kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

আজ ট্রফি জেতার ম্যাচ

দুই দলই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ মার্চ, ২০২১ ০২:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই দলই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর

ফাইনালের সংবাদ সম্মেলন শেষে দুই অধিনায়ক মাঝখানে ট্রফি রেখে ছবি তুললেন। একটু আগে দুজনই বলে এসেছেন, এই ট্রফিটা তাঁর চাই। জামাল ভূঁইয়ার একটাই কথা, ‘ট্রফিটা আমি দেশে নিয়ে যেতে চাই। আশা করি, কাল আমরাই ভালো খেলব এবং জিতব। আর দল হিসেবেও নেপালের চেয়ে এগিয়ে আমরা।’

নেপাল অধিনায়ক কিরন কুমার লিম্বু, আই লিগে রাউন্ডগ্লাস পাঞ্জাবের হয়ে খেলে এই মৌসুমেই সেরা গোলরক্ষকের মুকুট জিতেছেন। নেপালের অন্যতম অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়ও গত দুই ম্যাচে দলের গোল করতে না পারা নিয়ে মোটেও ভাবছেন না। ফাইনালে সব হবে তাঁরও বিশ্বাস, ‘গত দুই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে খুবই খুশি আমি। হ্যাঁ এটা ঠিক, গোল হয়নি। তবে খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে আমার। ফাইনালে নিশ্চয় আমরা গোল পাব, ট্রফিটা নিজেদের দেশে রেখে দিতে পারব।’ স্বাগতিক দলের কোচ বালগোপাল মহার্জনও নিজেদের ফেভারিট ধরছেন, ‘বাংলাদেশ-নেপাল পার্থক্য নেই খুব বেশি। দুই দলেরই স্কোরিংয়ে সমস্যা দেখা গেছে এই ম্যাচে। তবে ঘরের মাঠের ফাইনাল। স্বাগতিক দর্শকরা অবশ্যই আমাদের শক্তি হবে। সেদিক থেকে অন্তত আমি আমাদের সুযোগটাই বেশি দেখছি।’

নেপাল কোচের এগিয়ে থাকার তত্ত্ব সমর্থন করলেও হতোদ্যম নন বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে, ‘এই ম্যাচটা যদি বাংলাদেশে হতো আমিও আমাদেরকেই এগিয়ে রাখতাম। এখানে অন্তত সমান সুযোগ থাকবে দুই দলের।’ দশরথ স্টেডিয়ামের দর্শকদের চাপ সামলে পারফরম করতে হবে জামাল ভূঁইয়াদের। সেটা কিভাবে সম্ভব? জেমির একটাই উত্তর, ‘উপভোগ করতে হবে।’ জামালও সেই দৃষ্টিভঙ্গিই ধারণ করেন, ‘উপভোগের জন্য ফাইনালের চেয়ে বড় মঞ্চ আর হয় না।’ ডেনমার্কপ্রবাসী বাংলাদেশি মিডফিল্ডার এর আগে ভারতের মাটিতে ভারতকে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। সল্টলেক স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার দর্শককে সে ম্যাচে ওই হুঙ্কার যে ফাঁকা বুলি নয়, বুঝিয়েছিল বাংলাদেশ। তা হলে আজ কেন নয়? জামাল এই নেপাল থেকে শেষবার ফিরেছিলেন ভগ্ন হৃদয়ে। সেবার দক্ষিণ এশীয় গেমসের আসরে কোনো কিছুই প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি বাংলাদেশের। জামাল নিজে মেজাজ হারিয়ে দেখেছিলেন লাল কার্ড। কাল সেই কথা মনে করিয়ে দিতেই ট্রফি নিয়ে ফেরার হুঙ্কার, ‘আমার একটাই চাওয়া—এখান থেকে ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরব।’

টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত দুই দলের যে পারফরম্যান্স তাতে করে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না নির্দিষ্ট কোনো দলকে। দুই দলই রক্ষণকাজে, সংগঠনে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, যা দেখা যায়নি তা হলো ব্যক্তিগত ঝলক আর অসাধারণ কোনো মুহূর্ত। নেপাল ম্যাচে ১২তম মিনিট থেকে পরের কয়েক মিনিট ওয়ান টাচ ফুটবলের অনুপম প্রদর্শনীতে স্বাগতিক দর্শকদেরও মোহিত করেছিল বাংলাদেশ দল। তেমন কিছু মুহূর্ত ম্যাচে কয়েকবার এলে একবার গোল হয়ে যেতেই পারে, কারণ তখন প্রতিপক্ষকে মনে হয় দিশাহারা, তারা পজিশন হারায়। ফাইনালে কী হয় সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। উইঙ্গার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলছিলেন, ‘সামর্থ্যে দুই দলই যেখানে সমান সেখানে যারা বেশি পরিশ্রম করবে তাদেরই সুযোগ থাকবে।’

এক দিক থেকে বাংলাদেশ আবার নিজেদের কিছুটা এগিয়ে রাখছে, কারণ নেপালকে পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। ফাইনালে এটি তাদের কিছুটা হলেও ভোগাবে—এমন মত জেমিরও। দুই ম্যাচ দেখে আজ তাঁর সেরা একাদশটাই খেলানোর কথা। গোলপোস্টের নিচে আনিসুর রহমান ফেভারিট থাকবেন টাইব্রেকারের সম্ভাবনায়। দুই সেন্টার ব্যাকে অভিজ্ঞতা প্রাধান্য দিলে আসবে রিয়াদুল হাসান ও টুটুল হোসেন। রাইট ব্যাকে রিমন অথবা ইমন, সে ক্ষেত্রে বাঁ দিকে খেলবেন ইয়াসিন আরাফাত। জামাল শুরুর একাদশে থাকবেন— জেমিই নিশ্চিত করেছেন সেটি। মাঝমাঠে তাঁর সঙ্গে মাশুক মিয়া দাবি রাখেন। ডান প্রান্তে সাদ উদ্দিন ফেভারিট, বাঁ প্রান্তে রাকিব অথবা বিপলু, মাঝখানে মতিন মিয়া, সুমন রেজা ও মাহবুবুর রহমানের মধ্যে দুজনকে কোচ বেছে নেবেন।

এক দিন আগেই ম্যাচ খেলায় গতকাল কোনো দলই অনুশীলন করেনি। বাংলাদেশ দল সকালে সাঁতার এবং বিকেলে জিমে ঘাম ঝরিয়েছে। কোচের মনে নিশ্চিতভাবেই একাদশটা আছে, তবে ফাইনালের দিন সকালে সেটি চূড়ান্ত করবেন বলে জানিয়েছেন। আর প্রথম একাদশ নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতেও রাজি নন তিনি, কারণ ম্যাচে পাঁচটি সাবস্টিটিউটও তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।



সাতদিনের সেরা