kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

কিছু উন্নতির পরও সেই হার

নিউজিল্যান্ড : ১৭.৫ ওভারে ১৭৩/৫, বাংলাদেশ : ১৬ ওভারে ১৪২/৭, ফল : বৃষ্টি আইনে নিউজিল্যান্ড ২৮ রানে জয়ী

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

৩১ মার্চ, ২০২১ ০৩:০৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কিছু উন্নতির পরও সেই হার

একুশ শতকের শুরুর দিকে শাহীন মালিক নামের এক পাকিস্তানি এসেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান তিনি। অফস্পিন করে এক মৌসুমে সর্বাধিক উইকেটের মালিকও হয়েছিলেন! গতকাল নেপিয়ারে গ্লেন ফিলিপসের উইকেট পাওয়া দেখে বহু পুরনো ঘটনাটি মনে পড়ে গেল, এ কিউই তো মূলত উইকেটরক্ষকই। গতকাল জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট পেয়েছেন, জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। বলাবাহুল্য, এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজও জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাকলিন পার্কে আরো বড় অদ্ভুতুড়ে ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি আইনে ১৬ ওভারে ১৪৮ রানের আপাত সহজ টার্গেট নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু ১.৩ ওভার পর খেলা থামিয়ে দেন দুই আম্পায়ার। কমেন্ট্রি বক্সেও বিস্ময়! টিভির পর্দায় ভেসে ওঠে ম্যাচ রেফারির কক্ষ। বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বেরিয়ে গেলেও থেকে যান টিম অপারেশনস ম্যানেজার সাব্বির খান। তাঁর সামনে সাদা কাগজে অঙ্ক কষায় ব্যস্ত ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো। অভাবিত এ বিরতির পর জানা গেল লক্ষ্য ১৪৮ নয়, জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৭০ রান।

১৬ ওভারে যা বাংলাদেশের জন্য দুর্লঙ্ঘ্য এভারেস্ট। সৌম্য সরকার অবশ্য পাল্লা দিচ্ছিলেন। ২৭ বলে ৫১ মানে ১৮৮.৮৯ স্ট্রাইকরেটে তিনিই যা একটু চিন্তায় ফেলেছিলেন এ ম্যাচে ফেরা টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক টিম সাউদিকে। ৭৬ বলে ১৭০ রান তুলতে এমন স্ট্রাইকরেটের আরো দু-একজনের বড় ইনিংস খেলা জরুরি। অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর ১৭৫ স্ট্রাইকরেটের ইনিংস ২১ রানেই থেমে যাওয়ায় মাঝপথেই আরেকটি হারের পথে ধাবিত হয় বাংলাদেশ দল। ওপেনার নাঈম শেখ ৩৮ রান করেছেন বটে, তবে এর জন্য ৩৫ বল খরচ করে উল্টো তিনি চাপে ফেলেছেন পরের ব্যাটসম্যানদের। আর নাঈমের উদ্বোধনী সঙ্গী লিটন দাস যেন ঠিকই করে ফেলেছেন যে এই সফরে তিনি রান করবেন না! ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলে খেলা পাঁচ ম্যাচে ১৯, ০, ২১, ৪ এবং গতকাল লিটন আউট হয়েছেন ৬ রান করে।

তাতে ১৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪২ রান করে থেমেছে বাংলাদেশ। খুব খারাপ কি? বৃষ্টি আইনের অঙ্কে ভুল করা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করা ডমিঙ্গোর কিন্তু সেরকম মনে হচ্ছে না, ‘ম্যাচ রেফারির ভুলকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর সুযোগ নেই। যদিও এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটতে দেখিনি। তবে আমরা আগের ম্যাচটির তুলনায় কিছু উন্নতি করেছি।’

এসব সফরে যা হয়, টানা হারতে থাকা দলকে চাঙ্গা করতেই কি না প্রতিপক্ষ দেশের সাংবাদিকরা মোলায়েম প্রশ্ন করেন। নিউজিল্যান্ডের এক সাংবাদিক যেমন বাংলাদেশ কোচের পাতে একটা অজুহাত তুলে দিলেন, ‘বারবার বৃষ্টির কারণে আউটফিল্ড পিচ্ছিল ছিল। এটা নিশ্চয় ভুগিয়েছে আপনার দলকে?’ এগিয়ে আসার সুবিধাটা নিয়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো, ‘আপনি ভুল বলেননি। এমন আউটফিল্ডে ফিল্ডিং করা কঠিন। আর আমি আইনটা ঠিক জানি না, বৃষ্টি থামার পরপরই কি খেলা শুরু করা যায়? কি জানি, হয়তো নিয়ম বদলেছে।’

