kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ডমিঙ্গোর গন্তব্য ৫২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০২:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডমিঙ্গোর গন্তব্য ৫২০

উইকেটে সবুজের আচ্ছাদন দেখে ঝলমলিয়ে ওঠা চোখ অন্ধকার হয়ে যেতেও বেশি সময় লাগেনি শ্রীলঙ্কানদের। ক্যান্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে নিজেদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির বিশাল ব্যবধান নিয়েই কথা বলতে শোনা গেল বিশ্ব ফার্নান্ডোকে। এই পেসার বলছিলেন, ‘যা ভেবেছিলাম, উইকেট থেকে এর বিন্দুমাত্র সহায়তাও আমরা পাইনি। এটা এখন ব্যাটিং উইকেটই। গতকাল (টেস্টের প্রথম দিন) আমরা উইকেট থেকে সহায়তা পাবো ভেবে বোলিং করেছি। উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টায় রানও দিয়েছি প্রচুর।’

আগের দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাই রণ কৌশলেও পরিবর্তন আনে লঙ্কান শিবির। ফার্নান্ডো বলতে বাকি রাখেননি সেটিও, ‘আজ আমাদের পরিকল্পনাই ছিল আটোসাঁটো বোলিংয়ে রান কম দিয়ে ওদের আটকে রাখা।’ কিন্তু লঙ্কানদের এই পরিকল্পনাও সুফল দেয়নি। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দেদার রান ওঠেনি কিন্তু দ্বিতীয় দিনের সকাল থেকে সেজন্য কোনো তাড়াহুড়োও করেননি মমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সময় নিয়েছেন, বাজে বলের ফায়দাও লুটেছেন। কিন্তু পেসারদের চড়ে বসার মঞ্চ বলে মনে হওয়া উইকেট যে শেষপর্যন্ত ব্যাটিং স্বর্গেই রূপ নিয়ে ফেলল, সেটি সফরকারীদেরও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখছে। কারণ তাঁরাও স্বাগতিকদের মতো একাদশে তিন পেসার রেখেছে। তাছাড়া ফল বের করার জন্য প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য নিয়েও তো প্রশ্ন তৈরি করে রেখেছে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা সবশেষ টেস্ট সিরিজ। ক্যান্ডি টেস্টের প্রথম দুই দিনে যেখানে উইকেট পড়েছে মোটে চারটি, সেখানে পরের তিন দিনে বাংলাদেশের বোলারদের প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘোরানো সম্ভবনা আসলে কতটুকু?

দ্বিতীয় দিনের শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তাঁর পেসারদের সুশৃঙ্খল বোলিংয়েই জোরটা দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি, ‘এটি সেই উইকেট নয়, যেখানে ৪০-৫০ ওভারেই প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেওয়া যাবে। আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে এবং চাপ বাড়াতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বোলিং করে যেতে হবে এবং সুযোগ আসলে কাজে লাগাতে হবে। এটাই আসল কথা। টেস্টে ২০ উইকেট নেওয়া সহজ নয়। তাই ছেলেদের নিশ্চিত করতে হবে যেন আগামী কয়েকটি দিন ওরা বোলিংয়ে খুব সুশৃঙ্খল থাকে।’ অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনে যে বিকল্প কৌশল অবলম্বন করেছিল লঙ্কান বোলিং আক্রমণ, সেটি অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছেন না ডমিঙ্গোও। আসন্ন কঠিন সময়টিও মেনে নিয়েছেন তিনি, ‘আমরা জানি, আগামী কয়েকটি দিন আমাদের সামনে কঠিন কাজই অপেক্ষা করছে। আমরা সেজন্য তৈরিও। ধৈর্য্য ধরতে হবে এবং ব্যাটিং সহায়ক পিচে উইকেট নেওয়ার পথ বের করতে হবে।’

তবে দলের পেস-সজ্জা বাড়িয়েও এই উইকেটে নিজের দুই স্পিনারেই যে বেশি ভরসা করছেন, এই প্রোটিয়া কোচের কথায় আছে সে আভাসও, ‘উইকেট খুবই ভালো মনে হচ্ছে। তবে এখানে ভীষণ গরম। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য অফ স্টাম্পের বাইরে ক্ষতও তৈরি হয়েছে। আশা করি, পেসাররা ওই ক্ষতটা কাজে লাগাতে পারবে।’ তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের লম্বা সময় ফিল্ডিংয়ের ক্লান্তিও কাজে লাগাতে চান ডমিঙ্গো, ‘প্রতিপক্ষের বড় স্কোরের পর ব্যাটিং করতে নামলে একটু ক্লান্তি থাকেই। চাপ থাকে স্কোর বোর্ডেরও।’ আরো বড় স্কোর গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাওয়া সফরকারী দলের স্পিন আক্রমণ নিঃসন্দেহে স্বাগতিকদের তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ। অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের দিকে তাই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। এর আগে দলের প্রথম ইনিংস একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে পৌঁছাক, সেই চাহিদাও আছে ডমিঙ্গোর, ‘কত রানে ইনিংস ঘোষণা করতে চাই, এটি ঠিক করতে আজ (গতকাল) রাতেই আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলবো। তবে কাল (আজ) সকালে আমাদের দ্রুত কিছু রান তোলা লাগবে। যদি ৫২০ রানের আশপাশে যেতে পারি, তাহলে লঙ্কানদের চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছি।’



সাতদিনের সেরা