kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

স্বস্তি থেকে আত্মবিশ্বাস খুঁজছেন মমিনুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৬ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বস্তি থেকে আত্মবিশ্বাস খুঁজছেন মমিনুল

সাকিব আল হাসান থাকলে বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান খেলানোর স্বাধীনতা পায় বাংলাদেশ। এবার এই অলরাউন্ডার না থাকায় ছয় ব্যাটসম্যান আর পাঁচ বোলার নিয়ে নামার সাহস তারা দেখায় কি না, সেই সংশয়ও ছিল। কারণ এমনিতেও বেশির ভাগ সময়ই ব্যর্থতার আগাম ভয় থেকে একাদশে সাতজন ব্যাটসম্যান খেলিয়ে অভ্যস্ত দলটি ক্যান্ডি টেস্টে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। পাঁচজন পুরোদস্তুর বোলার নিয়ে খেলার সুফলও দেখতে পেয়েছেন মমিনুল হক। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ড্র করে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্টের খাতা খোলার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক গতকাল সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, একাদশের এমন বিন্যাস ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ববোধের জায়গাটি বাড়িয়েছে, ‘টেস্ট ক্রিকেট যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চান, মাঝেমধ্যে পাঁচ বোলার-ছয় ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলা উচিত। তাতে সবাই (ব্যাটসম্যানরা) একটু বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলে বলে আমার মনে হয়। আর ২০ উইকেট নিতে গেলে পাঁচ বোলার অবশ্যই দরকার।’

পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে কোনো দলের পক্ষেই প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার অবস্থা ছিল না। ব্যাটিং স্বর্গে বোলারদের প্রাণপাত করে মরার ম্যাচে ড্রকেই সবচেয়ে সন্তোষজনক ফল বলেও মনে হয়েছে মমিনুলের, ‘বোলারদের জন্য তেমন কিছুই ছিল না (উইকেটে)। আমার মনে হয়, এটি মেনে নেওয়াই ভালো। ড্র হওয়াটাই ভালো হয়েছে।’ দেশের বাইরে টানা ৯ টেস্টে হারার পর ম্যাচ বাঁচানোর স্বস্তি তো আছেই, অধিনায়ককে বলতে শোনা গেল দল হিসেবে খেলতে পারার তুষ্টির কথাও, ‘আমরা দেশ এবং দেশের বাইরে গত সিরিজে ভালো ফল করতে পারিনি। হোম সিরিজ হারার পর (ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্টে) বিদেশে ড্র করতে পারা ভালো একটি দিকই। দ্বিতীয় টেস্টে যা অবশ্যই সবার ভেতরে আত্মবিশ্বাস দেবে। দলগতভাবে খেলেছি আমরা। বাংলাদেশ যখনই দল হিসেবে খেলতে পারে, তখনই ভালো অবস্থায় থাকে।’

প্রতিকূল উইকেটেও তাসকিন আহমেদের নিজেকে উজাড় করা বোলিং দেখে যেমন ভীষণ মুগ্ধ মমিনুল, ‘আমি তাসকিনের বোলিং খুবই উপভোগ করেছি। ওর বোলিং দেখে মনেই হয়নি যে সে মাত্র ছয়টি টেস্ট খেলা খেলোয়াড়। গত এক-দেড় বছরে অনেক কষ্ট করেছে সে। আমার মনে হয়, এটি কষ্টেরই ফল। এই কন্ডিশনে এত লম্বা সময় বোলিং করাও কঠিন। আমি খুবই খুশি ওর পারফরম্যান্সে।’ দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটা অধিনায়ক হিসেবে করতে পারায়ও খুশি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘যখন থেকে বাংলাদেশ দলে খেলছি, তখন থেকেই আমি চেষ্টা করি দলের জন্য অবদান রাখতে। বিদেশে এসে ওভাবে হয়তো বড় অবদান রাখা হয়নি। এবার কিছুটা অবদান রাখতে পেরে খুশি। আর অধিনায়ক হিসেবে আমার সব সময় অবদান রাখাও জরুরি।’ এই টেস্টে অবশ্য প্রথম ইনিংসে দলের ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরে দেওয়ার কৃতিত্বের পুরোটাই তামিম ইকবালের জন্য বরাদ্দ রাখলেন তিনি, ‘ব্যাটিংয়ের কথা যদি বলেন, আমাদের সুর ধরে দিয়েছেন তামিম ভাই। ওনার ৯০ রানের ইনিংসটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর শান্ত (নাজমুল হোসেন) তো অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।’ দ্বিতীয় ইনিংসেও আগ্রাসী ব্যাটিং করা তামিমের সঙ্গে নিজের পার্থক্যটিও তুলে ধরেছেন মমিনুল, ‘ওনার খেলার ধরনই এ রকম। শট খেলতে পছন্দ করেন। আমার ১১টি সেঞ্চুরি। ওনার মতো খেলতে গেলে পাঁচটি হতো কি না সন্দেহ। একেকজনের খেলার ধরন ও পরিকল্পনা একেক রকম।’ তবে তামিম-শান্ত-মমিনুলই নন, রান করেছেন আরো কয়েকজনও। এ জন্যই ড্রয়ের পাশাপাশি দলীয় পারফরম্যান্সও খুশির কারণ মমিনুলের, ‘আমি সবচেয়ে বেশি খুশি যে দল হিসেবে সবাই ভালো করেছে। দলীয় পারফরম্যান্স ছিল। লিটন ও মুশফিক ভাই, সবারই।’



সাতদিনের সেরা