টস জিতে বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে নামান পর দুইবার বৃষ্টির কারণে ম্যাচ থামাতে হয়েছে আম্পায়ারদের। আর সমুদ্রপারের ম্যাকলিন পার্কে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নিয়মিত ব্যাপার। এর মধ্য দিয়েই খেলা চলে। বেগ বাড়লেই শুধু খেলা থামে। তবে এটা ঠিক যে, বাংলাদেশ অভ্যস্ত নয় এমন পিচ্ছিল মাঠে ফিল্ডিং করে। এর পরও অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে গতকালের ফিল্ডিংয়ে কিছুটা সদিচ্ছা দেখা গেছে। যদিও শুরুতেই একটি উঁচু ক্যাচ ফেলেন মাহমুদ উল্লাহ। আবার একই ওভারে, একই ব্যাটসম্যান ফিন অ্যালানের দেওয়া উঁচু ক্যাচ ঠিকই তালুবন্দি করেন নাঈম।

বোলারটির নাম তাসকিন আহমেদ, এ সফরে যাঁর বোলিং ফিগার দেখে বোঝার উপায় নেই কতটা ভালো বোলিং তিনি করেছেন। প্রথম পরিবর্ত বোলার হিসেবে আসা এ ফাস্ট বোলারের প্রতিটি ওভারই ঘটনাবহুল। ব্যাটসম্যান বনাম বোলারের দুর্ধর্ষ লড়াইয়ে কিউইরাই শেষমেশ জিতেছে, তবে তাসকিনের গতি আর ছন্দে ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সুখবরই। আর শর্ট ফাইন লেগে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে নেওয়া অবিশ্বাস্য ক্যাচটি যদি ফিল্ডিংয়েও অনুপ্রাণিত করে তাসকিনকে।

সাইফউদ্দিনের বাউন্ডারি লেখা বলটা তাসকিনের বাঁ হাতে জমা হতে দেখে বিস্মিত দেখিয়েছে মার্টিন গাপটিলকেও। অপর প্রান্তে গতি বৈচিত্র্য আর বাউন্সে কিউই ব্যাটসম্যানদের চমকে দেওয়া শরিফুল ইসলাম তুলে নেন ডেভন কনওয়েকে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ৫৫ রান গুনলেও ৩ উইকেট তুলে নেওয়ার স্বস্তি ছিল বাংলাদেশের। উইল ইয়াংয়ের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে তো ‘অ্যাডভান্টেজ বাংলাদেশ’ বানিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান।

কিন্তু কুড়ি ওভারের ক্রিকেট বৃষ্টিস্নাত নেপিয়ারের মাঠের চেয়েও যে পিচ্ছিল! আউটফিল্ডে ভেজা বল ধরতে হিমশিম খেয়েছেন বাংলাদেশি ফিল্ডাররা। রান আউটের সুযোগও মিস হয়েছে। ওদিকে আবার বিরতিহীন হার্ড হিটিংয়ের প্রদর্শনী করে গেছেন স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে ফিলিপস ও ড্যারল মিচেলের অসমাপ্ত ৬২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি আরেকবার বৃষ্টি নামার আগেই কার্যত ধুয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের সিরিজে ফেরার সম্ভাবনা। মাত্র ২৫ বলের জুটি বলে দেয় কতটা মারমুখী ছিলেন তাঁরা।

বাংলাদেশ দলের শুধু একজনই গতকাল পাল্লা দিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে—সৌম্য সরকার। কিন্তু তাঁর পাশে ড্যারল মিচেল, কনওয়ে কিংবা ফিনকে দেখা যায়নি। পার্থক্যটা অবশ্য পুরনো—এই ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ড আরো দুর্দান্ত। ব্যবধান কমানোর আশাই শুধু করতে পারেন মাহমুদ উল্লাহরা। টি-টোয়েন্টিতে ২৮ রানের ব্যবধান কম নয়, তবু ৬৬ রানে হারা প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো অসহায় আত্মসমর্পণ তো আর মনে হয়নি!



সাতদিনের সেরা