kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

ড্র-ই এখন স্বস্তি বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ড্র-ই এখন স্বস্তি বাংলাদেশের

উপমহাদেশে তিন পেস বোলার নিয়ে খেলে না বাংলাদেশ। সম্প্রতি ঘরের মাঠে এক পেসার, এমনকি পেসারহীন একাদশও নামিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু পাল্লেকেলের সবুজ ২২ গজ দেখে তিন পেসারে খেলছে মমিনুল হকের দল। তাতে সুফল মেলেনি। তবে এই অপ্রাপ্তির অনেকটা দায় পাল্লেকেলের উইকেটের। বরং তাসকিন আহমেদ এই মরা উইকেটেও পেসারদের লম্বা সময় বোলিং করে যাওয়াকে ভবিষ্যতের পাথেয়কে প্রাপ্তিই বলছেন।

‘সত্যি কথা বলতে টেস্টে এমন উইকেটে বোলিং করা কঠিন। ওদের (সুরঙ্গা) লাকমলও ৩৫ ওভার বোলিং করেছে। কিন্তু এ উইকেটে সুযোগ তৈরি হওয়ার অপশনটাই কম। এত রান করে ইনিংস ছেড়েছি...উইকেটে যদি বোলিংয়ের জন্য একটু সাহায্য থাকত, তাহলে ভালো হতো’, গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আক্ষেপ পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া তাসকিনের।

শ্রীলঙ্কার অসমাপ্ত প্রথম ইনিংসে এরই মধ্যে তিন পেসার মিলে ৫৫ ওভার বোলিং করেছেন, যা বাংলাদেশের স্পিনভারী দলের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনাই। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও পেসারদের এত বেশি সময় বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা হয় না উইকেটের চরিত্রের কারণে। তাসকিন আহমেদ নিজে ২৫ ওভার করেছেন গত দুই দিনে। শেষ কবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এত বেশি বোলিং করেছেন, সেটাও স্মৃতি হাতড়ে বের করতে হয়েছে তাঁকে, ‘এই মৌসুমে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছি। যত দূর মনে পড়ে, গড় বছর (মৌসুমে) লম্বা সময় বোলিং করেছিলাম।’

মরা উইকেটে ব্যাটসম্যানদের দাপট আবার প্রচণ্ড গরম মিলিয়ে পেসারদের নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সঙ্গে লম্বা সময় বোলিং না করার অনভ্যস্ততা তো আছে। শারীরিক তো বটেই, এমন পরিস্থিতিতে মানসিক ধকলটাও কম নয়। পাল্লেকেলের এ অভিজ্ঞতা থেকে শেখার কথা বলেছেন তাসকিন, ‘এমন কন্ডিশনে নিজেরও কিছু একটা করার থাকে। যেমন—নিয়মিত একটা জায়গায় বোলিং করে যাওয়া। ব্যাটসম্যানকে একটা পরিকল্পনায় বোলিং করা। এটা নিজের জন্য অনেক বড় শিক্ষার সুযোগ। এমন কন্ডিশনে যথেষ্ট স্কিল আর ফিটনেস না থাকলে ভালো করা যায় না। এমন কন্ডিশনে টিকে থাকার জন্য সব কিছুই লাগবে। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। আশা করি কাল (আজ) আরো ভালো দিন হবে।’

তাসকিনের কাল মানে আজ জয়ের ফন্দি আঁটছে শ্রীলঙ্কা। গতকাল সেটা প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন দলটির কোচ মিকি আর্থার, ‘আমরা অবশ্যই জেতার চিন্তা করছি। এভাবেই আমরা ক্রিকেট খেলি। ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতিটা এমন হওয়াই উচিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজেই ছেলেদের বলেছি যে আমরা এমন একটা দল হয়ে উঠতে চাই, যাদের হারানো কঠিন হবে। এভাবেই সর্বজয়ী দল হিসেবে গড়ে উঠব। আমাদের হারানো কঠিন। কাল সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, দেখি দিনটা কোথায় গড়ায়।’ বাংলাদেশ কী ভাবছে? তাসকিন দিয়েছেন সেই প্রশ্নের উত্তর, ‘এই টেস্ট ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু এটা যেহেতু ক্রিকেট, সেহেতু যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে।’ এক ঝটকায় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের করণীয়তে চলে যান তাসকিন, ‘দ্বিতীয় টেস্টেও এমন উইকেটে খেলা হলে আরো আঁটসাঁট বোলিং করতে হবে। রান আটকানোর জন্য আরো বেশি চেষ্টা করতে হবে। ব্যাটসম্যানদের দুর্বল জায়গায় বল ফেলতে হবে। এ ছাড়া তেমন কিছু করার নেই (এমন উইকেটে)।’



সাতদিনের সেরা