kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্বর্ণযুগের ক্রিকেট আর কখনোই ফিরবে না : অ্যামব্রোস

অনলাইন ডেস্ক   

১২ মে, ২০২১ ১০:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্বর্ণযুগের ক্রিকেট আর কখনোই ফিরবে না : অ্যামব্রোস

কিংবদন্তি ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার কার্টলি অ্যামব্রোস। ছবি: এএফপি

কিংবদন্তি ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার কার্টলি অ্যামব্রোস বর্তমান প্রজন্মের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে দেখে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না। তাঁর মতে, এখনকার ছেলেরা জানেই না ক্যারিবিয়ান জনগণের কাছে ক্রিকেটের কী বিশাল অর্থ। একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই স্বর্ণযুগের ক্রিকেট গৌরব হয়তো আর কখনোই ফিরে আসবে না।

স্পোর্টস লাইভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগের কথা স্মরণ করে এসব কথা বলেন কার্টলি অ্যামব্রোস।

অ্যামব্রোসের সোজাসাপ্টা মন্তব্য, এখন আমরা যে সব তরুণকে দেখছি দেশের হয়ে খেলছে, তারা জানেই না ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষের কাছে ক্রিকেটের জায়গা কোথায়। নিজেদের দেশে তো বটেই, বিদেশে বসবাসকারী ক্যারিবিয়ানদের কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। বলেছেন, দেশে এং বিদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষদের একসূত্রে গেঁথে রাখার মাধ্যম ক্রিকেট। আমি জানি না, বর্তমান প্রজন্ম কতটা সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।

ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম দুটি বিশ্বকাপ জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিরাশিতে ক্লাইভ লয়েডের বিশ্বজয়ী দলের জয়যাত্রা থামিয়ে দেয় কপিল দেবের ভারত। তার পরেও বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করেছেন ভিভ রিচার্ডস, ডেসমন্ড হেইন্স, রিচি রিচার্ডসন, ব্রায়ান লারা এবং তাঁদের ত্রাস সৃষ্টিকারী ফাস্ট বোলারেরা। কিন্তু সেই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের পরম্পরা এখন আর নেই। সেই ১৯৭৯-তে বিশ্বকাপ জয়ের পরে ২০১২ এবং ২০১৬-তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ আর জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অ্যামব্রোস বলছেন, আমি বর্তমান প্রজন্মের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছি না। এখনকার দলে দু-তিন জন আছে, যারা সত্যিই দক্ষ। সেরা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আমাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে। সেই স্বর্ণযুগের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আর আমরা কখনোই হয়তো আর দেখতে পাব না।

৯৮ টেস্টে ৪০৫ উইকেট নেওয়া সাবেক ফাস্ট বোলার গোপন করছেন না যে, এ মুহূর্তে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে যথেষ্ট যোগ্য প্রতিভা খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, আর একটা ভিভ রিচার্ডস, ডেসমন্ড হেইন্স, গর্ডন গ্রিনিজ, ব্রায়ান লারা, রিচি রিচার্ডসন পাওয়া যাবে না। অথবা নতুন কোনো ম্যালকম মার্শাল, কার্টলি অ্যামব্রোস, কোর্টনি ওয়ালশ, মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস পাওয়া কঠিন। অথবা একটা ক্লাইভ লয়েড। না পাওয়ার তালিকা বড় হতেই থাকবে। এরকম অনন্য প্রতিভাধর ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়া ভীষণ কঠিন।

যাঁর নিখুঁত পেস বোলিং ঘুম কেড়ে নিত বিশ্বের সব বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানের, সেই অ্যামব্রোস মনে করেন, আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে হয়তো উন্নতি করতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। কিন্তু আশি বা নব্বইয়ের দশকে যেভাবে বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করত, তা আর পারবে না। কিছুটা কষ্ট নিয়েই বললেন, আমরা যখন বিশ্বের সেরা দল ছিলাম, যেকোোও জায়গায় গিয়ে শাসন করে দেখিয়েছি। গর্ব করে বলতে পারতাম সবাই যে, আমরা কত ভালো দল। বিশ্বের সেরা দল। সেই গৌরবের অতীত ফিরিয়ে আনা খুবই কঠিন।



সাতদিনের সেরা