kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

এবার প্রাণবন্ত উইকেটের আশায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার প্রাণবন্ত উইকেটের আশায়

টেস্টের চতুর্থ দিন তো কোনো উইকেটই পড়েনি। পাঁচ দিনে সব মিলিয়ে উইকেটে পড়েছে মোটে ১৭টি। সিরিজের প্রথম টেস্টের জন্য বেছে নেওয়া ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের উইকেটের প্রাণহীনতা বোঝাতে এটুকু তথ্যই যথেষ্ট। প্রাণহীন-নিরেট উইকেটে টেস্ট ড্র করা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির হলেও শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে ব্যাপারটি নিশ্চিতভাবেই তা নয়। তাদের কোচ ও অধিনায়ক পরের টেস্টের জন্য অন্য রকম উইকেটের চাহিদাপত্রও এরই মধ্যে দিয়ে ফেলেছেন। তাই বাংলাদেশ দলও ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টে ‘প্রাণবন্ত’ উইকেটের আশায়।

শ্রীলঙ্কার প্রচণ্ড গরমে পাঁচ দিন ধরে খেলার পাশাপাশি চরম শারীরিক সামর্থ্যের পরীক্ষাও দেওয়ার পর কাল ছিল মমিনুল হকদের পুরোপুরি বিশ্রামে পার করার দিন। যাঁরা ১৫ জনের মূল স্কোয়াডে ছিলেন না, তাঁরাও গত পাঁচটি দিন পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামসংলগ্ন নেটে ঘাম ঝরিয়েছেন। আয়েশে কাটানোর মতো একটি দিন তাই পেয়েছেন তাঁরাও। এই দিনেই শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো ভিডিও বার্তায় দলনেতা খালেদ মাহমুদ বলছিলেন পরের টেস্টে অন্য রকম উইকেট পাওয়ার প্রত্যাশার কথাই, ‘এই টেস্টের উইকেট একদম নিষ্প্রাণ ছিল। এই গরমের মধ্যে এমন উইকেটে ম্যাচের ফল হওয়াটা আসলে মুশকিলই। আমি মনে করি, এরপর আমাদের জন্য অন্য রকম কিছুই অপেক্ষা করছে। সেটি কী, তা এখনই বলার উপায় নেই উইকেট না দেখে। কাল (আজ) মাঠে গিয়ে উইকেট দেখে হয়তো বলতে পারব।’ প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার পর দিমুথ করুনারত্নের প্রতিক্রিয়া থেকেই এ রকম ধারণা হয়ে থাকার কথা মাহমুদের। কারণ দ্বিতীয় টেস্টের উইকেটে যাতে বোলারদের জন্য সহায়তা থাকে, সরাসরি তেমন দাবিই জানিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক। তিনি নিজে ডাবল সেঞ্চুরি করলেও যে বোলারদের মাথা কুটে মরতে দেখেছেন। বোলারদের সহায়ক উইকেটের চাহিদা দিতে শোনা গেছে শ্রীলঙ্কার কোচ মিকি আর্থারকেও।

স্বাগতিকদের চাহিদা অনুযায়ী উইকেটই এবার সরবরাহ করার কথা। সেটি কেমন হবে? আগাম কয়েকটি সম্ভাবনা অনুমান করে রাখলেন মাহমুদ। এই সাবেক অধিনায়কের ভাষায়, ‘সিমিং উইকেট হতে পারে। কতটা সিমিং হবে জানি না। কিংবা স্পিন সহায়ক উইকেটও হতে পারে। তবে অবশ্যই নিষ্প্রাণ উইকেটে ম্যাচ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা দলও খুব একটা পছন্দ করেনি এই উইকেট (প্রথম ম্যাচের)।’ বিসিবি পরিচালক মাহমুদ নিজেও খেলোয়াড়ি জীবনে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ছিলেন। কাজেই এমন উইকেটে পেসারদের ব্যথা-বেদনা না বোঝার কথা নয় তাঁর। তিনি নিজেও দুই দলের পেসারদের জন্য সহমর্মী হলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত বোলারদের জন্য, দুই দলের বোলারদের জন্যই। এই উইকেটে বোলারদের জন্য ম্যাচ জেতানো কঠিন। টেস্ট ম্যাচ ২০ উইকেটের খেলা। আমাদের বোলিং আক্রমণ থেকে ওদের ফাস্ট বোলিং বিভাগও অনেক অভিজ্ঞ ছিল। হয়তো আমরা স্পিনে বেশি অভিজ্ঞ ছিলাম। কিন্তু পেসে ওরাই। সেই ওরাই এখানে বেশি উইকেট নিতে পারেনি।’ তবে বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে থাকা বাংলাদেশ দল যেমন খেলেছে এই টেস্টে, তাতেও কম খুশি নন মাহমুদ, ‘আমি খুব খুশি। কারণ বাংলাদেশ দল খুব চাপের মধ্যে ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে ভালো করতে পারেনি। সেখান থেকে এখানে এসে আমরা কতটুকু ভালো করব, প্রশ্ন ছিল সেটি নিয়েও। কিন্তু ছেলেরা শুরু থেকে নিজেদের নিংড়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে গরমকে জয় করে যে মনোভাব ও প্রয়োগ ক্ষমতা দেখিয়েছে, তাতে আমি খুশি। অবশ্যই আমি এ কথাটিও বলব যে, এর চেয়েও আমাদের পক্ষে ভালো করা সম্ভব। সময় দিলে এই দলটিই অনেক দূর যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’



সাতদিনের সেরা