kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

যা আছে তাই নিয়ে মমিনুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যা আছে তাই নিয়ে মমিনুল

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রিকেটের মতো আর কোনো দলের অধিনায়কত্ব করা এত কঠিন নয়। শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর কুশলী দল পরিচালনা নয়—ক্রিকেট অধিনায়ককে মিডিয়াকেও সামলাতে হয় দক্ষ হাতে। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু থেকে মিডিয়ার সহানুভূতি পেয়ে অভ্যস্ত মমিনুল হকের জন্যও কোনো ছাড় নেই। গতকাল যেমন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আইপিএল খেলতে যাওয়া সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতির অভাব নিয়ে তাঁর একটি বক্তব্য বাংলাদেশ দলের আজ শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার চেয়েও বেশি আলোচিত। আর সে আলোচনার শিকার মমিনুল স্বয়ং।

প্রত্যাশিতভাবে প্রথম প্রশ্নটাই বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ককে করা হয় সাকিব ও মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে দলের শক্তি খর্ব হওয়া নিয়ে। মমিনুল সপাটে জানিয়ে দেন, ‘না। আমার কাছে মনে হয় না সাকিব ভাই বা মুস্তাফিজ না থাকলে দলের ফলাফল হবে না। দেখেন খেলোয়াড় তো আরো আছে। ওনাদের তো ১০-১২টা হাত না। বাকিদেরও ১০-১২টা হাত না। আমার কাছে মনে হয় না এর কোনো প্রভাব পড়ে। আমরা হয়তো দলগতভাবে খেলতে পারছি না। এই কারণে ইতিবাচক ফল হচ্ছে না।’

তাঁর বলা এই ‘১০-১২টা হাত’ গতকাল দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম। ভক্তকুল যেন ধরেই নিয়েছে এভাবে বলে পরোক্ষে তারকাদের অবমূল্যায়ন করেছেন মমিনুল। এসব দেখে সন্ধ্যায় একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের ফোন, ‘মমিনুল কী বললে আপনারা খুশি হতেন? ওর কি বলা উচিত ছিল যে ওই দুজনের অভাব পূরণ হওয়ার নয়? সেটা বলা মানে তো ওই দুজনের জায়গায় যাদের কথা ভাবা হবে, তারা হীনম্মন্যতায় ভুগবে। বলতে পারেন, আর কোন দেশে নিয়মিত দলের এক-দুজনকে নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়? যে থাকবে না, তার পরিবর্তে আরেকজন খেলবে। সব দেশে তো তেমনটাই হয়।’

তেমনটাই হয়। চোট কিংবা ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত বড় তারকাকে ছাড়া মাঠে নামে অন্য দল, ভালোও করে। এমন হাহাকার করে না। মমিনুলও যে বা যাঁরা নেই, তাঁদের নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন, ‘এই যেমন বললেন সাকিব ভাই নেই। এমনও হতে পারে কোনো সিরিজে দুই-তিনজন সিনিয়র ক্রিকেটার নাও থাকতে পারে। উনাদের জায়গায় যারা খেলবে তাদের জন্য আমি বারবার কথাটা বলে আসছি যে এটা তাদের জন্য ভালো একটা সুযোগ। আমার মনে হয় এভাবে তৈরি হওয়াই উত্তম।’

নিউজিল্যান্ডে সাদা বলের সিরিজ ভালো যায়নি। তার আগে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারের দগদগে ঘা এখনো শুকায়নি। শ্রীলঙ্কায় দুই টেস্টের সিরিজের চ্যালেঞ্জটাও তাই বেশি। মমিনুল মানছেন, তবে নিজেদের বাতিলের খাতায় ফেলে দেননি, ‘প্রতিটি সেশন যদি আমরা জিততে পারি, ভালো খেলতে পারি, তাহলে ফলাফল আমাদের দিকে আসবে। যদি খারাপ করি, ফলাফলও আমাদের বিপক্ষে যাবে। তাই আগে থেকে বলা কঠিন কী হবে। আমার কাছে মনে হয় আমরা যদি ভালো প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে পারি, তাহলে ড্র হতে পারে, আবার ম্যাচ জিততেও পারি।’

কিন্তু প্রস্তুতি তো আর ষোলো আনা হয়নি। করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় লিগে বিরতি দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডের পর। তা ছাড়া টেস্ট দলের অনেকে নিউজিল্যান্ডে ব্যস্ত ছিলেন সাদা বলে। তাই প্রস্তুতি নিয়ে খুব উচ্চকিত নন মমিনুল, ‘গত এক-দেড় বছরের পরিস্থিতি কী, আপনারাও ভালো জানেন। করোনাকালে আপনি হয়তো খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে পারবেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব, সেটুকু আমরা পারছি। টেস্ট বিশেষজ্ঞ যারা, তারা দুইটা চার দিনের ম্যাচ খেলেছে। বাকিরা (নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা) প্রতিনিয়ত খেলার মধ্যে থাকায় ওদের প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে।’ তবু বাস্তবেই পা রাখছেন টেস্ট অধিনায়ক, ‘পাল্লেকেলেতে যখন প্রথম স্টেডিয়াম হয়, ২০০৮-০৯ সালে, তখন মনে হয় খেলেছিলাম। ভালো মনে নেই। এখন শুনছি যে একটু বাউন্স আছে। শ্রীলঙ্কায় সব সময় স্পোর্টিং উইকেট হয়। আমার মনে হয় খুব ভালো ক্রিকেট হবে।’



সাতদিনের সেরা