kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

টস ভাগ্যকেও দোষারোপ মমিনুলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৪ মে, ২০২১ ০২:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টস ভাগ্যকেও দোষারোপ মমিনুলের

শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচানোর আশা বাস্তবসম্মত ছিল না। তবে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে আরো ২৬০ রানের প্রয়োজনীয়তায় বাংলাদেশ কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেটিই ছিল দেখার। কিন্তু প্রাভীন জয়াবিক্রমা বাধার দেয়াল তৈরির কোনো সুযোগই দিলেন না। পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে পঞ্চম দিনের সকালে এই বাঁহাতি স্পিনার তুলে নিলেন আরো ৩ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৯২ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার পর আবারও ৮৬ রান খরচায় তুললেন ৫ শিকার। প্রথম শ্রীলঙ্কান বোলার হিসেবে অভিষেকে টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে জয়াবিক্রমাই দিনের প্রথম সেশনে ২২৭ রানে থামালেন বাংলাদেশকে। ৪৩৭ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়ায় নামা সফরকারীদের ২০৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ১-০তে সিরিজও জিতল লঙ্কানরা। ম্যাচে ১৭৮ রানে ১১ উইকেট নিয়ে জয়াবিক্রমাই অবধারিতভাবে ম্যাচের সেরা। প্রথম টেস্টে কৃতিত্বপূর্ণ ড্রয়ের পর এমন বাজে হারেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করল মমিনুল হকের দল।

করোনাভাইরাসের কারণে আসরের অনেক ম্যাচ বাতিল হওয়ার মধ্যেই যা কিছু খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে খুব একটা উন্নতি চোখে পড়েনি টেস্ট অধিনায়কেরও, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা যত ম্যাচ খেলেছি, আমাদের কোনো উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয় না। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এক বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছি। সেখানে ১০ দিনের মধ্যে কেবল দুই দিন আধিপত্য বিস্তার করতে পারিনি। আর সেই দুই দিনেই ম্যাচ হেরেছি।’ শ্রীলঙ্কা সফরের শুরুটা ভালো হলেও শেষটা হতাশারই, ‘প্রথম টেস্টে আমরা কিছুটা ভালো খেলেছি। দ্বিতীয় টেস্টে বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটসম্যানরা ধসে পড়েছে। পয়েন্টের হিসাবে আমরা ২০ পয়েন্ট হয়তো পেলাম, কিন্তু খুব ভালো প্রাপ্তি দেখি না।’

যদিও দুই টেস্টের এই সিরিজ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছু আবার খুঁজেও পাচ্ছেন মমিনুল। এর মধ্যে পেসার তাসকিন আহমেদের উন্নতির দিকটিও দেখালেন, ‘আপনারাও হয়তো এটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন যে কোনো পেসার কিছু করতে পারছে কি না। সেই হিসেবে তাসকিনকে দেখেছেন। আগের চেয়ে অনেক ভালো এখন, উন্নতি করেছে বেশ।’ প্রথম টেস্টে একটি দল হিসেবে খেলতে পারার কথাও উল্লেখ করতে ভুললেন না তিনি, ‘প্রথম টেস্টে আমরা দল হিসেবে খেলতে পেরেছি। আমরা তখনই ভালো খেলি, যখন আমরা দলগতভাবে খেলতে পারি। দলের সবাই যখন অবদান রাখে, তখনই আমরা দল হিসেবে ভালো করতে পারি।’

দ্বিতীয় টেস্টে কেন সেরকম খেলা গেল না, সে প্রশ্নও উঠছে। একাদশ সাজানো এবং রণকৌশল নির্ধারণে টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বাড়তি একজন স্পিনার না খেলানোর বিষয়টি অবশ্য ভুল ছিল বলে মানতেই রাজি হলেন না মমিনুল, ‘শুরুতে দেখে উইকেট আগের টেস্টের মতোই লেগেছিল। একজন বাড়তি স্পিনার খেলানোর কথা যদি বলেন, আমরা যদি আগে ব্যাটিং করতাম, চিত্রটা ভিন্নরকম হতো। ওরা হয়তো আমাদের জায়গায় থাকত আজকে। আমরা ওদের জায়গায় থাকতাম। এই সব উইকেটে স্পিনার খুব বেশি লাগে না। আমার তা-ই মনে জয়। আমাদের তো দুজন খুব ভালো মানের স্পিনারই আছে। আরেকজন স্পিনার আসলে দরকার হতো না। দুই স্পিনারই যথেষ্ট ছিল বলে মনে করি।’ হারার পর টস ভাগ্যকেও যেন দোষারোপ করতে চাইলেন মমিনুল। তাঁর মতে প্রথম দুই দিনেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল একরকম, ‘আমার মতে এই টেস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল টস। এটিই মনে হয় আমার। প্রথম দুই দিনে উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই ছিল না। ম্যাচের প্রায় ৫০ শতাংশই নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল টসের সময়।’ তবে নিজেদের দায়ও দেখছেন, ‘এই টেস্টে যদি আমরা চার বা পাঁচ সেশন ব্যাটিং করতে পারতাম, তাহলে ব্যাপারটি অন্য রকম হতে পারত। সেটি করতে পারিনি যখন, তখন দায় অবশ্যই আমাদের।’



সাতদিনের সেরা