রিদ

বার্সেলোনাকে তাদেরই মাঠে রুখে দিয়ে শিরোপা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া গ্রানাডা এবার আর কোনো চমক দেখাতে পারল না। পুরো ম্যাচে আধিপত্য ধরে রেখেই প্রত্যাশিত জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। এ জয়ে জিদানের শিষ্যদের লিগ শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল হলো।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে জিনেদিন জিদানের দল। লুকা মদ্রিচের গোলে রিয়াল এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রিগো। হোর্হে মোলিনা ব্যবধান কমানোর পর রিয়ালের হয়ে বাকি দুই গোল করেন আলভারো ওদ্রিওসোলা ও করিম বেনজেমা।

আগের দিন রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারানো অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ৩৬ ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। দুইয়ে ফেরা রিয়ালের পয়েন্ট ৭৮। গত মঙ্গলবার লেভান্তের মাঠে ড্র করা বার্সেলোনা ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে।

শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ধরে রাখার লড়াইয়ে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে রিয়াল। দুই উইংয়ে দুই ব্রাজিলিয়ানের নৈপুণ্যে শুরু থেকেই আক্রমণে প্রভাব বিস্তার করে তারা। তবে ভুল পাস আর শেষ মুহূর্তে খেই হারানোয় কিছুতেই গোল পাওয়া হয়ে উঠছিল না। চতুর্দশ মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম বল রাখে রিয়াল; তবে রদ্রিগোর ক্রসে বেনজেমার হেড কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

তিন মিনিট পর একরকম হঠাৎ করেই গোল পেয়ে যায় শিরোপাধারীরা। মদ্রিচের গোলটিতে দারুণ ভূমিকা মার্সেলোর জায়গায় লেফট-ব্যাকে সুযোগ পাওয়া মিগেল গুতিরেসের। প্রথমবার শুরুর একাদশে নামা এই তরুণ রক্ষণের মাথার ওপর দিয়ে অসাধারণ এক স্কুপ পাসে ডি-বক্সে খুঁজে নেন অভিজ্ঞ সতীর্থকে। আর দুরূহ কোণ থেকে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ক্রোয়েট মিডফিল্ডার।

২৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করেছিলেন আরেক তরুণ মার্ভিন পার্ক। তবে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। ৪৫তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পায়ে ছুটে ডি-বক্সে ঢুকে আরও একবার দুর্বল শটে হতাশ করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দারুণ ড্রিবলিং আর গতিতে প্রায় প্রতি ম্যাচেই আলো ছড়ান তিনি; কিন্তু স্কোরিংয়ে তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন বেড়েই চলেছে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় রিয়াল। মার্ভিনের বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রদ্রিগো।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা খেই হারায় রিয়াল। ৬৭তম মিনিটে গোল খেতে বসেছিল তারা। তবে সতীর্থের গোলমুখে বাড়ানো ক্রসে পা লাগাতে ব্যর্থ হন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেস। চার মিনিট পর ব্যবধান কমায় গ্রানাড়া। সুয়ারেসের জোরালো শট থিবো কোর্তোয়া ফেরালেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফাঁকায় বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোলটি করেন ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড হোর্হে মোলিনা।

নাটকীয়তার আভাস জাগলেও তা স্থায়ী হয়নি। খানিক বাদেই পরপর দুই মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচ প্রায় শেষ করে দেয় রিয়াল। মদ্রিচের উঁচু করে বাড়ানো বল এডেন আজার দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ধরে ডি-বক্সে খুঁজে নেন ওদ্রিওসোলাকে। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার।

রিয়ালের চতুর্থ গোলটি আসে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রুইস সিলভার ভুলে। আক্রমণ রুখতে ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে বেরিয়ে এসে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। তাকে কাটিয়ে বল ধরেই শট নেন বেনজেমা। জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের।



সাতদিনের সেরা