kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

মালদ্বীপে বসুন্ধরা কিংসই ফেভারিট

অনলাইন ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৫২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মালদ্বীপে বসুন্ধরা কিংসই ফেভারিট

আগামী মাসের ১৪ তারিখ শুরু হচ্ছে বসুন্ধরা কিংসের আন্তর্জাতিক মিশন। এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপে চতুর্থ দল এখনো চূড়ান্ত না হলেও ভারতের মোহনবাগান ও মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টসের বিপক্ষে লড়াইয়ের খসড়া তৈরি করে ফেলেছেন অস্কার ব্রুজোন। লড়াইয়ে নামার আগে কিংসের এই স্প্যানিশ কোচ দলের প্রস্তুতি নিয়ে সবিস্তারে বলেছেন সনৎ বাবলাকে

প্রশ্ন : ঘরোয়া ফুটবলের সব ট্রফি জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। এখন আন্তর্জাতিক দল হয়ে ওঠার পালা, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলে পরাশক্তি হয়ে ওঠার মিশনে আসন্ন এএফসি কাপ হবে বড় পরীক্ষা। এটা কোচের জন্যও বড় পরীক্ষার মঞ্চ...

অস্কার ব্রুজোন : ঘরোয়া ফুটবলে সাফল্যের পর একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি আমরা। এটা কঠিন লড়াই তবে আমি অবশ্যই আশাবাদী। একটা ইতিবাচক লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিনের ট্রেনিংয়ে ফুটবলারদের ভালো করার চেষ্টা দেখছি, মূল একাদশে জায়গা করে নিতে তাদের মধ্যে তুমুল লড়াই দেখছি। এসবই আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করছে এবং ঘরোয়া সাফল্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে তারা প্রস্তুত। কোচ হিসেবে দলটাকে সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করব আমি।

প্রশ্ন : কঠিন প্রতিপক্ষ মোহনবাগান ও মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টসের খেলা নিয়ে নিশ্চয়ই বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন?

অস্কার ব্রুজোন : হ্যাঁ, প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করা কোচিং স্টাফের কাজ। সেটা হয়েছে এবং তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। দুটো দলেই তাদের দেশের সেরা খেলোয়াড়রা খেলছে এবং অবশ্যই ভালো বিদেশি যোগ করে নিজেদের শক্তিশালী করেছে। দুটো দলই আলাদা স্টাইলে খেলে। মাজিয়া খেলে উইং ধরে। তাদের তুলনায় মোহনবাগান গোছানো এবং শক্তিশালী। তাদের খেলায় গতি আছে এবং মাঝমাঠ থেকে সামনের ফরোয়ার্ড ত্রয়ীর সঙ্গে ভালো কম্বিনেশন কাছে। ফরোয়ার্ড লাইনে (মার্সেলিনহো, মানবির সিং, ডেভিড উইলিয়ামস ও কৃষ্ণ রায়) সামর্থ্য এবং বুদ্ধিমত্তা দুটোই আছে।

প্রশ্ন : কিংসের এই দলটি দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ। এটা কি প্রথম মৌসুমের (২০০১৮-১৯) দলের চেয়ে শক্তিশালী?

অস্কার ব্রুজোন : প্রতি মৌসুমের আগে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট ভালো দল তৈরির চেষ্টা করে। ভালো-মন্দের বিচারে যাব না, তবে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর সব সময় আমাদের বিশ্বাস আছে। তারই ফল হলো এই মৌসুমে ম্যাচের পর ম্যাচ ভালো পারফরম করে এগিয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস।

প্রশ্ন : এই অগ্রযাত্রায় বিদেশিদের ভূমিকাই বেশি দেখা যায়...

অস্কার ব্রুজোন : দলের অগ্রযাত্রায় বিদেশি ফুটবলারদের বিশেষ ভূমিকার কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। নিজেদের পজিশনে তারা সেরা পারফরম করেই পার্থক্য গড়ে দেয়। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে স্থানীয় ফুটবলারদের সম্পর্কটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ফুটবল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হচ্ছে স্থানীয়রা। একসঙ্গে দীর্ঘদিন ট্রেনিং ও খেলার সুবাদে গড়ে ওঠা দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ায় দলের খেলায় উন্নতি হয়েছে, বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। এটাই বসুন্ধরা কিংসের জয়ের আসল রসায়ন।

প্রশ্ন : ভালো খেলার মাঠ নিয়ে আপনি সব সময় আক্ষেপ করেন। মালদ্বীপে মাঠে নিশ্চয়ই এই সমস্যা থাকবে না?

অস্কার ব্রুজোন : ভালো মাঠ সব সময় ভালো খেলোয়াড়দের সাহায্য করে, তাতে খেলাটা সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মাঠ খারাপ হলে ফুটবলারদের পায়ে সেই ছন্দ দেখা যাবে না, সৃষ্টিশীলতা কমে যাবে। মোট কথা, সৌন্দর্যহানি হয় ফুটবলের। মাঠের কারণে এ দেশে খুব কম দলই পজিশনাল ফুটবল খেলে। তারা বিল্ড-আপ ফুটবলের বদলে ডিরেক্ট ফুটবল এবং লং বলে খেলে। এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আমাদেরও খেলতে হয়েছে। তবে ভালো মাঠে আমাদের ফুটবলটাও চমৎকার ফোটে। তাই প্রথম মৌসুমে নীলফামারীতে আমরা দারুণ ফুটবল খেলেছিলাম এবং এবার কুমিল্লার মাঠে নিজেদের স্টাইলে খেলতে পারি। আমি আশা করব, একদিন আধুনিক ফুটবলের সব সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ভেন্যু হয়ে উঠবে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামটি (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)। মালদ্বীপে লিগের সব ম্যাচই হয় মালদ্বীপ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। দিনে একটির বেশি ম্যাচ হয় না ওই মাঠে এবং তারা খুব ভালোভাবে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ করে। এ রকম মাঠই আমরা চাই যেন বসুন্ধরা কিংস তার সামর্থ্যের সেরাটা দেখাতে পারে।

প্রশ্ন : করোনা মহামারির কারণে এই এএফসি কাপে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বলে কিছু থাকছে না। খেলা হবে মালদ্বীপের এক ভেন্যুতে। ওদের মাঠ থেকে জিতে ফেরা কঠিন। তবে ক্লাব কোচিংয়ের সুবাদে মালদ্বীপ ফুটবল সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে। তাই কিংসের জন্য এই মিশন কতটা কঠিন হতে পারে?

অস্কার ব্রুজোন : সহজ-কঠিন লড়াই বুঝি না, ভালো খেলেই জিততে হবে আমাদের। এ দেশে ফুটবলের জন্য সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করে বসুন্ধরা কিংস। তারা শুধু সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে সেরা দল গড়েনি, আনুষঙ্গিক সব আয়োজন-প্রয়োজনেও সর্বোচ্চটা দেওয়া নিশ্চিত করে। যেমন—ভালো সুযোগ-সুবিধা, উন্নত ট্রেনিং সরঞ্জাম, সেরা কোচিং স্টাফের সম্মিলনেই মিলছে সেরা ফল। এসব বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি, বসুন্ধরা কিংস ফেভারিট হয়েই এএফসি কাপ খেলতে যাচ্ছে।



সাতদিনের সেরা